পূর্ববর্তী সংবাদ
বরকতময় রমজানে নারীর সিয়াম সাধনা ও কর্মব্যস্ত্মতারমজানে সিয়াম সাধনা বা রোজা রাখার বিষয়টিও তদ্রূপ নারী পুরম্নষের জন্য সমান বিধান। অন্যান্য ইবাদতের ক্ষেত্রেও নারী-পুরম্নষের সমান গুরম্নত্ব এবং মর্যাদা পরিলক্ষিত হয়। এ বিষয়টি আমাদের গুরম্নত্বের সঙ্গে লক্ষ্য রাখতে হবে। বিশেষ করে মাহে রমজানে একটি অতীব গুরম্নত্বপূর্ণ অনুষঙ্গ হলো বিশ রাকাত তারাবির নামাজ...মুহাম্মদ কামাল হোসেন মাহে রমজান-বরকতময় ও সিয়াম সাধনার এক পবিত্রতম মাস। গুরম্নত্ব ও তাৎপর্য বিবেচনায় রমজান আরবি মাসগুলোর মধ্যেও সর্বশ্রেষ্ঠ। কারণ এই বরকতময় মাসেই বিশ্ব মানবতার কল্যাণে নাজিল হয়েছে মহাগ্রন্থ পবিত্র আল-কোরআন। তাছাড়া মহান আলস্নাহ সুবহানাহু তায়ালা রহমত আর বরকতের অমীয় দ্বারগুলো এ পবিত্র মাসে খুলে দেয় তার নেকমান্দ নারী-পুরম্নষের জন্য। যাতে তারা দুনিয়া ও আখেরাতের জীবনে সমানভাবে কামিয়াবি ও সফলকাম হতে পারে।
মহান আলস্নাহ অত্যন্ত্ম যৌক্তিকভাবে নারী-পুরম্নষের ওপর ইসলামের বিধিবিধানগুলো সুন্দর ও সুচারম্নভাবে আরোপ করেছেন। মহান আলস্নাহ অত্যন্ত্ম দ্ব্যর্থহীন ও স্পষ্টভাবে পবিত্র কোরআনে ইরশাদ করেছেন- 'বিশ্বাসী হয়ে নারী পুরম্নষের মধ্যে যে কেউ সৎকর্ম করবে, তাকে আমি নিশ্চয়ই আনন্দপূর্ণ জীবন দান করব। আর তাদের কর্মের শ্রেষ্ঠ পুরস্কার তাদেরকে দান করব। (সুরা নাহল, আয়াত ৯৭)।
রমজানে সিয়াম সাধনা বা রোজা রাখার বিষয়টিও তদ্রূপ নারী পুরম্নষের জন্য সমান বিধান। অন্যান্য ইবাদতের ক্ষেত্রেও নারী-পুরম্নষের সমান গুরম্নত্ব এবং মর্যাদা পরিলক্ষিত হয়। এ বিষয়টি আমাদের গুরম্নত্বের সঙ্গে লক্ষ্য রাখতে হবে। বিশেষ করে মাহে রমজানে একটি অতীব গুরম্নত্বপূর্ণ অনুষঙ্গ হলো বিশ রাকাত তারাবির নামাজ। যেটা প্রতিটি কর্মব্যস্ত্মময় নারীর জন্য একটা চ্যালেঞ্জ। দৈনন্দিনকার পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের সঙ্গে বাড়তি তারাবির নামাজ আদায় করা প্রত্যেক নারীর জন্য কষ্টসাধ্যই বৈকি। রমজানজুড়ে ইফতার তৈরি, সেহরির আয়োজন, সাংসারিক ফুটফরমায়েশসহ সবকিছু মিলিয়ে গৃহিণী ও কর্মজীবী নারীদের কাজের চাপ বেড়ে যায় অনেকখানি। বছরের অন্য যে কোনো সময়ের তুলনায় রমজানে নারীর কর্মযজ্ঞের বহরটা অনেকাংশে লম্বা ও বেশি। সারাবছরের কাজের ধরন বা রম্নটিন ওয়ার্ক রমজান মাসে এসে রাতারাতি পাল্টে যায়। তাদেরকে অনেক জটিল ও কঠিন কাজগুলো অনায়াসে করে যেতে হয়।
সংসারে বড়রা কী খাবে-না খাবে কিংবা ছোটদের পছন্দ-অপছন্দ ইত্যাদি সূক্ষ্ণ বিষয়গুলোও নারীদের সতর্কতার সঙ্গে দেখভাল করতে হয়। প্রায় প্রতিটি সংসারে নারীরাই উৎসব-পার্বণের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকে। তাই সংগত কারণেই প্রতিটি উৎসব ও আনন্দকে ঘিরে নারীরা অত্যন্ত্ম ব্যস্ত্ম সময় কাপ্রণ। অথচ সারাদিন রোজা থেকে নারীদের এ বাড়তি কাজগুলো মাসজুড়ে হাসিমুখে করে যেতে হয়। যদিও সারাদিন রোজা রাখার পর সন্ধ্যার সময় কিংবা ভোরের সেহেরির সময় মজার মজার সু-স্বাদু হরেক পদের খাবার খেতে কতই না ভালো লাগে। কিন্তু আমাদের সামনে এসব মজার মজার মনোলোভা শৈল্পিত সৌন্দর্যের দৃষ্টিনন্দন জিভে জল আসা খাবারগুলো জনে জনের পাতে তুলে দিতে নারীদের ব্যস্ত্মতা বা খাঁটুনি বেড়ে যায় কয়েকগুণ।
একটি গবেষণার তথ্য মতে, বাংলাদেশে কর্মজীবী নারীর সংখ্যা ৩৩%, যা কর্মজীবী পুরম্নষের তুলনায় প্রায় অর্ধেক। অফিস-আদালত কিংবা স্কুল-কলেজে চাকরিরত কর্মজীবী নারীদের ব্যস্ত্মতা আরও অনেক বেশি। তারা বাসায় ফিরে পুরম্নষের তুলনায় প্রায় তিনগুণ বেশি কাজ করে। একটু খেয়াল করলে বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে যায়। রমজানে জিনিসপত্র ও পণ্যসামগ্রীর ক্রমাগত দাম চড়তে থাকা, ফর্দমাফিক প্রয়োজনীয় বাজারসদাই সামলানো, সেহরি-ইফতারের মেনু্য ঠিক করা, পরিবারের পুষ্টিগুণ বিবেচনায় রাখা, সবার পছন্দ-অপছন্দ, বয়স্ক ও শিশুদের জন্য আলাদা খাবার তৈরি করা। তার ওপর নিত্যদিনকার সাংসারিক রোজনামচা বা টুকিটাকি তো রয়েছেই। সেই সঙ্গে রয়েছে পরিবারের সবার পছন্দ মাফিক ঈদের কেনাকাটাও। এই কঠিন কাজটিও নারীকে সামলাতে হয় ঈদ-পূর্ব এই রমজান মাসেই। বাজেটের লাগাম টেনে ধরে কেনাকাটার লিস্ট নিয়ে দোকানে-দোকানে ঘুরে ঘুরে রম্নচি ও পছন্দের সমন্বয়ে সবচেয়ে সেরা পণ্যটি দিনশেষে পরিবারের সদস্যদের হাতে তুলে দিতে হয়। পরিবারের সদস্যদের মুখের হাসি ফোটানোর মাধ্যমে নিঃসন্দেহে একজন নারী ঈদের আনন্দকে করে তোলে দ্বিগুণ। প্রত্যাশা পূরণের আনন্দে নারীরা খুশিতে উদ্বেলিত হয়ে ওঠে। চোখে মুখে স্বস্ত্মি ও প্রশান্ত্মির রেখা ফুটে ওঠে। ভোগের চেয়ে ত্যাগেই সুখ খুঁজে পায় সবচেয়ে বেশি। কারও অসুখ-বিসুখ হলে বিগলিত স্নেহ-ভালোবাসার ডালি খুলে বসে। সংসারটাকে দু'হাতে বুকে আগলে রাখে।
দিনের যে সময়টা একজন রোজাদার সবচেয়ে বেশি দুর্বল ও কমজোর হয়ে পড়ে, ঠিক সেই সময়ে সংসারে নারীদের ব্যস্ত্মতা ও কাজের চাপ খুব স্বাভাবিকভাবে বেড়ে যায়। নানা পদের ইফতারি ও শরবত তৈরির পাশাপাশি ছোট বাচ্চাদের ঝক্কি-ঝামেলা আর অস্থিরতাকেও তারা সুনিপুণ হাতে অনেক দক্ষতার সহিত সামলাতে হয়। আবার সেহেরির আগে ওঠে পরিবারের সব সদস্যের জন্য পছন্দমাফিক সেহরি পরিবেশন করতে হয়। এ এক নিরন্ত্মর পথচলা। দিনে রাতে একজন নারীর কাজের কোনো অন্ত্ম নেই। অথচ এসব কাজের ফাঁকে প্রতিটি নারীকে ইবাদত-বন্দেগিও সমানভাবে করে যেতে হয়। পরিবার-পরিজনের সন্তুষ্টির পাশাপাশি মহান আলস্নাহর সন্তুষ্টি ও খুশির বিষয়টিও নারীদের দেখতে হয়। কাজের ফাঁকে একটুখানি ফুরসত পেলে নারীরা নিজেদের অসমাপ্ত ইবাদত আর আমলে মশগুল হয়ে পড়ে। সুরেলা কণ্ঠে তিলাওয়াত করে মহাগ্রন্থ পবিত্র আল-কোরআনের সুমিষ্ট শাশ্বত বাণী। শত ব্যস্ত্মতার মাঝেও রমজানে কোনো কোনো নারী কয়েক খতম কোরআন শরিফ পাঠ করে থাকে। পরিবার পরিজন সামলে নিশুতি রজনীতে জিকিরে ফিকিরে ও ইবাদতে বিভোর হয়ে ওঠে। খোদার দরবারে কান্না করে পরিবারের প্রতিটি সদস্যের জন্য সুখ-সমৃদ্ধি ও শান্ত্মি কামনা করে। পুরম্নষ যত সহজে আমল-ইবাদত করতে পারে, নারীরা তা পারে না। কঠিন সময় আর সংগ্রামী পথ পাড়ি দিয়ে সংসারে নারীদের মহান আলস্নাহর ইবাদতে বন্দেগিতে শামিল হতে হয়। পাশাপাশি রাসূল (সা.) নির্দেশিত পথে ইসলামের বিধি-বিধান, হুকুম-আহকামগুলোও তামিল করতে হয়।
জগতে সব নারীকে মহান আলস্নাহ রাব্বুল আলামীন হেদায়েত ও হেফাজতে রাখুন। আমীন।
 
পূর্ববর্তী সংবাদ
এই প্রতিবেদন সম্পর্কে আপনার মতামত দিতে এখানে ক্লিক করুন
অনলাইন জরিপ
অনলাইন জরিপআজকের প্রশ্নজঙ্গিবাদ নিয়ে মন্ত্রীদের প্রচারে আস্থাহীনতার সৃষ্টি হয়েছে_ বিএনপি নেতা আসাদুজ্জামান রিপনের এই বক্তব্য সমর্থন করেন কি?হ্যাঁনাজরিপের ফলাফল
আজকের ভিউ
পুরোনো সংখ্যা
2015 The Jaijaidin
close