সভা-সমাবেশে নিষেধাজ্ঞা গণতান্ত্রিক আচরণই প্রত্যাশিতরাজনৈতিক অঙ্গনের 'শনিদশা'কে আরো বাড়িয়ে দিয়েছে অনির্দিষ্টকালের জন্য ঢাকায় সব ধরনের সভা-সমাবেশ নিষিদ্ধের সাম্প্রতিক পুলিশি ঘোষণা। ইতোমধ্যে বিশিষ্টজনরা তাদের প্রতিক্রিয়ায় পুলিশের এ সিদ্ধান্তকে 'ভুল' আখ্যা দিয়েছেন। সত্য যে, চলমান রাজনৈতিক সঙ্কটের মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর সর্বদলীয় নির্বাচনকালীন সরকার গঠনের প্রস্তাব বেশ প্রশংসিত হয়েছিল। অনেকেই প্রধানমন্ত্রীর এ বক্তব্যকে রাজনৈতিক সঙ্কট নিরসনের নিয়ামক হিসেবে গ্রহণ করেছিলেন। প্রধানমন্ত্রীর প্রস্তাবের পর দেশবাসী যখন বিএনপির আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়ার জন্য অপেক্ষমান, সেই মুহূর্তে সভা-সমাবেশ নিষিদ্ধের সিদ্ধান্ত প্রধানমন্ত্রীর প্রস্তাবের গুরুত্বই কমিয়ে দেয়নি বরং এ সিদ্ধান্ত সঙ্কটকে আরো ঘনীভূত করবে বলে আশঙ্কার যথেষ্ট কারণ রয়েছে। বিরোধী দল তাদের দাবি আদায়ে সভা-সমাবেশ করবে এটা গণতান্ত্রিক রীতি। সাংবিধানিক স্বীকৃতিও রয়েছে সভা-সমাবেশ-মিছিল করার। সুতরাং এর ব্যত্যয় ঘটলে কিংবা কারো অধিকার হরণ করা হলে স্বভাবতই তা হয়ে ওঠে অগণতান্ত্রিক আচরণ। যা কখনো কাম্য হতে পারে না।
আগামী ২৫ অক্টোবর প্রধান দুই দলের পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি নিয়ে টানটান উত্তেজনা ও দেশবাসীর উদ্বেগ-উৎকণ্ঠার কথা অস্বীকার করার উপায় নেই। এ কর্মসূচি নিয়ে পুলিশের আশঙ্কা, সভা-সমাবেশ ও মিছিল থেকে নাশকতা হতে পারে। সম্প্রতি ২৫ অক্টোবরের সমাবেশ সফল করতে বিএনপির নেতারা সশস্ত্র প্রস্তুতির কথাও বলেছেন। ফলে পুলিশের আশঙ্কার যথেষ্ট কারণ রয়েছে। তবে সভা-সমাবেশ ও মিছিল নিষিদ্ধ এমন এক সময় করা হলো, যখন দেশের চলমান রাজনৈতিক অস্থিরতা দূর করার একটি প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। ঠিক এ অবস্থায় সভা-সমাবেশের ওপর নিষেধাজ্ঞাকে বিরোধী দল গণতান্ত্রিক অধিকার খর্ব করার চেষ্টা বলে মনে করছে।
একথা মনে করার যথেষ্ট কারণ রয়েছে, সরকারের মেয়াদ যত ফুরিয়ে আসছে ততই সংগঠিত হচ্ছে বিরোধী পক্ষ। সাম্প্রদায়িক অপশক্তিগুলোও সুযোগের অপেক্ষায় রয়েছে। মিডিয়ার খবর অনুযায়ী জনপ্রশাসনে সরকার সমর্থক আমলাদের বিরোধও চরমে উঠেছে। অন্যদিকে দলনিরপেক্ষরা বিরোধী স্রোতে গা ভাসাচ্ছেন। সরকারের পাঁচ বছরের তাদের বঞ্চনার পাল্লাও কম ভারী নয়। এ অবস্থায় সভা-সমাবেশ বন্ধ করার সিদ্ধান্ত বিরোধী পক্ষকেই আরো উস্কে দেয়া হলো বলে অনেকেই মনে করছেন। অতীতে এর চেয়ে অনেক বড় বড় কারণেও সভা-সমাবেশ নিষিদ্ধ করা হয়নি। অন্যদিকে নাশকতার কারণ দেখালে সেটাও নতুন কিছু নয়। অতীতে আওয়ামী লীগ যখন বিরোধী দলে ছিল, তখনো রাজনৈতিক কর্মসূচির নামে ভাংচুর, অগি্নসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। কিন্তু এভাবে রাজনৈতিক অধিকার হরণের ঘটনা ঘটেনি।
রাজনৈতিক সভা-সমাবেশের ওপর তখনই নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়, যখন দেশে জরুরি অবস্থা জারি করা হয় বা সামরিক শাসন আসে। কিন্তু তার কোনোটিই বাংলাদেশে ঘটেনি। বাংলাদেশে একটি নির্বাচিত সরকার তার শেষ সময়ে উপনীত হয়েছে। উপরন্তু চলমান রাজনৈতিক সঙ্কট যখন সমাধানের দিকে, যখন সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর অগ্রসর হওয়ার কিঞ্চিত সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে, তখন সরকারের এমন আচরণ রহস্যজনক। অন্যদিকে রাজনৈতিক সঙ্কট নিরসনে সরকারের সদিচ্ছা নিয়ে সন্দিহান হওয়ার যৌক্তিক কারণ থাকে।
গণতান্ত্রিক সরকারের কাছ থেকে গণতান্ত্রিক আচরণই প্রত্যাশিত। সরকার রাজনৈতিক সঙ্কট নিরসনে একদিকে তাদের সদিচ্ছার কথা বলবে আবার অন্যদিকে বিরোধী দলের রাজনৈতিক অধিকার হরণ করবে তা কখনো গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। পাল্টাপাল্টি সমাবেশ ঘিরে নাশকতার আশঙ্কা সৃষ্টি হলে তা রোধে সমাবেশ আহ্বানকারীদের সতর্ক করা যেত। কিন্তু সেটি না করে সভা-সমাবেশের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে বিরোধী দলের মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে দেয়া হলো বলে পর্যবেক্ষকরা মনে করেছেন। এ ক্ষেত্রে মনে রাখা দরকার গণতান্ত্রিক অধিকার হরণ কোনো শুভ ফল বয়ে আনবে না, বরং চলমান সঙ্কটকে আরো ঘনীভূত করবে।
আমরা মনে করি, এখনো সময় আছে অবধারিত সংঘাতের পথ পরিহার করার। এ জন্য উভয় দলকে সর্বোচ্চ সংযম প্রদর্শন করতে হবে। সত্যিকার অর্থে দেশবাসীর মঙ্গল চাইলে উভয় দলের কর্তব্য হওয়া দরকার পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি ও উস্কানিমূলক কর্মকা- প্রত্যাহার করা। চলমান সঙ্কট উত্তরণের সমাধান সূত্র খুঁজে বের করতে উভয় দলকেই কিছু কিছু ছাড় দেয়া জরুরি। রাজনৈতিক হানাহানি নয়_ দেশবাসী শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান প্রত্যাশা করে।
 
এই প্রতিবেদন সম্পর্কে আপনার মতামত দিতে এখানে ক্লিক করুন
অনলাইন জরিপ
অনলাইন জরিপআজকের প্রশ্নজঙ্গিবাদ নিয়ে মন্ত্রীদের প্রচারে আস্থাহীনতার সৃষ্টি হয়েছে_ বিএনপি নেতা আসাদুজ্জামান রিপনের এই বক্তব্য সমর্থন করেন কি?হ্যাঁনাজরিপের ফলাফল
আজকের ভিউ
পুরোনো সংখ্যা
2015 The Jaijaidin
close