তরুদ্যানে রূপান্তর হচ্ছে গাদ্দাফির বাব আল-আজিজিয়াযাযাদি ডেস্ক লিবিয়ার ৪২ বছরের শাসক মুয়াম্মার গাদ্দাফি হত্যাকা-ের দুই বছর পূর্ণ হয়েছে রোববার। তবে যে পরিবর্তনের আশায় ২০১১ সালে উত্তর আফ্রিকার দেশটি গৃহযুদ্ধে জড়িয়েছিল, তার বাস্তবায়ন এখনো সুদূর পরাহত। রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা, দুর্নীতি, মানবাধিকার লঙ্ঘন; এমনকি প্রধানমন্ত্রীর অপহরণের ঘটনাও এখন সেখানকার নৈমত্তিক ইস্যু।
উল্লেখ্য, গত ১০ অক্টোবর কয়েক ঘণ্টার জন্য অস্ত্রধারীরা অপহরণ করেছিল লিবিয়ার বর্তমান প্রধানমন্ত্রী আলি জিদানকে। তাই গৃহযুদ্ধের দুই বছর পরও চরম হতাশা ও সংশয়ে দিন কাটাচ্ছে লিবিয়ানরা। তবে বিভিন্ন পুরাতন ব্যবস্থা পরিবর্তনের মাধ্যমে জনগণের দৃষ্টি আকর্ষণে কাজ করে যাচ্ছে দেশটির বর্তমান সরকার। এমনটা দাবি তাদের। তারই অংশ হিসেবে, গাদ্দাফির শাসনামলে 'লিবিয়া নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র' হিসেবে পরিচিত বাব আল-আজিজিয়াকে নতুন করে ঢেলে সাজানোর পরিকল্পনা নিয়েছে প্রশাসন। রাজধানী ত্রিপোলির কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত ছয় বর্গকিলোমিটার আয়তনের এই এলাকাকে রূপান্তর করা হচ্ছে তরুদ্যান বা পার্কে। গাদ্দাফি আমলে এখানে সেনানিবাস ও অন্যান্য সরকারি গুরুত্বপূর্ণ ভবন ছিল।
দেশটির পর্যটনমন্ত্রী ইকরাম বাশ ইমাম শনিবার জানান, বাব আল-আজিজিয়া কমপ্লেক্সকে পার্কে রূপান্তর করার প্রাথমিক কাজ শুরু করেছে সরকার। তিনি বলেন, 'গাদ্দাফির শাসনামলের আগে এখানকার বেশিরভাগ এলাকাই পার্ক হিসেবে ব্যবহার করা হতো। তারপর একে বিভক্ত করা হয় এবং সেই সঙ্গে প্রচুর গাছপালা কেটে ফেলা হয়। আমরা চাইছি, এলাকাটিকে তার আগের অবস্থায় ফিরিয়ে নিতে। কারণ এটা রাজধানী ত্রিপোলি শহরের ঠিক মাঝখানে অবস্থিত। এখানকার সবুজ এলাকা ত্রিপোলির মানুষ ও অতিথিদের জন্য উপভোগ্য হবে।'
তবে বিশাল আয়তনের এই এলাকাটি আসলে তৈরি করেছিলেন গাদ্দাফি পূর্ববর্তী লিবিয়ার শাসক রাজা ইদ্রিস। ১৯৮০'র দশকে বিদেশি ঠিকাদারদের সহযোগিতায় গাদ্দাফি পরিধি বৃদ্ধি করেন। এর মধ্যে ভূ-গর্ভস্থ টানেল তৈরি করেন, যা দিয়ে ত্রিপোলির বাইরের কয়েকটি জেলায় যোগাযোগ রক্ষা করা যেত। তবে ২০১১ সালে ন্যাটোর বিমান হামলায় গুরুত্বপূর্ণ এই এলাকা ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
গতমাসে লিবিয়ার প্রধানমন্ত্রী আলি জিদান জানান, এই এলাকা প্রচুর পরিমাণ বিস্ফোরক দ্রব্যে পরিপূর্ণ। তিনি বলেন, 'আমরা মাটিতে চাপা দেয়া কিছু রকেট এবং কিছু তেজস্ক্রিয় দ্রব্য পেয়েছি। এ ব্যাপারে আমরা পদক্ষেপ নিচ্ছি। বিস্ফোরক দ্রব্য অনুসন্ধান ও পরিষ্কারের জন্য আমরা একদল সামরিক বিশেষজ্ঞদের নিয়োগ করেছি।'
বাব আল-আজিজিয়ার বেশ কিছু ভবনে এখন ত্রিপোলির গৃহহীন মানুষ আশ্রয় নিয়েছে। তাদের মধ্যে অনেকে দরজা-জানালা লাগিয়ে ধ্বংসপ্রাপ্ত ভবনের সংস্কারের কাজ করেছে। তবে প্রধানমন্ত্রী জানিয়েছেন, এই এলাকায় বসবাসকারী ক্ষতিগ্রস্তদের আশ্রয়ের বন্দোবস্তে কাজ করছে সরকার। স্থানটি ছাড়ার জন্য তিনি নাগরিকদের বিশেষ ভাতা দেয়ার চিন্তা-ভাবনাও করছেন।
তবে 'গাদ্দাফির ঘাঁটিতে' বসবাসকারীদের একজন আউম আদম মোহামেদ শনিবার জানিয়েছেন, লিবিয়া সরকারের পক্ষ থেকে কোনো রকম সহযোগিতা তারা এখনো পাননি। তিনি আক্ষেপের সঙ্গে বলেন, 'গাদ্দাফির আমলেও আমরা কিছুই পাইনি, বিপ্লবের পরও আমরা কিছুই পেলাম না।' তথ্যসূত্র : আল-জাজিরা অনলাইন
 
এই প্রতিবেদন সম্পর্কে আপনার মতামত দিতে এখানে ক্লিক করুন
অনলাইন জরিপ
অনলাইন জরিপআজকের প্রশ্নজঙ্গিবাদ নিয়ে মন্ত্রীদের প্রচারে আস্থাহীনতার সৃষ্টি হয়েছে_ বিএনপি নেতা আসাদুজ্জামান রিপনের এই বক্তব্য সমর্থন করেন কি?হ্যাঁনাজরিপের ফলাফল
আজকের ভিউ
পুরোনো সংখ্যা
2015 The Jaijaidin
close