বিশেষ প্রতিবেদনঅস্ত্র তৈরিতে পিয়ংইয়ং-তেহরান মৈত্রী!যাযাদি ডেস্ক পশ্চিমাদের রক্তচক্ষু, প্রতিবেশী শত্রুর হুমকি এবং চীনের 'বকুনি' সত্ত্বেও চলছে উত্তর কোরিয়ার পরমাণু অস্ত্র কর্মসূচি। এরই ধারাবাহিকতায় খুব শিগগিরই পঞ্চমবারের মতো পরমাণু বোমার পরীক্ষা চালাতে যাচ্ছে দেশটি। এমন খবরে পিয়ংইয়ংবিরোধীরা যখন সংশয়ে, তখন চাঞ্চল্যকর এক তথ্য দিয়ে আরেকটি বোমা ফাটাল দক্ষিণ কোরিয়ার সংবাদমাধ্যম 'ইয়োনহাপ'। গণমাধ্যমটির দাবি, গত মার্চে কালো তালিকাভুক্ত উত্তর কোরীয় প্রতিষ্ঠান 'কোরিয়া মাইনিং ডেভেলপমেন্ট ট্রেডিং করপোরেশন'-এর কর্মকর্তারা গোপনে ইরান সফর করেছেন।
উত্তর কোরিয়ার সর্বোচ্চ নেতা কিম জং উনের প্রশাসনের একের পর এক পরমাণু কর্মসূচিতে বাধা দিতে দেশটির বেশ কিছু প্রতিষ্ঠান-কর্মকর্তা-ব্যক্তিত্বের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে আমেরিকার নেতৃত্বাধীন পশ্চিমা বিশ্ব এবং জাতিসংঘ। কিন্তু ইরানের সঙ্গে দেশটির গোপন এই সম্পর্কের কথায় অনেকেই আবার নড়েচড়ে বসেছে। বিশেষ করে দক্ষিণ কোরিয়ার জন্য ইস্যুটি সবচেয়ে স্পর্শকাতর। কেননা, দ্বিপক্ষীয় অর্থনৈতিক উন্নয়ন এবং পিয়ংইয়ংবিরোধী নিষেধাজ্ঞা কার্যকরের জন্য এপ্রিলে তেহরান-সিউল বৈঠক শুরু হয়েছে।
তবে বিশ্লেষকদের কাছে তেহরান-পিয়ংইয়ংয়ের সামরিক ক্ষেত্রে সহযোগিতা কোনো নতুন খবর নয়। ১৯৭৯ সালে আমেরিকাপন্থী শাহ রাজতন্ত্রকে উৎখাত করে ইরানিরা। তখন আমেরিকা ও সোভিয়েত বস্নক উভয়ের প্রতি শত্রুতাপূর্ণ মনোভাবের কারণে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে একঘরে হয়ে পড়ে ইরানের নতুন প্রশাসন। তবে আয়াতুল্লাহ খোমেনির ক্ষমতায় উত্থানের শুরু থেকেই কূটনৈতিক সম্পর্ক গড়ে তোলে তেহরান ও পিয়ংইয়ং। অবশ্য দ্বিপক্ষীয় পূর্ণমাত্রার অংশীদারিত্বের ব্যাপারে উভয় দেশই সতর্ক ছিল।
ইরানের আশঙ্কা ছিল_ উত্তর কোরিয়ার প্রতি খুব ঘনিষ্ঠতা দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক সৃষ্টিতে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে। অন্যদিকে, উত্তর কোরিয়ার ভয় ছিল, ইরানের প্রতি খুব ঘনিষ্ঠ সম্পর্কে জড়ালে ইরাককে নিজেদের বাণিজ্য অংশীদার হিসেবে পেতে বেশ কঠিন হবে। উল্লেখ্য, বিপ্লবের পর থেকেই ইরাকের সঙ্গে ইরানের বৈরী সম্পর্ক চলছিল। পরে ১৯৮০ সালে ইরাক-ইরান যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ে। ১৯৮২ সালে ইরাক-উত্তর কোরিয়া সম্পর্ক ভেঙে যায়। এরপর উত্তর কোরিয়া থেকে পাওয়া স্কাড মিসাইল এবং ভারী কামান ইরাকি বাহিনীর বিরুদ্ধে ব্যবহার করেছিল ইরান।
সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের পর তেলে ভর্তুকি সুবিধা হারায় উত্তর কোরিয়া। তখন সম্ভাব্য শক্তির উৎস হিসেবে তেলসমৃদ্ধ ইরানের দ্বারস্থ হয় দেশটি। তেহরানও দ্রুত সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেয়। বিনিময়ে তখন থেকেই ইরানের মিসাইল প্রযুক্তি এবং পরমাণু কর্মসূচিতে সহায়তা দিয়ে আসছে উত্তর কোরিয়া। তবে ওই অঞ্চলে আমেরিকার ঘনিষ্ঠ মিত্র দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে কৌশলগত সম্পর্ক বজায় রাখতে সক্ষম হয় ইরান।
নব্বইয়ের দশক থেকেই দেশ দুটি পরস্পরের মধ্যে সামরিক প্রযুক্তি আদান-প্রদান করে আসছে। তেলআবিবের বার-ইলান বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক অ্যালন লেভকোভিৎজ বলেন, ১৯৯৮ সালে ইরানের 'শাবাব-৩' মিসাইল পরীক্ষার সব তথ্য উত্তর কোরিয়ায় সরবরাহ করা হয়। তাছাড়া ইরানের মিসাইল কর্মসূচিতে রুশ সহযোগিতাও পরোক্ষভাবে পিয়ংইয়ংয়ের পরমাণু উচ্চাশা পূরণের জন্য সহায়ক।
২০০৬ সালে উত্তর কোরিয়া সফলভাবে পরমাণু পরীক্ষা চালানোর পর তেহরান-পিয়ংইয়ং সম্পর্ক আরো দৃঢ় হয়। ২০১১ সালে দক্ষিণ কোরিয়ার একটি প্রতিবেদন থেকেও এর সত্যতা মেলে। সেই প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, উত্তর কোরিয়ার শত শত বিজ্ঞানী ইরানের পরমাণু প্ল্যান্টগুলোতে কাজ করছেন। সেখানে তারা কম্পিউটারপ্রযুক্তির উন্নয়নের দায়িত্বে নিয়োজিত ছিলেন।
একইভাবে, ২০১৩ সালে উত্তর কোরিয়ার পরমাণু পরীক্ষার সময়ও সেখানে উপস্থিত ছিলেন ইরানি বিজ্ঞানীরা। ২০১৫ সালের জুলাইয়ে উত্তর কোরিয়া ইরানে তিনজন বিশেষ প্রতিনিধি পাঠায়। অভিযোগ রয়েছে, ইরানকে নিউক্লিয়ার ওয়্যারহেড ও ব্যালিস্টিক মিসাইল উন্নয়নে সাহায্য করার উদ্দেশ্যেই তাদের পাঠানো হয়েছিল।
এদিকে, মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের নেতৃত্বে গঠিত নতুন অক্ষও তেহরান-পিয়ংইয়ংকে আরো ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করতে উৎসাহিত করছে। ধারাবাহিকভাবে পারমাণবিক কর্মকা-ের দ-স্বরূপ উপর্যুপরি নিষেধাজ্ঞায় জর্জরিত উত্তর কোরিয়া 'তেলের বিনিময়ে অস্ত্র' সম্পর্কের ফলে শক্ত অবস্থান ধরে রাখতে পারছে।
ধর্মবিশ্বাসীদের ওপর উত্তর কোরিয়ার দমনমূলক আচরণ এবং ইরানের চরম ধর্মীয় নীতি মেনে চলা প্রশাসন কার্যত বিপরীত মেরুর নীতিতে চললেও দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক বেশ সাবলীল। তেহরান ও পিয়ংইয়ংয়ের মৈত্রীর পেছনে রয়েছে একটি অভিন্ন নীতি। আর তা হলো_ পররাষ্ট্রনীতিতে দেশ দুটির চরম মাত্রায় আমেরিকাবিরোধী অবস্থান। সংবাদসূত্র : দ্য ডিপ্লোম্যাট
 
এই প্রতিবেদন সম্পর্কে আপনার মতামত দিতে এখানে ক্লিক করুন
অনলাইন জরিপ
অনলাইন জরিপআজকের প্রশ্নজঙ্গিবাদ নিয়ে মন্ত্রীদের প্রচারে আস্থাহীনতার সৃষ্টি হয়েছে_ বিএনপি নেতা আসাদুজ্জামান রিপনের এই বক্তব্য সমর্থন করেন কি?হ্যাঁনাজরিপের ফলাফল
আজকের ভিউ
পুরোনো সংখ্যা
2015 The Jaijaidin