পূর্ববর্তী সংবাদ
ঢাবির ভর্তি পরীক্ষায় নতুন কৌশলে আবারও সক্রিয় জালিয়াত চক্রঢাবি প্রতিনিধি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষার একটি কেন্দ্র -ফাইল ছবিঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ভর্তি পরীক্ষাকে কেন্দ্র করে আবারও সক্রিয় হয়ে উঠেছে একাধিক জালিয়াত চক্র। ভর্তি পরীক্ষায় জালিয়াতি বন্ধে এ বছর প্রথমবারের মতো বারকোড পদ্ধতিতে প্রশ্নপত্র প্রণয়ন করে ঢাবি কর্তৃপক্ষ। শুরুর দিকে অনুষ্ঠিত 'খ', 'গ' ও 'চ' ইউনিটের পরীক্ষা সফলতার সঙ্গে সম্পন্ন হলেও থেমে নেই জালিয়াত চক্রের তৎপরতা।
বিজ্ঞান অনুষদভুক্ত 'ক' ইউনিটের পরীক্ষা শুরু হয় শুক্রবার। পরীক্ষায় অসদুপায় অবলম্বনের অভিযোগে আটক করা হয় ১৩ ভর্তিচ্ছুকে। এমনকি আটককৃত এসব শিক্ষার্থীর দেয়া বক্তব্যে বেরিয়ে এসেছে একাধিক জালিয়াত চক্রের নাম।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বলছে বারকোডে প্রণীত প্রশ্নপত্রের ধরনের সঙ্গে কৌশল মিলিয়ে নিতে একটু সময় লাগলেও আবার সক্রিয় জালিয়াত চক্র। জালিয়াত চক্রের আবারও সক্রিয় হয়ে ওঠা প্রসঙ্গে জানতে চাইলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর অধ্যাপক এ এম আমজাদ বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষা খুবই উঁচুমানের। এই ধরনের জালিয়াতির ঘটনা আমাদের প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। ভর্তি পরীক্ষাকে কেন্দ্র করে জালিয়াত চক্র লেগেই আছে। এদের ডালপালা অনেক। আমাদেরও পাল্টা ব্যবস্থা নিতে হবে। আমরা র‌্যাবের সাহায্যে এক চক্রকে গ্রেপ্তার করেছিলাম। তাদের বিরুদ্ধে শিগগিরই ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে তিনি জানান।
গেল কয়েক বছরের ভর্তি পরীক্ষায় অসদুপায় অবলম্বনকারী পরীক্ষার্থীরা খুদে বার্তার মাধ্যমে তার প্রশ্নপত্রের সেটকোড জানিয়ে দিত বাইরের চক্রের কাছে, যারা এই সেটকোডের সকল উত্তর পরীক্ষার্থীর কাছে খুদে বার্তার মাধ্যমে পাঠাতো। এ জন্য এ বছর সেটকোড পদ্ধতি পরিবর্তন করে বারকোড অনুযায়ী প্রশ্নপত্র প্রণয়ন করে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। 'খ' 'গ' ও 'চ' ইউনিটের পরীক্ষায় এ পদ্ধতির সুফল মিললেও 'ক' ইউনিটের পরীক্ষায় আবারও জালিয়াতির অভিযোগ উঠল।
জালিয়াত চক্রের নতুন কৌশল বিষয়ে ঢাবির এক শিক্ষক বলেন, প্রতারক চক্র আগে থেকে প্রশ্নপত্র সংগ্রহ করে এর সঠিক উত্তরমালা ডিভাইসের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের পাঠায়। আর শিক্ষার্থীরা প্রশ্নপত্রে উলি্লখিত সম্ভাব্য উত্তরের (অপশন) সঙ্গে মিলিয়ে নিয়ে বৃত্ত ভরাট করে। কারণ একই সম্ভাব্য উত্তর (অপশন) দুই প্রশ্নে নেই।
জানা গেছে, জালিয়াতির দায়ে আটক ১২ শিক্ষার্থীর মধ্যে নয়জনই উদ্ভাসে কোচিং করেন। অন্যদের মধ্যে একজন ইউসিসি, একজন ইউনিএইডের শিক্ষার্থী। বাকি দুইজন কোনো কোচিংয়ে ভর্তি হননি।
ভর্তি জালিয়াতির দায়ে আটকদের দেয়া তথ্যে বেরিয়ে এসেছে একাধিক চক্রের নাম। এদের মধ্যে রয়েছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকভিত্তিক চক্র ও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগ নেতার নামও। আটককৃতদের তিনজন তাদের সহযোগিতা করা চক্রের বিবরণ দিয়েছেন। দিনাজপুর সরকারি কলেজের ছাত্র ইসতিয়াক আহমেদ (ভর্তি রোল- ৬৫৮৫৫৬) ডিভাইসসহ আটক হয়েছেন মোহাম্মদপুর কেন্দ্রীয় কলেজ কেন্দ্র থেকে। তিনি বলেন, 'আমার পরিচিত এক বড় ভাই রুবেলের মাধ্যমে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রলীগ নেতা শুভ ও সৌরভের সঙ্গে পাঁচ লাখ টাকার চুক্তি হয়। সে অনুযায়ী আমাকে প্রশ্নের উত্তর এসএমএসে পাঠায়। তিনি উদ্ভাস ফার্মগেট শাখায় কোচিং করে বলে জানান।'
ঢাকা মহানগর মহিলা কলেজ কেন্দ্র থেকে আটক অবনী রায়ের (ভর্তি রোল- ৬৮৮১৫০) কথাতেও বের হয়ে আসে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রলীগ নেতার নাম। তিনি বলেন, 'আমার সঙ্গে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রলীগ নেতা মাসুম ভাইয়ের পাঁচ লাখ টাকার চুক্তি হয়। সে অনুযায়ী তিনি আমাকে ডিভাইসের মাধ্যমে উত্তর পাঠান।' ফেসবুক চক্রের সঙ্গে যোগাযোগের মাধ্যমে জালিয়াতির আশ্রয় নেয় ইডেন কলেজ কেন্দ্র থেকে আটক হওয়া ইমরান খান শোভন। তিনি সাড়ে চার লাখ টাকার বিনিময়ে ফেসবুকে 'পলাশ আহমেদ' নামে আইডির সঙ্গে চুক্তি করেন।
 
পূর্ববর্তী সংবাদ
এই প্রতিবেদন সম্পর্কে আপনার মতামত দিতে এখানে ক্লিক করুন
অনলাইন জরিপ
অনলাইন জরিপআজকের প্রশ্নজঙ্গিবাদ নিয়ে মন্ত্রীদের প্রচারে আস্থাহীনতার সৃষ্টি হয়েছে_ বিএনপি নেতা আসাদুজ্জামান রিপনের এই বক্তব্য সমর্থন করেন কি?হ্যাঁনাজরিপের ফলাফল
আজকের ভিউ
পুরোনো সংখ্যা
2015 The Jaijaidin
close