পূর্ববর্তী সংবাদ
লড়াকু বাংলাদেশে গর্বিত মুশফিকহয়তো সমীকরণটাই আমাদের পক্ষে ছিল না; মাত্র ২ উইকেট হাতে নিয়ে ৩৩ রানের দূরত্ব। তবে ছেলেরা ৫ দিন ধরে নিজেদের উজাড় করে দিয়ে চেষ্টা করে গেছে। ১৫ মাস পর টেস্ট খেলতে নেমে এভাবে খেলা, আমি সত্যিই দলকে নিয়ে গর্বিত।ক্রীড়া প্রতিবেদক পারলেন না সাবি্বর রহমান। ৩৩ রানের সামান্য দূরত্বটা ২২ রানে কমে এসে বহুদূরে মিলিয়ে গেল। ইতিহাসের হাতছানি দিয়ে যাওয়া চট্টগ্রাম টেস্ট শেষ হলো হৃদয়ভাঙা হারের হতাশায়। তবে চট্টগ্রাম টেস্টে ২২ রানের ওই হারই শেষ কথা নয়, এই টেস্ট অনেক কিছু পাওয়ার আনন্দও দিয়ে গেছে বাংলাদেশকে। ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে দলপতি মুশফিকুর রহিম সেটাই স্মরণ করিয়ে দিলেন। জানিয়ে গেলেন, দীর্ঘ বিরতির পর টেস্ট খেলতে নেমেও ইংল্যান্ডের মতো একটি দলের বিপক্ষে যেভাবে লড়াই করেছে তার দল, তাতে গর্বিত তিনি।
প্রায় সাড়ে ১৪ মাস পর নিজেদের প্রথম টেস্ট খেলতে নেমেছে বাংলাদেশ। এর মাঝে প্রথম শ্রেণির ম্যাচও খুব একটা খেলা হয়নি টাইগারদের। তাই মানসিক আর শারীরিক সামর্থ্যের চূড়ান্ত পরীক্ষার মঞ্চ টেস্ট ক্রিকেটের প্রকৃত প্রস্তুতিটা ছিল না তাদের। এরপরও ইংল্যান্ডের সঙ্গে সমানে সমানে লড়েছে মুশফিক ব্রিগেড। ফল যা-ই হোক, ৫ দিন ধারাবাহিক ক্রিকেট খেলার লক্ষ্য পূরণ হয়েছে স্বাগতিকদের। এতে খুশি মুশফিক, 'টেস্টে আমাদের ধারাবাহিকতার খুব অভাব থাকে। আমি চেয়েছিলাম, আমরা যেন ধারাবাহিক ক্রিকেট খেলতে পারি। আমার মনে হয়, আমরা পুরো টেস্টে ৯২ থেকে ৯৫ শতাংশ ভালো ক্রিকেট খেলেছি। উন্নতির কিছু জায়গা আছে, যেখানে আমরা আরো ভালো করলে ফল আমাদের পক্ষে আসতে পারত।'
শেষ দিনে জয়ের জন্য ৩৩ রান দরকার ছিল বাংলাদেশের, হাতে উইকেট ছিল মাত্র দুইটি। চট্টগ্রামের বোলিংবান্ধব উইকেট বিবেচনায় সমীকরণটা মহাকঠিনই ছিল। তবে অসম্ভব ছিল না। এত কাছাকাছি এসেও জয়টা হাতের মুঠোয় নেয়া গেল না, এতে আফসোস হচ্ছে মুশফিকেরও। তবে গোটা ম্যাচজুড়ে দল যে লড়াকু মানসিকতার পরিচয় দিয়েছে, টেস্টে নিজেদের সামর্থ্য দেখিয়েছে, এতে গর্বিত মুশফিক, 'হয়তো সমীকরণটাই আমাদের পক্ষে ছিল না; মাত্র ২ উইকেট হাতে নিয়ে ৩৩ রানের দূরত্ব। তবে ছেলেরা ৫ দিন ধরে নিজেদের উজাড় করে দিয়ে চেষ্টা করে গেছে। ১৫ মাস পর টেস্ট খেলতে নেমে এভাবে খেলা, আমি সত্যিই দলকে নিয়ে গর্বিত।'
কন্ডিশন যা-ই হোক, লম্বা বিরতির পর ইংল্যান্ডের মতো দলের মুখোমুখি হওয়া মুশফিকের কাছে বড় চ্যালেঞ্জই। ম্যাচে হারলেও অবশ্য সেই চ্যালেঞ্জে জিতেছে বাংলাদেশ। মুশফিকের অন্তত তেমনটাই মত। এই টেস্ট থেকে অনেক কিছুই যোগ হয়েছে টাইগারদের প্রাপ্তির খাতায়, দলপতি জানালেন এমনটাই, 'অনেক কিছুই নেয়ার আছে এই টেস্টে। সাবি্বর খুব ভালো ব্যাটিং করেছে, মিরাজ প্রথম ইনিংসে খুব ভালো বোলিং করেছে। সাকিব খুবই ভালো বোলিং করেছে। তামিম কন্ডিশনের সঙ্গে মানিয়ে নিয়ে খুব ভালো ব্যাটিং করেছে, যেটা কিনা তার সহজাত নয়। সব মিলিয়ে আমি বলব, বাংলাদেশের জন্য খুব ভালো একটি টেস্ট হয়েছে।'
স্পিন সহায়ক উইকেট চেয়েছিলেন মুশফিক, পেয়েছেনও। উইকেট শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত যেমন আচরণ করেছে, তাতে সন্তুষ্টিই রইল স্বাগতিক দলপতির কণ্ঠে। তবে এমন উইকেটে সিদ্ধান্ত নিতে যথেষ্টই বেগ পেতে হয়েছে আম্পায়ারদের। রিভিউ সিস্টেমের কল্যাণে আম্পায়ারদের অনেক সিদ্ধান্তই ভুল প্রমাণিত হয়েছে। তবে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে এর দায় চুকাতে হয়েছে বাংলাদেশকেই। শেষ দিনে পতন হওয়া দুটি উইকেটই যেমন, রিভিউ নিয়ে সফল হলো ইংল্যান্ড, ব্যর্থ স্বাগতিকরা। বিষয়টি নিয়ে আক্ষেপ করলেন মুশফিকও, 'অনেক সময় ভাগ্য পক্ষে আসে না। রিভিউটা যদি একটু এদিক-সেদিক হতো, তাহলে ম্যাচটা অন্য রকমও হতে পারত।'
চট্টগ্রাম টেস্টে বাংলাদেশের শুরুটা ছিল দারুণ। মিরাজের দুর্দান্ত বোলিংয়ে ইংল্যান্ডের প্রথম ইনিংস ২৯৩ রানেই গুটিয়ে দিয়েছিল টাইগাররা। এরপর নিজেদের প্রথম ইনিংসে ৫ উইকেটে ২২১ রান তুলে দ্বিতীয় দিন শেষ করেছিল তারা। সেখান থেকে ভালো একটা লিডের আশা করেছিল মুশফিক ব্রিগেড। কিন্তু ২৭ রান তুলে শেষ ৫ উইকেট হারিয়ে সেই আশা জলাঞ্জলি দিয়েছে তারা। উল্টো ৪৫ রানের লিড পেয়েছে ইংল্যান্ড। এটাই ব্যবধান গড়ে দিয়েছে ম্যাচের, মুশফিকের এমনটাই মত, 'প্রথম ইনিংসটা খুব গুরুত্বপূর্ণ ছিল আমাদের। লিড নিতে না পারলেও আমরা যদি ২৯০ বা ২৮০ রানও করতাম; ওরা দ্বিতীয় ইনিংসে ২৪০ রান করেছে, আমরা কিন্তু ২৬০ রান করেছি। সেদিক থেকে বলব, ওই রানটাই এই টেস্টে ব্যবধান গড়ে দিয়েছে।'
পরাজয়ের হতাশা আছে মুশফিকের। তবে এর থেকে প্রাপ্তির আনন্দই বেশি তার। সেই প্রাপ্তি নিয়েই ঢাকায় ফিরছে টাইগাররা। আগামী শুক্রবার থেকেই মিরপুরে শুরু হচ্ছে সিরিজের দ্বিতীয় এবং শেষ টেস্ট। সেই ম্যাচে ইংল্যান্ডকে আরো কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে ঠেলে দেয়ার জন্য চট্টগ্রামের ওই প্রাপ্তিগুলোই বড় অনুপ্রেরণা মুশফিকদের।
 
পূর্ববর্তী সংবাদ
এই প্রতিবেদন সম্পর্কে আপনার মতামত দিতে এখানে ক্লিক করুন
অনলাইন জরিপ
অনলাইন জরিপআজকের প্রশ্নজঙ্গিবাদ নিয়ে মন্ত্রীদের প্রচারে আস্থাহীনতার সৃষ্টি হয়েছে_ বিএনপি নেতা আসাদুজ্জামান রিপনের এই বক্তব্য সমর্থন করেন কি?হ্যাঁনাজরিপের ফলাফল
আজকের ভিউ
পুরোনো সংখ্যা
2015 The Jaijaidin
close