গণতন্ত্রকে রক্ষা করুন বিদায়ী ভাষণে ওবামাযাযাদি ডেস্ক মঙ্গলবার রাতে শিকাগোতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা তার বিদায়ী ভাষণের একপর্যায়ে এভাবে অশ্রুসজল হয়ে ওঠেন _ইন্টারনেটযুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা তার বিদায়ী ভাষণে আমেরিকার নাগরিকদের গণতন্ত্র রক্ষায় সতর্ক থাকার আহবান জানিয়েছেন।
তিনি বলেছেন, আট বছর আগে তিনি যখন দায়িত্ব নিয়েছিলেন, তার তুলনায় যে কোনো বিচারে আমেরিকা এখন ভালো ও শক্তিশালী অবস্থানে আছে।
কিন্তু যখনই মানুষ নিশ্চিন্ত হয়েছে, তখনই আবার গণতন্ত্র নতুন হুমকির মুখে পড়েছে বলে দেশের জনগণকে সতর্ক করেছেন তিনি।
বিদায়ী প্রেসিডেন্ট সব বিভাজনকে অতিক্রম করে পরস্পরের মতামতকে শ্রদ্ধা করা শিখতে যুক্তরাষ্ট্রবাসীর কাছে আহবান জানিয়েছেন।
তিনি বলেছেন, 'আমাদের মনোযোগ দিতে হবে, সবার কথা শুনতে হবে।'
পরিবর্তনের স্বপ্ন দেখিয়ে ২০০৮ সালে যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেওয়া বারাক ওবামার বয়স এখন ৫৫। তার উত্তরসূরি ডোনাল্ড ট্রাম্প আগামী ২০ জানুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের ৪৫তম প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নেবেন। দায়িত্ব নিয়েই ওবামার নেয়া বেশ কিছু নীতি বাতিল করার ঘোষণা দিয়ে রেখেছেন তিনি।
মঙ্গলবার রাতে শিকাগোতে ওবামার বিদায়ী ভাষণের সময় হাজার হাজার সমর্থক সস্নোগান ধরেন, 'আরও চার বছর, আরও চার বছর।'
জবাবে ওবামা বলেন, 'তা আমি পারি না।'
যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধান অনুযায়ী, দুই মেয়াদের বেশি কেউ প্রেসিডেন্ট থাকতে পারেন না। আর ওবামা প্রেসিডেন্টদের শান্তিপূর্ণ দায়িত্ব হস্তান্তরকে যুক্তরাষ্ট্রের একটি 'হলমার্ক' হিসেবে বর্ণনা করে।
তিনটি বিষয়কে যুক্তরাষ্ট্রের গণতন্ত্রের জন?্য সবচেয়ে বড় হুমকি হিসেবে চিহ্নিত করেন বিদায়ী প্রেসিডেন্ট। এগুলো হলো- অর্থনৈতিক বৈষম?্য, জাতিগত বিভেদ এবং 'অলীক কল্পনায় ডুবে থাকা' সমাজের বিভিন্ন অংশ, যাদের মতামত সাধরণ বাস্তবতার সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়।
২০০৮ ও ২০১২ সালের নির্বাচনে জয়ী হওয়ার পরও এই শিকাগোতেই সমর্থকদের সামনে এসে অভিনন্দন জানিয়েছিলেন ওবামা। তিনি বিদায়ও বললেন সেখানেই। বক্তৃতার একপর্যায়ে তাকে চোখ মুছতে দেখা যায়।
জাতির উদ্দেশে শেষ বক্তৃতায় ওবামা বলেন, বিদায় বেলায় প্রেসিডেন্ট হিসেবে একটি অনুরোধ তিনি আমেরিকানদের করতে চান।
'আমি আপনাদের বলছি, বিশ্বাস রাখুন। আমি পরিবর্তন এনে দিতে পারব কিনা- সে বিষয়ে নয়, আস্থা রাখুন নিজেদের ওপর।'
সতর্ক না হলে গণতন্ত্র সংকটে পড়তে পারে_এই হুশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেন, 'পরিবর্তন তখনই হয়, যখন সাধারণ মানুষ তা চায়।...আমাদের প্রত্যেকের আলাদা স্বপ্ন, ঘাম আর পরিশ্রম মিলে তৈরি হয় সবার স্বাধীনতা।'
বিদায়ী ভাষণে জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব ঠেকাতে আরও দৃঢ় অবস্থান নিতে বিশ্ববাসীর প্রতি আহবান জানান ওবামা। দায়িত্ব পালনকালে সহযোগিতার জন?্য ?যুক্তরাষ্ট্রের জনগণকে ধন্যবাদ জানান।
'আপনাদের জন্য দায়িত্ব পালন আমাকে সম্মানিত করেছে, গর্বিত করেছে।... প্রত্যেকটি দিন আমি আপনাদের কাছ থেকে শিখেছি। আপনারা আমাকে ভালো প্রেসিডেন্টে পরিণত করেছেন, আপনারাই আমাকে ভালো মানুষে পরিণত করেছেন।'
বিবিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওবামার বিদায়ী ভাষণ শুনতে ২০ হাজারের বেশি সমর্থক হাজির ছিলেন এই অনুষ্ঠানে।
ভাষণের সময় উপস্থিত ছিলেন ওবামার স্ত্রী ও ফার্স্টলেডি মিশেল ওবামা, মেয়ে মালিয়া; ভাইস প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন ও তার স্ত্রী জিল বাইডেন। হোয়াইট হাউসে থাকার সময় এদের প্রত্যেকের 'ত্যাগের কথা' আলাদা করে স্মরণ করেন ওবামা।
তিনি আমেরিকার দরজা সবসময় সবার জন্য খোলা রাখার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন এবং সামনের দিকে এগিয়ে যাওয়ার পথে সবাইকে বিভাজনের বদলে আইনের প্রতি অবিচল থাকতে আহবান জানান।
মুসলিম অভিবাসীদের বিভাজনের মধ্যে ঠেলে দেয়ার বিরোধিতায় তিনি বলেন, 'তারা অন্য সব আমেরিকানদের মতোই দেশপ্রেমিক, তারা আমাদের মতোই এ দেশকে ভালোবাসে।'
জাতির উদ্দেশে ওবামা বলেন, 'আমরা যেন সেই মানুষ না হই- যারা ভাবে, তাদের মতামতই 'তথ্য'; বরং আমাদের সেই মানুষ হয়ে ওঠা উচিত, যারা প্রমাণের ভিত্তিতে তথ্যকে আলিঙ্গন করে।'
বিদায়ী প্রেসিডেন্ট বলেন, গত বছর সব বর্ণ, লিঙ্গ ও বয়সভেদে মার্কিন নাগরিকদের আয় বেড়েছে। আইএসের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে তার নেতৃত্বাধীন সরকার 'অনেকখানি সফল' হয়েছে।
ওবামার বিশ্বাস, আমেরিকানরা যদি তাদের সংবিধানের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা না করে তাহলে চীন কিংবা রাশিয়ার মতো মার্কিনবিরোধিরা কখনোই বিশ্বজুড়ে 'প্রভাব' বিস্তার করতে পারবে না।
রয়টার্স লিখেছে, প্রেসিডেন্ট হিসেবে শিকাগোতে এটিই ছিল ওবামার শেষ সফর। কেবল তাই নয়, এটি ছিল প্রেসিডেন্ট হিসেবে 'এয়ারফোর্স ওয়ানে' তার শেষ যাত্রা।
হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র জশ আর্নেস্ট জানিয়েছেন, দুই মেয়াদে ওবামা মোট ৪৪৫টি যাত্রায় বিমানটিকে সঙ্গী করেছিলেন। এই বিমানে তার কেটেছে দুই হাজার ৮০০ ঘণ্টার বেশি, অর্থাৎ প্রায় ১১৬ দিন।
বিদায় বেলায় ওবামা আগের ডেমোক্রেট প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটনের মতোই জনপ্রিয়তা ধরে রেখেছেন বলে এক জরিপে উঠে এসেছে।
এপি ও এনওআরসি সেন্টার ফর পাবলিক অ্যাফেয়ার্স রিসার্চের ওই জরিপে দেখা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রের ৫৭ শতাংশ নাগরিক এখনো ওবামার প্রতি আস্থাশীল।
মেয়ে শাশার স্কুলের জন্য হোয়াইট হাউস ছাড়ার পর আরও দুই বছর ওবামা ওয়াশিংটনে থাকবেন বলে জানিয়েছে রয়টার্স।

স্ত্রী-কন্যাদের প্রতি কৃতজ্ঞতায়
ওবামার চোখে জল
বিদায়ী ভাষণে স্ত্রী আর কন্যাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করতে গিয়ে আবেগপ্রবণ হয়ে ওঠেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা। এ সময় তার চোখ থেকে জল গড়িয়ে পড়ে।
এএফপির খবরে জানানো হয়, কালো পোশাকে সামনে বসা স্ত্রী মিশেল সম্পর্কে ওবামা বলেন, 'দক্ষিণের মেয়ে মিশেল লাভন রবিনসন। ২৫ বছর ধরে তুমি শুধু আমার স্ত্রী বা আমার সন্তানদের মা নও, তুমি আমার পরম বন্ধু।'
একপর্যায়ে চোখের জল রুমাল দিয়ে মুছতে মুছতে ওবামা বলেন, 'তোমাকে এমন এক ভূমিকা পালন করতে হয়েছে, যা তুমি হয়তো চাওনি। কিন্তু তুমি তোমার মাধুর্য, চারিত্রিক দৃঢ়তা, শৈলী ও প্রফুল্লতা দিয়ে সেই ভূমিকাকে তোমার নিজের করে নিয়েছ। নতুন প্রজন্ম এখন তোমাকে অনুসরণীয় ব্যক্তিত্ব মনে করে বড় হওয়ার স্বপ্ন দেখে। তুমি আমাকে গর্বিত করেছ।'
এই শিকাগো শহরে ওবামা-মিশেল দম্পতির দুই মেয়ের জন্ম। ভাষণের আগে ফেসবুকে ওবামা এক পোস্টে লেখেন, 'মিশেল ও আমার জন্য শিকাগো হচ্ছে এমন জায়গা, যেখান থেকে সবকিছুর শুরু।'
ভাষণের সময় মিশেলের পাশে ১৮ বছর বয়সী বড় মেয়ে মালিয়াকে দেখা গেলেও ১৫ বছরের শাশাকে দেখা যায়নি। হোয়াইট হাউসের এক কর্মকর্তা জানান, শাশার পরের দিন সকালে পরীক্ষা থাকায় সে ওয়াশিংটন ডিসিতে রয়ে গেছে।
ভাষণে বাবা ওবামা দুই মেয়েকে 'দুই বিস্ময় বালিকা' বলে উল্লেখ করে প্রশংসা করেন। বলেন, 'আমি আমার জীবনে যা কিছু করেছি, এর মধ্যে আমি সবচেয়ে বেশি গর্বিত তোমাদের বাবা হিসেবে।' এ সময় মায়ের হাতে জড়িয়ে থাকা মালিয়ার চোখ ছলছল করে ওঠে।
মেয়েদের সম্পর্কে বাবা ওবামা বলেন, 'তোমরা চৌকস, তোমরা সুন্দর, কিন্তু সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো তোমরা দয়ালু, বিচক্ষণ ও অনুভূতিপ্রবণ। তোমরা এতগুলো বছর স্পটলাইনে থাকার যন্ত্রণা খুব সহজেই সামলে নিয়েছ।'
ভাষণের শেষ দিকে ৫৫ বছরের ওবামা ভাইস প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন ও তার স্ত্রীকে দ্বিতীয় 'পরিবার' বলে উল্লেখ করেন। বাইডেনের উদ্দেশে ওবামা বলেন, 'প্রেসিডেন্ট হিসেবে আমার প্রথম সিদ্ধান্ত ছিল আপনাকে ভাইস প্রেসিডেন্ট করা এবং এটি ছিল উত্তম সিদ্ধান্ত। আপনি একজন মহান ভাইস প্রেসিডেন্ট_শুধু এর জন্য নয়, এর জন্য যে আমি একজন ভাইকে পেয়েছি।'
ভাষণ শেষে মঞ্চে এক আবেগঘন পরিবেশের তৈরি হয়।
 
এই প্রতিবেদন সম্পর্কে আপনার মতামত দিতে এখানে ক্লিক করুন
প্রথম পাতা -এর আরো সংবাদ
অনলাইন জরিপ
অনলাইন জরিপআজকের প্রশ্নজঙ্গিবাদ নিয়ে মন্ত্রীদের প্রচারে আস্থাহীনতার সৃষ্টি হয়েছে_ বিএনপি নেতা আসাদুজ্জামান রিপনের এই বক্তব্য সমর্থন করেন কি?হ্যাঁনাজরিপের ফলাফল
আজকের ভিউ
পুরোনো সংখ্যা
2015 The Jaijaidin