ফাঁদ পেতে দুর্নীতিবাজদের ধরা হবে: দুদক চেয়ারম্যানযাযাদি রিপোর্ট দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ বলেছেন, যেসব দপ্তরে অধিক দুর্নীতি হয় বলে জনশ্রুতি রয়েছে, সেখানে ফাঁদ পেতে দুর্নীতিবাজদের ধরা হবে।
বুধবার রাজধানীর সেগুনবাগিচায় দুদকের প্রধান কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন ইকবাল মাহমুদ।
সংবাদ সম্মেলনে দুদকের ২০১৬ সালের কার্যক্রম ও ২০১৭ সালের পরিকল্পনা জানানো হয়।
দুদক চেয়ারম্যান দুর্নীতিবাজদের এই বলে হুশিয়ার করেন, 'ঘুষ গ্রহণ বন্ধ করুন, নইলে কঠিন পরিণতির জন্য অপেক্ষা করুন।'
ইকবাল মাহমুদ জানান, ফাঁদ পেতে দুর্নীতিবাজদের ধরার ঘটনায় ২০১৬ সালে ১৩টি মামলা হয়। ফাঁদ পেতে দুর্নীতিবাজদের ধরা ও মামলার বিষয়টি চলতি বছর বেগবান করা হবে।
দুদক চেয়ারম্যান বলেন, দুর্নীতিপ্রবণ দপ্তরগুলোতে বিশেষ নজরদারির বিষয়টি এবার দৃশ্যমান হবে।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, দুদক ২০১৬ সালে ১২ হাজার ৫৬৮টি অভিযোগ পায়। এর মধ্যে অনুসন্ধানের জন্য গৃহীত হয় এক হাজার ৫৪৩টি অভিযোগ। ক্রশাসনিক ব্যবস্থার জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পাঠানো হয় ৫৪৩টি অভিযোগ।
ইকবাল মাহমুদ জানান, ২০১৫ সালের তুলনায় ২০১৬ সালে দুদকে বেশি অভিযোগ আসে। কিন্তু অধিকাংশ অভিযোগ দুদকের তফসিলবহির্ভূত হওয়ায় তা অনুসন্ধানের জন্য গ্রহণ করা সম্ভব হয়নি।
মামলাসংক্রান্ত তথ্য তুলে ধরতে গিয়ে দুদক চেয়ারম্যান বলেন, ২০১৬ সালে ৩৩৯টি মামলা করা হয়েছে। অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়েছে ৫২৮টি মামলায়।
বিচারিক আদালতে নিষ্পত্তি হওয়া দুদকের মামলার তথ্যে দেখা যায়,
২০১৫ সালের তুলনায় ২০১৬ সালে সাজার হার বেড়েছে।
ইকবাল মাহমুদ জানান, বিভিন্ন স্কুলে, বিশেষ করে রাজধানীর স্কুলগুলোতে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ তারা পাচ্ছেন। অভিযোগের প্রেক্ষিতে তারা স্যামপ্লিং প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ১৫টি স্কুল বাছাই করে তাদের কাছে ভর্তিসংক্রান্ত তথ্য ও নীতিমালা জানতে চেয়ে চিঠি দিয়েছেন।
স্কুলগুলোর ভর্তি প্রক্রিয়া সম্পর্কিত নীতিমালা রয়েছে কিনা, থাকলে সে নীতিমালা কতটুকু মানা হচ্ছে, অতিরিক্ত টাকা ডোনেশন দিয়ে ভর্তি করা হচ্ছে কি না ছাড়াও ভর্তিসংক্রান্ত নানা দুর্নীতি গভীরভাবে অনুসন্ধান করা হবে বলে দুদক চেয়ারম্যান।
তিনি বলেন, এ বিষয়ে তদন্ত জোরদার করতে দুদকের পরিচালক মীর জয়নুল আবেদীন শিবলীর নেতৃত্বে দুই সদস্যের একটি দল গঠন করা হয়েছে।
গত বছর সরকারি চাকুরেদের বেতন বাড়ার যুক্তি দেখিয়ে ঢাকা ও চট্টগ্রামের বেসরকারি স্কুল ও কলেজগুলো শিক্ষার্থীদের বেতন ব্যাপক হারে বাড়ায়, যার প্রতিবাদে আন্দোলনে নামেন অভিভাবকরা।
এর পরিপ্রেক্ষিতে শিক্ষা মন্ত্রণালয় গতবছরের ৯ অগাস্ট বেসরকারি স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা ও কারিগরি প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের বেতন ও টিউশন ফি বৃদ্ধিসংক্রান্ত পরিপত্র জারি করে।
পরিপত্রে বলা হয়, অভিভাবকদের সঙ্গে আলোচনা করে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো শিক্ষার্থীদের বেতন সর্বোচ্চ ৩০ শতাংশ বাড়াতে পারবে। অতিরিক্ত জেলা প্রশাসকের (শিক্ষা) অনুমোদন পেলেই বাড়বে এই ফি।
প্রাথমিকভাবে ১৫টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে চিঠি দেয়া হলেও ভবিষ্যতে অন্য স্কুল-কলেজগুলোকেও তদন্তের আওতায় আনা হবে বলে জানান ইকবাল মাহমুদ।
কমিশনের গত দুই বছরের কার্যক্রম ও ২০১৭ সালের পরিকল্পনা তুলে ধরতে আয়োজিত এ সংবাদ সম্মেলনে দুদক সচিব আবু মোহাম্মদ মোস্তফা কামাল এবং কমিশনার নাসিরুদ্দিন আহমেদ উপস্থিত ছিলেন।
 
এই প্রতিবেদন সম্পর্কে আপনার মতামত দিতে এখানে ক্লিক করুন
প্রথম পাতা -এর আরো সংবাদ
অনলাইন জরিপ
অনলাইন জরিপআজকের প্রশ্নজঙ্গিবাদ নিয়ে মন্ত্রীদের প্রচারে আস্থাহীনতার সৃষ্টি হয়েছে_ বিএনপি নেতা আসাদুজ্জামান রিপনের এই বক্তব্য সমর্থন করেন কি?হ্যাঁনাজরিপের ফলাফল
আজকের ভিউ
পুরোনো সংখ্যা
2015 The Jaijaidin