পূর্ববর্তী সংবাদ
ট্রাম্পের তথ্য গোপন করার অভিযোগ অস্বীকার মস্কোরজ্জ গণমাধ্যমের দাবিকে 'ভুয়া সংবাদ' বললেন ট্রাম্পযাযাদি ডেস্ক আমেরিকার নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পগত নভেম্বরে আমেরিকার প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের আগে নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অনেক গোপনীয় তথ্য হাতে থাকলেও রুশ কর্তৃপক্ষ সেগুলো ফাঁস করেনি। ট্রাম্পকে জেতাতে শুধু হিলারির তথ্যগুলো ফাঁস করেছে পুতিন প্রশাসন। আমেরিকার কয়েকটি গণমাধ্যমে এমন অভিযোগ তোলা হয়েছে। তবে এসব অভিযোগের মাধ্যমে ট্রাম্প-রাশিয়ার সম্পর্ক নষ্ট করার চেষ্টা চালানো হচ্ছে বলে সেগুলো উড়িয়ে দিয়েছে মস্কো প্রশাসন। ট্রাম্পও সেগুলোকে ভুয়া সংবাদ বলে প্রত্যাখ্যান করেছেন। সংবাদসূত্র : বিবিসি, রয়টার্স, সিএনএন
ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেস্কভ বুধবার রাশিয়ার বিরুদ্ধে আনা এই অভিযোগ ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছেন। তিনি বলেন, 'এটি পুরোপুরি পাতানো ও নির্বোধের মতো।' তার মতে, এসব অভিযোগ এনে ট্রাম্প-পুতিন সম্পর্ক নষ্ট করার চেষ্টা চালানো হচ্ছে। রুশ গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের কাছে আমেরিকার ডোনাল্ড ট্রাম্পের কোনো গোপন তথ্য ছিল না।
গত মাসে সিনেট সদস্য জন ম্যাককেইন এ সংক্রান্ত তথ্যাদি এফবিআইর পরিচালক জেমস কমির কাছে হস্তান্তর করেন। আমেরিকার সংবাদমাধ্যম 'বাজফিড' এ সংক্রান্ত নথিগুলো প্রকাশ করেছে। তবে সংবাদমাধ্যমটি বলেছে, 'এসব নথি যাচাই করা হয়নি এবং সম্ভবত এগুলো প্রমাণের অযোগ্য।' তবে আমেরিকান প্রশাসনের একজন কর্মকর্তার বরাত দিয়ে 'গার্ডিয়ান' জানায়, যিনি এই গোয়েন্দা প্রতিবেদনটি লিখেছেন, তার ওপর আস্থা রাখা যায়।
উল্লেখ্য, চলতি সপ্তাহের শুরুতে আমেরিকার তিন গোয়েন্দা সংস্থা এনএসআই, সিআইএ এবং এফবিএ যৌথভাবে আমেরিকার নির্বাচনে রুশ হ্যাকিংয়ের ওপর বহুল প্রতীক্ষিত একটি রিপোর্ট প্রকাশ করে। এরপর বিভিন্ন গণমাধ্যমে ওই প্রতিবেদনের নামে বেশকিছু 'অযাচাইকৃত' তথ্য প্রচার করা হয়। সেগুলোতে দাবি করা হয়, ট্রাম্পের ব্যক্তিগত জীবনের অনেক গোপনীয় তথ্য পেলেও রাশিয়া সেগুলো ফাঁস করা থেকে বিরত ছিল। কোনো তথ্য-প্রমাণ উপস্থাপন না করেই গোয়েন্দা রিপোর্টে দাবি করা হয়, তৎকালীন রিপাবলিকান প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থীর নির্বাচনী প্রচার শিবির গোপনে মস্কোর সঙ্গে যোগাযোগ রেখেছিল।
এদিকে, ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রতিবেদনটির নিন্দা জানিয়েছেন। এক টুইটবার্তায় তিনি লিখেছেন, 'ভুয়া সংবাদ, এটা সম্পূর্ণ রাজনৈতিক উইচ হান্ট (ডাইনি শিকার)।'
উল্লেখ্য, ২০১৬ সালে আমেরিকার প্রেসিডেন্ট নির্বাচনকে প্রভাবিত এবং ট্রাম্পকে সহযোগিতা করার জন্য রাশিয়ার বিরুদ্ধে হ্যাকিংয়ের অভিযোগ এনেছে ওবামা প্রশাসন। গত ৮ নভেম্বর অনুষ্ঠিত আমেরিকার প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের স্বচ্ছতার ওপর থেকে জনগণের আস্থা নষ্ট করার ষড়যন্ত্রেই রাশিয়া নির্বাচনে হ্যাকিং করেছিল বলে রাশিয়ার বিরুদ্ধে অভিযোগ করা হয়। ডিসেম্বরের শেষ সপ্তাহে ওই অভিযোগের ফলে হোয়াইট হাউস থেকে ৩৫ রুশ কূটনীতিককে বহিষ্কার করা হয়। বর্তমান প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার নির্দেশেই তাদের বহিষ্কার করা হয়, যদিও শুরু থেকেই ট্রাম্প এসব অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন। তিনি বরাবরই রাশিয়ার বিরুদ্ধে আনা হ্যাকিংয়ের অভিযোগকে ভুল ও মিথ্যা বলে দাবি করে আসছেন। সম্প্রতি রাশিয়ার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের সত্যতা প্রমাণে আমেরিকার গোয়েন্দাদের শরণাপন্ন হয়েছিল ওবামা প্রশাসন। গোয়েন্দা সদর দপ্তর থেকে রাশিয়ার সাইবার আক্রমণের প্রমাণ হিসেবে দুই পৃষ্ঠার একটি সংক্ষিপ্ত বিবৃতি দেয়া হয় ট্রাম্প এবং ওবামার কাছে। ওই সংক্ষিপ্ত বিবৃতিকেও ভুয়া বলে টুইটারে বার্তা লিখেছেন ট্রাম্প। আর রাশিয়া দুই দিন আগেই বলেছে, হ্যাকিংয়ের বিষয়ে কথা শুনতে শুনতে তারা ক্লান্ত হয়ে পড়েছে।
 
পূর্ববর্তী সংবাদ
এই প্রতিবেদন সম্পর্কে আপনার মতামত দিতে এখানে ক্লিক করুন
অনলাইন জরিপ
অনলাইন জরিপআজকের প্রশ্নজঙ্গিবাদ নিয়ে মন্ত্রীদের প্রচারে আস্থাহীনতার সৃষ্টি হয়েছে_ বিএনপি নেতা আসাদুজ্জামান রিপনের এই বক্তব্য সমর্থন করেন কি?হ্যাঁনাজরিপের ফলাফল
আজকের ভিউ
পুরোনো সংখ্যা
2015 The Jaijaidin