পূর্ববর্তী সংবাদ
বিলুপ্তির পথে সিডি অ্যালবামসিডি অ্যালবাম প্রকাশে অনাগ্রহী হয়ে উঠেছেন শিল্পীরা। আর্থিক ক্ষতি কমাতে এখন অনেক শিল্পীই অনলাইনে অ্যালবাম প্রকাশ করছেন। শুধু তাই নয়, ব্যান্ডদল থেকে শুরু করে সিনিয়র শিল্পীরাও সিডি অ্যালবাম থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছেন। সেদিক থেকে সিডি অ্যালবাম এখন বিলুপ্তির পথে...বিনোদন রিপোর্ট সিডি অ্যালবাম প্রকাশে অনাগ্রহী হয়ে উঠেছেন শিল্পীরা। আর্থিক ক্ষতি কমাতে এখন অনেক শিল্পীই অনলাইনে অ্যালবাম প্রকাশ করছেন। শুধু তাই নয়, ব্যান্ডদল থেকে শুরু করে সিনিয়র শিল্পীরাও সিডি অ্যালবাম থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছেন। সেদিক থেকে সিডি অ্যালবাম এখন বিলুপ্তির পথে।
২০০২-২০০৩ সাল থেকে সিডি অ্যালবামের মাধ্যমে শ্রোতারা গান শোনা শুরু করেন। এরপর প্রায় একযুগ এ ধারায় গান প্রকাশের বিষয়টি বেশ জনপ্রিয় ছিল। তবে অডিও অঙ্গনের স্থবির অবস্থা দেখে শিল্পীরা সিডি অ্যালবামে গান প্রকাশে আগ্রহ ধীরে ধীরে হারিয়ে ফেলছেন। তাদের অনেকেই এখন আক্ষেপের সঙ্গে বলছেন, গান ছেড়ে দেবেন, কিন্তু সিডি আকারে অ্যালবাম প্রকাশ করবেন না। বিশেষ করে দেশের শীর্ষ ব্যান্ডদল মাইলস গত বছর বেশ কয়েকবার তাদের সর্বশেষ অ্যালবাম 'প্রতিচ্ছবি' সিডি আকারে প্রকাশের ঘোষণা দেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তা আর করেননি। এর কারণ সম্পর্কে জানতে চাইলে ব্যান্ডটির ভোকাল প্রধান শাফিন আহমেদ বলেন, 'সিডি আকারে অ্যালবাম প্রকাশ মানে জেনেশুনে বিষ পান করা। কারণ, এ মাধ্যমে অ্যালবাম প্রকাশ করে ক্ষতি ছাড়া লাভের চিন্তা ভুল করে করা যাচ্ছে না। তাই আমাদের এখন অনলাইননির্ভর হতে হচ্ছে। শিল্পীরা সচেতন থাকলে এ মাধ্যমে ক্ষতির সম্ভবনা নেই।'
এ ছাড়া গত বছর বিভিন্ন অডিও প্রতিষ্ঠান থেকে বেশির ভাগ অ্যালবাম অনলাইনে প্রকাশ পেয়েছে। এর আরেকটি কারণ হচ্ছে, সিঙ্গেল ট্র্যাক আকারে অ্যালবাম প্রকাশ। কারণ দু-একটি গানের অথবা ইপি অ্যালবাম সিডি প্রকাশ করে কোম্পানিগুলোর নিশ্চিতভাবে ক্ষতির সম্মুখীন হন। সেই ধারাবাহিকতায় গত বছর আজব রেকর্ডস থেকে প্রকাশিত বেশির ভাগ গানই অনলাইনে প্রকাশিত হয়েছে। আর এখন থেকে এ ধারা অব্যাহত রাখবেন বলে কোম্পানির বরাত দিয়ে জয় শাহরিয়ার জানিয়েছেন। এটাও ঠিক যে, সিডি অ্যালবামের অর্থ এখন কোম্পানিগুলো মিউজিক ভিডিওতে ব্যয় করতে বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করছেন। কারণ এর মাধ্যমে গান দর্শক-শ্রোতাদের কাছে সহজে পেঁৗছানো যাচ্ছে। এ ছাড়া এ মাধ্যমটি থেকে এখন অনেক বেশি আয়ও হচ্ছে।
সিডি অ্যালবামে অডিও কোম্পানিগুলো লাভের চেয়ে ক্ষতির সম্মুখীন বেশি হচ্ছে। বিশেষ করে গত দুই বছর ধরে কোম্পানিগুলো অনলাইনে অ্যালবাম প্রকাশে বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করে আসছেন। তাই সারা দেশে আশঙ্কাজনকহারে সিডির দোকান বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। এরই মধ্যে ৮০ ভাগেরও বেশি সিডির দোকান বন্ধ হয়ে গেছে। কোম্পানির সূত্রে জানা গেছে, ঢাকার বসুন্ধরা সিটিতে শীর্ষ ১২টি সিডির দোকান বন্ধ হয়ে গেছে। তার বদলে সেখানে এখন মোবাইল ফোনের ব্যবসা চলছে। সে কারণে অডিও কোম্পানিগুলোও সাহস পাচ্ছে না কোনো নতুন অ্যালবামের সিডি প্রকাশ করতে।
সন্দেহাতীত সত্য যে, ইউটিউবেই এখন শ্রোতারা বেশি গান শুনছেন ও দেখছেন। আর ওয়েলকাম টিউন, রিংটোন প্রভৃতি ব্যবসার প্রধান মাধ্যম হয়ে উঠেছে। তা ছাড়া এখন ইউটিউব থেকে আয়ও আসছে। সব মিলিয়ে অনেক শিল্পী নিজেই নিজের গান প্রকাশ করছেন অনলাইনে। এ বিষয়ে জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী আসিফ আকবর বলেন, সিডির দোকানই তো নেই বললেই চলে। প্রযুক্তির কল্যাণে এটা দুঃখজনক বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কারণ, একটা সিডি একজন শিল্পীর পরিচয় বহন করে। এটি সংগ্রহে রাখার বিষয়ও বটে। তার পরও আগে যেমন ক্যাসেট ছিল, সেটা হারিয়ে গেছে। এবার সিডি হারাচ্ছে। প্রযুক্তির কল্যাণে নতুন মাধ্যম আসছে। বিশ্বের সঙ্গে আমাদেরও এর সঙ্গে তাল মিলিয়ে এগিয়ে যেতে হবে। তবে আশার বিষয় হলো, গান শ্রোতারা এখন আগের চেয়ে বেশি শুনছে। শুধু মাধ্যমটা বদলেছে। আমি আশাবাদী, নতুন এ মাধ্যমে ইন্ডাস্ট্রির অবস্থা ভালোর দিকে যাবে।' এ প্রসঙ্গে ফাহমিদা নবী বলেন, 'আমি চাই গান যতদিন থাকবে, সিডি ততদিন থাকুক। কারণ সিডি গান সংগ্রহে রাখার সুন্দর একটি মাধ্যম। একজন শিল্পী ও শ্রোতার জন্য এ সংগ্রহটা জরুরি। তবে অস্বীকার করার অবকাশ নেই, এ মাধ্যমটি হারিয়ে যাচ্ছে। কারণ, মানুষ এখন অনলাইনে বসে গান শুনছে। তবে আমি চাইব অনলাইনে গান প্রকাশ পেলেও সিডি যেন বন্ধ না হয়।'
প্রসঙ্গত, ক্যাসেটের মাধ্যমে গান শোনার সময়টাই সংগীতশিল্পের সোনালী সময় ছিল। সেই সময় ফিতার ক্যাসেটের মাধ্যমে গান প্রকাশ পেত। বিশেষ করে ক্যাসেট মাধ্যম নব্বইয়ের দশকে ছিল সর্বাধিক জনপ্রিয়। অডিও ইন্ডাস্ট্রিও এ সময়টায় সর্বোচ্চ পর্যায়ে অবস্থান করেছিল। জনপ্রিয় ব্যান্ড ও একক শিল্পীদের গান সে সময় এ ক্যাসেটে বিক্রি হতো রেকর্ডসংখ্যক। একেকটি ক্যাসেট লাখ লাখ কপি বিক্রি হতো। ২০০০ সালের শেষের দিকে প্রকাশিত আসিফ আকবরের প্রথম একক 'ও প্রিয়া তুমি কোথায়' ক্যাসেট অ্যালবামটির ৬০ লাখ কপি বিক্রি হয়। অবশ্য এটি বাংলাদেশের বাংলা গানের ভুবনে সর্বোচ্চ ক্যাসেট বিক্রির রেকর্ড তৈরি করে। তবে ২০০২ সালের পর থেকে ক্যাসেট যুগের অবসান হতে থাকে। তার বদলে স্থান করে নেয় সিডি মাধ্যম।
 
পূর্ববর্তী সংবাদ
এই প্রতিবেদন সম্পর্কে আপনার মতামত দিতে এখানে ক্লিক করুন
অনলাইন জরিপ
অনলাইন জরিপআজকের প্রশ্নজঙ্গিবাদ নিয়ে মন্ত্রীদের প্রচারে আস্থাহীনতার সৃষ্টি হয়েছে_ বিএনপি নেতা আসাদুজ্জামান রিপনের এই বক্তব্য সমর্থন করেন কি?হ্যাঁনাজরিপের ফলাফল
আজকের ভিউ
পুরোনো সংখ্যা
2015 The Jaijaidin