পূর্ববর্তী সংবাদ
রাশিয়া বিশ্বকাপে নেই ইতালিক্রীড়া ডেস্ক সুইডেনের কাছে বাছাইয়ের পেস্ন অফে হেরে রাশিয়া বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে যাওয়ায় হতাশা ইতালির খেলোয়াড়দের চোখেমুখে -ওয়েবসাইটশঙ্কাটাই সত্যি হলো, রাশিয়া বিশ্বকাপের বাছাইপর্ব থেকে ছিটকে পড়ল ফুটবল পরাশক্তি ইতালি। সোমবার মিলানে শত চেষ্টায়ও প্রতিপক্ষ সুইডেনের জালে বল পাঠাতে পারেনি তারা। ফলে স্টকহোমে প্রথম লেগে ১-০ গোলের হারটাই কাল হয়েছে চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের। ৬০ বছর পর বিশ্বকাপে খেলার যোগ্যতা হারিয়েছে আজ্জুরিরা। তাদের ছিটকে ফেলে মূলপর্বে জায়গা করে নিয়েছে সুইডেন।
১৯৩০ সালে উরম্নগুয়েতে অনুষ্ঠিত প্রথম বিশ্বকাপে খেলেনি ইতালি। পরের দুই বিশ্বকাপে (১৯৩৪ ও ১৯৩৮) তারা হয়েছিল চ্যাম্পিয়ন। ১৯৫৮ সালের বিশ্বকাপ বাদে সব আসরেই নিয়মিত অংশ নিয়েছে আজ্জুরিরা। এই সময়ের মধ্যে তারা আরও দুবার চ্যাম্পিয়ন হয়েছে, দুবার হয়েছে রানার্সআপ। এমন একটা দলের বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে যাওয়া, ফুটবলপ্রেমীদের কাছে বড় ধাক্কা হয়েই এসেছে।
অতীতে বিশ্বকাপ জেতা সব দলই রাশিয়ার টিকিট কেটেছে, অপেক্ষা ছিল কেবল ইতালির জন্য। মিলানের সানসিরোতে সোমবার রাতে স্বাগতিকদের গোলশূন্য ড্রয়ে বাধ্য করে সেই অপেক্ষা আর ঘুচতে দেয়নি সুইডেন। তবে নিজেদের এক যুগ অপেক্ষার ঠিকই অবসান করেছে তারা। ২০০৬ সালে জার্মানি বিশ্বকাপে সবশেষ দেখা গিয়েছিল সুইডেনকে। এরপর প্রতিবারই তারা আটকে গেছে বাছাইপর্বে।
গতবার খুব কাছে পৌঁছে গিয়েছিল সুইডেন। কিন্তু বাছাইপর্বের এমনই এক পেস্ন-অফে ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো নামের মহামানবের কাছে নতী স্বীকার করতে হয়েছিল তাদের। ইব্রাহিমোভিচদের কাঁদিয়ে ব্রাজিল বিশ্বকাপে গিয়েছিল রোনালদোর পর্তুগাল। সুইডেন এবার সেই কান্নাটা ফিরিয়ে দিল ইতালিকে। শেষ বাঁশি বাজতেই নুয়ে পড়লেন কিয়েলিনি-বারজাগলিরা। ওই ম্যাচের পরই আন্ত্মর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় বলে দেয়া জিয়ানলুইজি বুফনের চোখেও ছিল জল।
পুরো ম্যাচে ৭৬ শতাংশ সময় বল দখলে রেখে সুইডেনের গোলমুখে ২৭টি শট নেয় ইতালি যার ছয়টি ছিল লক্ষ্যে। কিন্তু সাফল্য রয়ে যায় অধরাই। সুইডেন খেলেছে কৌশলী ফুটবল। যেকোনো মূল্যে ইতালিকে আটকে রাখার সেই কৌশলেই সফল তারা। ম্যাচে সুইডেনের রক্ষণভাগ যেমন পারফরম্যান্স দেখিয়েছে, সেটা প্রশংসারই দাবি রাখে। তবে প্রতিপক্ষের ডি-বক্সে স্বাগতিক ফরোয়ার্ড চিরো ইম্মোবিলে আর আলেসান্দো ফ্লোরেন্সিদের বারবার সুযোগ নষ্টের দৃশ্যও ছিল দৃষ্টিকটু।
বাছাইপর্ব থেকে ছিটকে পড়ার লজ্জা এড়াতে অন্ত্মত দুই গোলের ব্যবধানে জয় দরকার ছিল ইতালির। কঠিন সেই লক্ষ্য পূরণে বল দখলে রেখে শুরম্ন থেকে আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলেছে ভেনতুরার শিষ্যর। শুরম্নটা অবশ্য কিছুটা অগোছাল ছিল। তবে ধীরে ধীরে ছন্দে ফেরে আজ্জুরিরা। ম্যাচের ৪০তম মিনিটে দারম্নণ একটি সুযোগ তৈরি করে তারা। কিন্তু দুরূহ কোণ থেকে ইম্মোবিলের দারম্নণ শট পা দিয়ে ঠেকিয়ে দেন সুইডিশ গোলরক্ষক ওলসেন। এরপরও বলটা জালের দিকেই ছুটছিল। কিন্তু গোলমুখ থেকে বল ক্লিয়ার করেন ডিফেন্ডার ভিক্টর লিন্ডেলফ।
দ্বিতীয়ার্ধেও একইভাবে একের পর এক আক্রমণ করতে থাকে স্বাগতিকরা, যার প্রতিটিই ভেস্ত্মে যায় সুইডেনের রক্ষণে। দলটির গোলদ্বারে ওলসেন ছিলেন দুর্ভেদ্য প্রাচীর হয়ে। তাকে ফাঁকি দেয়ার যেন সাধ্য ছিল না ইতালির আক্রমণভাগের খেলোয়াড়দের। ৮৩তম মিনিটে ফ্লোরেন্সির ক্রসে পারোলোর দারম্নণ হেড ঝাঁপিয়ে পড়ে ঠেকিয়ে দেন ওলসেন। খানিক পর স্টেফান এল শারাউইয়ের আরেকটি শটও ফিরিয়ে দেন তিনি। এর খানিক পর বাজে শেষ বাঁশি। বিশ্বকাপে নাম লেখানোর উৎসবে মাতে সুইডিশরা। লজ্জায়-হতাশায় নুয়ে পড়ে ইতালিয়ানরা।
২০০৬ জার্মান বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পর গত দুই আসরে গ্রম্নপপর্ব পার হতে ব্যর্থ হয় ইতালি। আর এবার ছিটকে পড়লো বাছাইপর্ব থেকেই। নিশ্চিতভাবেই নিজেদের সমৃদ্ধ ফুটবল ইতিহাসে কঠিন সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে আজ্জুরিরা। দলের এমন ব্যর্থতার পর ক্ষমা চেয়েছেন কোচ ভেনতুরা, 'আমি ফলের জন্য ক্ষমা চাইছি। তবে আমরা কিন্তু খুব বাজে ফুটবল খেলিনি। আমরা চেষ্টা করেছি। কিন্তু সফল হইনি।'
কিন্তু বিশ্বকাপের মঞ্চে ইতালির মতো ফুটবল পরাশক্তি থাকবে না, এটাও মেনে নিতে কষ্ট হচ্ছে ভেনতুরার। তিনি বলেছেন, 'খেলার দৃষ্টিকোণ থেকে এটা খুবই বাজে ফল। মেনে নেয়ার মতো নয়। আমি হতাশ এবং দুঃখিত। আমাদের শেষ পর্যন্ত্ম সমর্থন দিয়ে যাওয়ার জন্য মিলানের সানসিরোর দর্শকদের আমি কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি।'
ভেনতুরা সেই যাই করম্নন না কেন, এই কোচের ইতালি অধ্যায় শেষ। এই ম্যাচেই ইতালি অধ্যায়ের ইতি টেনে দিয়েছেন জিয়ানলুইজি বুফন, ডি রোসি আর আন্দ্রেয়া বারজাগলিরা। আন্ত্মর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় বলে দিয়েছেন তারা। ম্যাচ শেষে আবেগময় কণ্ঠে দলপতি বুফন বলেছেন, 'আমি আমার জন্য নই, ইতালিয়ান ফুটবলের জন্য দুঃখিত। এভাবে শেষ করাটা আফসোসের।'
 
পূর্ববর্তী সংবাদ
এই প্রতিবেদন সম্পর্কে আপনার মতামত দিতে এখানে ক্লিক করুন
অনলাইন জরিপ
অনলাইন জরিপআজকের প্রশ্নজঙ্গিবাদ নিয়ে মন্ত্রীদের প্রচারে আস্থাহীনতার সৃষ্টি হয়েছে_ বিএনপি নেতা আসাদুজ্জামান রিপনের এই বক্তব্য সমর্থন করেন কি?হ্যাঁনাজরিপের ফলাফল
আজকের ভিউ
পুরোনো সংখ্যা
2015 The Jaijaidin
close