ইরান চুক্তি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রকে চ্যালেঞ্জ যুক্তরাজ্যেরযাযাদি ডেস্ক যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বরিস জনসনছয় বিশ্বশক্তির সঙ্গে ইরানের পরমাণু চুক্তির চেয়ে ভালো কোনো বিকল্প যুক্তরাষ্ট্রের হাতে থাকলে তা দেখানোর চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছেন যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বরিস জনসন। বেলজিয়ামের রাজধানী ব্রাসেলসে ইরান, ফ্রান্স, জার্মানি এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) অন্য দেশগুলোর পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সঙ্গে বৈঠকের পর জনসন বেশ জোর দিয়ে বলেন, চুক্তিটি ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র উন্নয়ন থেকে বিরত রেখেছে। আর তখনই তিনি যুক্তরাষ্ট্রকে ওই চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেন। আর যুক্তরাষ্ট্র সরে গেলে ইরানও পরমাণু চুক্তি প্রত্যাহারের হুমকি দিয়েছে। সংবাদসূত্র : বিবিসি
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের পরমাণু চুক্তিটি হয় সংশোধন করা নয়তো এটি বাতিল করতে চান। কিন্তু ইউরোপের শক্তিধর দেশগুলো তাকে চুক্তিটি বাতিল না করার আহ্বান জানিয়ে বলেছে, ওই চুক্তির কারণেই বিশ্ব নিরাপদ আছে।
২০১৫ সালে বিশ্বের শক্তিধর ছয় দেশ যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, চীন, রাশিয়া, জার্মানি ও ফ্রান্সের সঙ্গে স্বাক্ষরিত ওই পরমাণু চুক্তির আওতায় ইরান তাদের পারমাণবিক প্রকল্পের কাজ কমানোর প্রতিশ্রম্নতি দিয়েছিল। বিভিন্ন বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞা ধীরে ধীরে শিথিল করা হবে- এই শর্তেই ইরান তাদের পরমাণবিক কর্মসূচি অন্ত্মত ১০ বছরের জন্য কমাতে রাজি হয়। কিন্তু প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর থেকে ডোনাল্ড ট্রাম্প চুক্তিটিকে ত্রম্নটিপূর্ণ আখ্যা দিয়ে এটি বাতিলের হুমকি দিচ্ছেন এবং ইরান এটি নানাভাবে লঙ্ঘন করছে বলেও অভিযোগ করে আসছেন।
গত বছর অক্টোবরে ইরান 'পারমাণবিক চুক্তি মেনে চলছে' এ সংক্রান্ত্ম সার্টিফিকেট বা সনদ কংগ্রেসকে দিতে অস্বীকৃতি জানান ট্রাম্প। সেই সঙ্গে দেশটির বিরম্নদ্ধে নতুন করে কঠোর নীতি ঘোষণা করেন। যা ওয়াশিংটনকে বাকি পাঁচ দেশের মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। তাদের যুক্তি, জাতিসংঘ প্রস্ত্মাবনা অনুযায়ী, একটি বহুপক্ষীয় চুক্তি ওয়াশিংটন একতরফাভাবে বাতিল করতে পারে না।
ব্রাসেলসে বুধবার ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত দেশগুলোর পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠকে যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বরিস জনসন বলেন, 'ইরান ওই চুক্তি পুরোপুরি মেনে চলছে।' ট্রাম্পের বিরোধিতাকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে তিনি বলেন, 'ইরানের পরমাণু অস্ত্র তৈরির পথে অগ্রসর হওয়া রম্নখতে এর চেয়ে ভালো কোনো বিকল্প কেউ দিতে পারবে বলে আমার মনে হয় না।' 'জয়েন্ট কম্প্রিহেনসিভ পস্ন্যান অব অ্যাকশন' (জেসিপিওএ) শীর্ষক ওই চুক্তিটিকে এক উলেস্নখযোগ্য কূটনৈতিক অর্জন বলে বর্ণনা করেছেন জনসন।
তিনি বলেন, 'যারা জেসিপিওএ- এর বিরোধিতা করছে তাদের অবশ্যই এর চাইতে ভালো কোনো সামাধানের পথ দেখাতে হবে। কারণ, আমরা এখন পর্যন্ত্ম এর চেয়ে ভালো উপায় খুঁজে পাইনি।'
ইইউ'র পররাষ্ট্রনীতিবিষয়ক প্রধান ফেডেরিকা মঘারিনিও পরমাণু চুক্তির পক্ষে কথা বলেছেন। তিনি বলেন, 'চুক্তি কাজ করছে। চুক্তির মূল লক্ষ্য ছিল ইরানের পরমাণু প্রকল্পের কাজ তদারক করা এবং তার ওপর গভীর নজরদারি চলছে, যা ঠিকঠাক মতো হচ্ছে। একে কার্যকর রাখতে আন্ত্মর্জাতিক ঐক্য প্রয়োজন।'
 
এই প্রতিবেদন সম্পর্কে আপনার মতামত দিতে এখানে ক্লিক করুন
অনলাইন জরিপ
অনলাইন জরিপআজকের প্রশ্নজঙ্গিবাদ নিয়ে মন্ত্রীদের প্রচারে আস্থাহীনতার সৃষ্টি হয়েছে_ বিএনপি নেতা আসাদুজ্জামান রিপনের এই বক্তব্য সমর্থন করেন কি?হ্যাঁনাজরিপের ফলাফল
আজকের ভিউ
পুরোনো সংখ্যা
2015 The Jaijaidin