পদার্থ ও ফিন্যান্সের প্রশ্নপত্রও ফাঁসযাযাদি রিপোর্ট নানা ব্যবস্থা নেয়ার পরও ঠেকানো যায়নি প্রশ্নফাঁস। মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত হয়েছে পদার্থবিজ্ঞান, ফিন্যান্স ও ব্যাংকিং এবং বাংলাদেশ ও বিশ্বসভ্যতা বিষয়ের পরীক্ষা। এর মধ্যে পরীক্ষা শুরম্নর আগেই হোয়াটসঅ্যাপে পদার্থবিজ্ঞান, ফিন্যান্স ও ব্যাংকিংয়ের প্রশ্নফাঁসের অভিযোগ পাওয়া গেছে। যা পরীক্ষার প্রশ্নের সঙ্গে হুবহু মিল রয়েছে।
গতকাল সকাল ৮টা ৫৮ মিনিটে পদার্থবিজ্ঞানের বহুনির্বচনি অভীক্ষার 'গ সেট'-এর প্রশ্ন উত্তরপত্রসহ হোয়াটসঅ্যাপে পাওয়া গেছে। এরপর তা অন্যান্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। আর পরীক্ষা শুরম্নর কিছুক্ষণ পরই সকাল ১০টা ৫ মিনিটে ফিন্যান্স ও ব্যাংকিং-এর 'ঘ' সেট'-এর প্রশ্নপত্রও পাওয়া যায় হোয়াটসঅ্যাপ গ্রম্নপে। এ নিয়ে এখন পর্যন্ত্ম অনুষ্ঠিত ৯টি বিষয়ের প্রশ্নই ফাঁসের অভিযোগ পাওয়া গেল।
পরীক্ষা শেষে এই দুই সেট প্রশ্নের সঙ্গে মিলিয়ে ফাঁস হওয়া সেটের হুবহু মিল পাওয়া যায়।
এ বিষয়ে ঢাকা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক তপন কুমারের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।
১ ফেব্রম্নয়ারি বাংলা প্রথমপত্রের বহুনির্বচনি অভীক্ষার 'খ' সেট পরীক্ষার প্রশ্ন ও ফেসবুকে ফাঁস হওয়া প্রশ্নের হুবহু মিল ছিল। পরীক্ষা শুরম্নর একঘণ্টা আগেই তা ফেসবুকে পাওয়া যায়।
৩ ফেব্রম্নয়ারি সকালে পরীক্ষা শুরম্নর প্রায় ঘণ্টাখানেক আগে বাংলা দ্বিতীয় পত্রের নৈর্ব্যক্তিক (বহুনির্বচনি) অভীক্ষার 'খ' সেটের উত্তরসহ প্রশ্নপত্র পাওয়া যায় ফেসবুকে। যার সঙ্গে অনুষ্ঠিত হওয়া প্রশ্নপত্রের হুবহু মিল পাওয়া যায়।
৫ ফেব্রম্নয়ারি পরীক্ষা শুরম্নর অন্ত্মত দুই ঘণ্টা আগে সকাল ৮টা ৪ মিনিটে ইংরেজি প্রথম পত্রের 'ক' সেটের প্রশ্ন ফাঁস হয়। যার সঙ্গে অনুষ্ঠিত পরীক্ষার প্রশ্নপত্রের হুবহু মিল পাওয়া গেছে।

৭ ফেব্রম্নয়ারি বুধবার পরীক্ষা শুরম্নর অন্ত্মত ৪৮ মিনিট আগে সকাল ৯টা ১২ মিনিটে ইংরেজি দ্বিতীয় পত্রের 'খ' সেটের গাঁদা প্রশ্নপত্রটি হোয়াটসঅ্যাপের একটি গ্রম্নপে পাওয়া গেছে। যা অনুষ্ঠিত হওয়া প্রশ্নপত্রের সঙ্গে হুবহু মিলে গেছে।
৮ ফেব্রম্নয়ারি হোয়াটসঅ্যাপের একটি গ্রম্নপে ইসলাম ও নৈতিক শিক্ষার বহুনির্বচনি অভীক্ষার 'খ' সেটের চাঁপা প্রশ্নপত্রটি পাওয়া যায়। এটিও অনুষ্ঠিত পরীক্ষার প্রশ্নপত্রের সঙ্গে হুবহু মিলে গেছে।
গত ১০ ফেব্রম্নয়ারি সকাল ৮টা ৫৯ মিনিটে হোয়াটসঅ্যাপের একটি গ্রম্নপে গণিতের 'খ-চাঁপা' সেটের প্রশ্নপত্রটি পাওয়া যায়, যা অনুষ্ঠিত পরীক্ষার প্রশ্নপত্রের সঙ্গে হুবহু মিলে যায়।
এ ছাড়া আইসিটি বিষয়ের প্রশ্নপত্র গত রোববার (১১ ফেব্রম্নয়ারি) সকাল ৮টা ৫১ মিনিটে হোয়াটসঅ্যাপের একটি গ্রম্নপে আইসিটির 'ক সেট' প্রশ্ন পাওয়া যায়। আর সকাল ৯টা ৩ মিনিটে 'গ সেট'র প্রশ্নও ফাঁস হয়।

এক ঘণ্টা আগে বাসভর্তি
শিক্ষার্থীর হাতে প্রশ্ন
এদিকে এসএসসির পদার্থবিজ্ঞান পরীক্ষার আগে চট্টগ্রামের এক স্কুলের পরীক্ষার্থীদের মোবাইল ফোনে পাওয়া গেছে ফাঁস হওয়া প্রশ্ন যা পরীক্ষার আসল প্রশ্নেও মিলে গেছে।
বন্দরনগরীর ওয়াসা মোড়ে পরীক্ষার আগে দাঁড়িয়ে থাকা শ্যামলী পরিবহনের একটি বাসে অভিযান চালিয়ে ওই প্রশ্ন পাওয়া যায় বলে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সৈয়দ মোরাদ আলী জানান।
ওই বাসে পটিয়া আইডিয়াল স্কুলের ৫০ জন পরীক্ষার্থী ছিল। বাংলাদেশ মহিলা সমিতি (বাওয়া) উচ্চবিদ্যালয় কেন্দ্রে পরীক্ষায় বসার জন্য তারা ওয়াসার মোড়ে বাসের ভেতরে অপেক্ষা করছিল।
প্রাথমিকভাবে ওই শিক্ষার্থীদের পরীক্ষায় বসতে দিয়ে তাদের মোবাইল ফোনে পাওয়া প্রশ্ন মিলিয়ে দেখা হয়েছে বলে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট জানিয়েছেন।
তিনি বলেন, 'শিক্ষার্থীদের হাতে পাওয়া পাঁচটি ফোনেই পদার্থ বিজ্ঞানের এমসিকিউ প্রশ্ন ছিল। সেসব প্রশ্ন মিলে গেছে। আমরা তাদের বিরম্নদ্ধে ব্যবস্থা নেব।'
নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোরাদ আলী জানান, মঙ্গলবার সকালে পরীক্ষা শুরম্নর প্রায় এক ঘণ্টা আগে ওয়াসা মোড়ে একটি বাসে পরীক্ষার্থীদের অপেক্ষা করতে দেখে তাদের সন্দেহ হয়। বাসে উঠে তারা দেখতে পান, শিক্ষার্থীরা কোনো কিছু পড়ছে। পরে তাদের তলস্নাশি করে বেশ কিছু মোবাইল ফোন পাওয়া যায়।
'সেসব ফোনে কিছু প্রশ্নের সফট কপি পাই আমরা। সেগুলো তারা হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে পেয়েছে বলে আমাদের জানিয়েছে।'
চট্টগ্রামের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা) মো. হাবিবুর রহমান এবং চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের কর্মকর্তারা বলেছেন, পরীক্ষা পরিচালনার বিধিমালা অনুযায়ী তারা সংশিস্নষ্ট শিক্ষার্থীদের বিষয়ে ব্যবস্থা নেবেন।

পরীক্ষায় বহিষ্কারের পর
দোতলা থেকে লাফ
সাভার প্রতিনিধি জানান, সাভারের অধরচন্দ্র উচ্চবিদ্যালয় কেন্দ্রে এসএসসির বহুনির্বচনি পরীক্ষা চলার সময় এক ছাত্রীকে নকল করার অভিযোগে বহিষ্কার করা হয়। ঘটনার পরপরই ওই ছাত্রী কেন্দ্রের ভবনের দ্বিতীয় তলা থেকে লাফিয়ে পড়ে আত্মহত্যার চেষ্টা চালায়। এখন সে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
মঙ্গলবার সকালে এ ঘটনা ঘটে। ওই ছাত্রীকে সাভার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপেস্নক্সে ভর্তি করা হয়েছে।
কেন্দ্র সচিব এবং বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক পিটার গোমেজের ভাষ্য, আজ পদার্থবিদ্যা বিষয়ের বহুনির্বচনি পরীক্ষা চলার সময় সাভারের একটি বালিকা বিদ্যালয়ের এক ছাত্রী আগে থেকে হাতের মধ্যে লিখে আনা উত্তর দেখে দেখে পরীক্ষা দিচ্ছিল। বিষয়টি দেখে ফেলেন কেন্দ্রের দেখভালের দায়িত্বে থাকা সাভার উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মেজবা উদ্দীন। তিনি ওই ছাত্রীর হাতে লিখে আনা উত্তরের সঙ্গে প্রশ্নপত্রের উত্তরের মিল পেয়ে তাকে বহিষ্কার করেন। এ সময় জিজ্ঞাসাবাদে ওই ছাত্রী জানায়, কুষ্টিয়ায় তার এক বন্ধুর কাছ থেকে ফেসবুকের মাধ্যমে এই উত্তরপত্র সংগ্রহ করেছে সে। এটি বলে সে হঠাৎ করেই কেন্দ্রের দোতলা থেকে লাফিয়ে পড়ে। পরে আহত অবস্থায় তাকে সাভার উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে যান কেন্দ্রের দায়িত্বরত কর্মকর্তারা। ওখানেই সে এখন চিকিৎসাধীন। তার কোমর ও বাঁ পায়ে আঘাত লেগেছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে মেজবা উদ্দীন বলেন, 'আমি প্রথমে মেয়েটিকে নকল করতে দেখি। দেখে অন্য শিক্ষকদেরও ডাকি। দেখা যায়, তার হাতে লেখা উত্তরপত্রের সঙ্গে পরীক্ষার প্রশ্নের উত্তরের হুবহু মিল রয়েছে। মিল পাওয়ার পর বিধি অনুযায়ী ওই ছাত্রীকে বহিষ্কার করা হয়।'
 
এই প্রতিবেদন সম্পর্কে আপনার মতামত দিতে এখানে ক্লিক করুন
প্রথম পাতা -এর আরো সংবাদ
অনলাইন জরিপ
অনলাইন জরিপআজকের প্রশ্নজঙ্গিবাদ নিয়ে মন্ত্রীদের প্রচারে আস্থাহীনতার সৃষ্টি হয়েছে_ বিএনপি নেতা আসাদুজ্জামান রিপনের এই বক্তব্য সমর্থন করেন কি?হ্যাঁনাজরিপের ফলাফল
আজকের ভিউ
পুরোনো সংখ্যা
2015 The Jaijaidin
close