জিডি নেয়নি পুলিশকোটা সংস্কার আন্দোলনের নেতাদের হত্যার হুমকিএ ঘটনায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে বুধবার ফের উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। হুমকির পর নিরাপত্তা চেয়ে শাহবাগ থানায় জিডি করতে গেলেও পুলিশ তা গ্রহণ করেনিযাযাদি রিপোর্ট হত্যার হুমকি পাওয়া কোটা সংস্কার আন্দোলনের নেতা বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের দুই যুগ্ম আহ্বায়ক রাশেদ খান ও নুরম্নল হক নূর -ফাইল ছবিকোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের পস্নাটফর্ম বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের নেতাদের হত্যার হুমকি দেয়া হয়েছে। এ ঘটনায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে বুধবার ফের উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। হুমকির পর নিরাপত্তা চেয়ে শাহবাগ থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করতে গেলেও পুলিশ তা গ্রহণ করেনি।
এদিকে বুধবার তৃতীয় দিনের মতো বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের ডাকা ক্লাস বর্জন কর্মসূচি অব্যাহত ছিল। পরীক্ষার ওপর থেকে স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার করলেও বেশিরভাগ বিভাগেই কোনো পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়নি। সকালের দিকে ক্যাম্পাস শান্ত্ম থাকলেও আন্দোলনের নেতাদের হত্যার হুমকিকে কেন্দ্র করে দুপুরের পর ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ মিছিল বের করেন কয়েকশ' শিক্ষার্থী। এ সময় তারা ক্যাম্পাসের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করেন। এসব ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকেও গতকাল রাত ৮টায় এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত্ম কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। আন্দোলনকারীরা বিশ্ববিদ্যালয় প্রক্টরের কাছে লিখিত অভিযোগ করলেও প্রক্টর অফিস থেকে অভিযোগ গ্রহণ করা ছাড়া কিছুই বলা হয়নি। এ বিষয়ে প্রক্টরের সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করলেও তিনি সাংবাদিকদের সঙ্গে কোনো কথা বলেননি। তবে তার অফিস থেকে জানানো হয় অভিযোগ রাখা হয়েছে। ভেবে-চিন্ত্মে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
জানা গেছে, গত মঙ্গলবার রাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মুহসীন হলে কোটা সংস্কার আন্দোলনের মুখপাত্র এবং যুগ্ম আহ্বায়ক নুরম্নল হক নূরের ১১৯নং কক্ষে পিস্ত্মল নিয়ে গিয়ে 'মাথায় গুলি করে হত্যার হুমকি' দেয়া হয় বলে বুধবার আনুষ্ঠানিকভাবে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়। তারা অভিযোগ করেন, কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি ইমতিয়াজ উদ্দিন বাপ্পি, মুহসীন হল ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান সানী, চারম্নকলা অনুষদ ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ফাহিম হাসান লিমন ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জ্যোতি তাদের হত্যার হুমকি দিয়েছেন। এ ঘটনার প্রতিবাদে বুধবার দুপুর ১২টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে থেকে বিক্ষোভ মিছিল বের করেন আন্দোলনকারীরা। মিছিলটি ক্যাম্পাসের গুরম্নত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, হুমকি প্রদান করা ছাত্রলীগের এ চার নেতাই কোটা সুবিধার আওতায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়েছেন এবং বর্তমানে কোটার ভিত্তিতে চাকরি নেয়ার চেষ্টা করছেন। আর এ কারণে কোটাবিরোধী আন্দোলন শুরম্নর প্রথম থেকেই এরা এ আন্দোলনের বিরম্নদ্ধে সক্রিয় ছিলেন। এমনকি কোটা সংস্কার আন্দোলনের প্রধান যোগাযোগের মাধ্যম হিসেবে ফেসবুকে যে গ্রম্নপটিকে ব্যবহার করছে আন্দোলনকারীরা সেটি হ্যাক করার অভিযোগও উঠেছে এ চার জনের বিরম্নদ্ধে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আন্দোলনকারীদের বিরম্নদ্ধে যে প্রপাগা-া ছড়ানো হচ্ছে তারও নেতৃত্বে রয়েছেন এরা। তবে ছাত্রলীগের অন্য নেতারা এর বিরম্নদ্ধে সমালোচনায় মুখর হয়েছেন। যদিও সংগঠনটির কেন্দ্রীয় পর্যায় থেকে এর বিরম্নদ্ধে আনুষ্ঠানিক কোনো বিবৃতি বা বক্তব্য দেয়া হচ্ছে না।
হত্যার হুমকির বিষয়ে নুরম্নল হক নূর সাংবাদিকদের বলেন, 'কেন্দ্রীয় কমিটির (কোটা সংস্কার) যুগ্ম আহ্বায়ক রাশেদ তার রম্নমে ছিলেন। এর মধ্যে চারম্নকলা অনুষদের ছাত্রলীগের সেক্রেটারি লিমন ফোন দিয়ে থ্রেট দেন যে, হল থেকে নামিয়ে দেয়া হবে। পিটিয়ে নামিয়ে দেয়া হবে। তারা নাকি সরকারের বিরম্নদ্ধে আন্দোলন করছেন।' তিনি আরও বলেন, 'এক পর্যায়ে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি ইমতিয়াজ উদ্দিন বাপ্পি বলেন, 'ছাত্রদলের সুলতান সালাউদ্দিন টুকুকে নিজের হাতে মেরেছি। তোদের মতো পোলাপানকে খেয়ে নিতে দুই সেকেন্ডও লাগে না। তোগোরে গুলি কইরা মারি নাই শুধু কিছু সিনিয়রের নিষেধ ছিল। তবে তোরা বাঁচবি না। কিছুদিন পর প্রজ্ঞাপনটা জারি হোক। দেখি তোদের কোন বাপ ঠেকায়।'
তিনি আরও বলেন, 'তার ১০ মিনিট পর কক্ষে পিস্ত্মল নিয়ে এসে তারা বলে, তোরা মা-বাবার কাছ থেকে দোয়া নিয়ে নে। তোরা বাঁচবি না। তোদের গুলি করে মারব। আমাকে মারতেও আসে। তারা আমার মোবাইলও নিয়ে যায়। যাতে আমি রেকর্ড করতে না পারি। আমরা এখন জীবননাশের হুমকির মুখে আছি।' হুমকির বিষয়ে আন্দোলনের আহ্বায়ক হাসান আল মামুন যায়যায়দিনকে বলেন, 'মঙ্গলবার রাতে যারা আমাদের সহযোদ্ধাদের হত্যার হুমকি দিয়েছে তারা সবাই কোটাধারী। তারা বিভিন্ন সময় এই আন্দোলনকে বিতর্কিত করার চেষ্টা করেছেন। আমাদের শিবির বানাতে ফেসবুকে গ্রম্নপ খুলে আমাদের বিরম্নদ্ধে আজেবাজে পোস্ট দিয়েছেন। আমাদের ছবি ও নাম ব্যবহার করে আইডি খুলে আমাদের নামে নোংরা পোস্ট দিয়ে আন্দোলনকে বিতর্কিত করার চেষ্টা করেছেন। তাই আমরা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও সরকারের কাছে অনুরোধ জানাব তাদের দ্রম্নত বিচারের আওতায় আনা হোক।'
আরেক যুগ্ম আহ্বায়ক রাশেদ খান বলেন, 'মঙ্গলবার ছাত্রলীগের কোটাধারী কিছু নেতা আমাদের হুমকি দেয়ার পর আমরা সে কথা মুহসীন হলের প্রভোস্টকে জানাই। পরে প্রভোস্ট স্যার সারারাত আমাদের সঙ্গে রম্নমে অবস্থান করেন। আমরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।' তবে হত্যার হুমকির অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্তরা। ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি ইমতিয়াজ বাপ্পি বলেন, 'ফাহিমের ফেসবুক আইডিতে রিপোর্ট করার বিষয়ে জানতে গিয়েছিলাম। এ সময় কিছু কথা কাটাকাটি হয়েছে।' এ ঘটনার পর ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি সাইফুজ্জামান সোহাগ এবং সাধারণ সম্পাদক জাকির হোসেনের ফোন নম্বরে একাধিক বার ফোন দিলেও তারা ফোন রিসিভ করেননি।
এদিকে হত্যার হুমকিতে জিডি করতে গেলে তা নেয়নি শাহবাগ থানা পুলিশ। আন্দোলনের নেতৃত্বে থাকা চার যুগ্ম আহ্বায়কের নিরাপত্তা চেয়ে ৪টি ও সব আন্দোলনকারীর নিরাপত্তা চেয়ে ১টি জিডি করতে বুধবার দুপুরে শাহবাগ থানায় যায় তারা। কিন্তু তা নেয়া হয়নি বলে জানায় তারা। এ বিষয়ে জানতে চাইলে শাহবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবুল হাসান এ বিষয়ে বলেন, 'তাদের (আন্দোলনকারী) অভিযোগ রাখা হয়েছে। এটি শুধু থানার বিষয় নয়, বিশ্ববিদ্যালয়েরও। তাই আমরা বিশ্ববিদ্যালয় ও সরকারের উচ্চমহলের সঙ্গে কথা বলে সিদ্ধান্ত্ম নেব।'
 
এই প্রতিবেদন সম্পর্কে আপনার মতামত দিতে এখানে ক্লিক করুন
প্রথম পাতা -এর আরো সংবাদ
অনলাইন জরিপ
অনলাইন জরিপআজকের প্রশ্নজঙ্গিবাদ নিয়ে মন্ত্রীদের প্রচারে আস্থাহীনতার সৃষ্টি হয়েছে_ বিএনপি নেতা আসাদুজ্জামান রিপনের এই বক্তব্য সমর্থন করেন কি?হ্যাঁনাজরিপের ফলাফল
আজকের ভিউ
পুরোনো সংখ্যা
2015 The Jaijaidin
close