পরবর্তী সংবাদ
পটুয়াখালীতে মুগ ডালের বাম্পার ফলনআব্দুস সালাম আরিফ, পটুয়াখালী পটুয়াখালীর একটি ফসলের মাঠে মুগ ডাল তোলায় ব্যস্ত্ম একটি কৃষক পরিবার -যাযাদিপটুয়াখালীতে এবার মুগডালের বাম্পার ফলন হয়েছে। তাই তো খুশিমনে কৃষকরা এখন পরিবার-পরিজন নিয়ে মুগডাল তোলায় ব্যস্ত্ম সময় পার করছেন। এ ডাল চাষে কৃষি বিজ্ঞানীরা সার্বিক সহযোগিতা করায় এমন সফলতা মিলেছে বলে জানান কৃষকরা। এ ছাড়া ফসলের উৎপাদন খরচ কমিয়ে কিভাবে অধিক ফসল ঘরে তোলা- যায় তার কৌশল নির্ধারণেও কৃষি বিজ্ঞানীরা কাজ করছে বলে জানান সংশিস্নষ্টরা। বর্তমান বছরে পটুয়াখালী জেলায় প্রায় ৭২ হাজার হেক্টর জমিতে মুগডালের চাষ হয়েছে। এর অধিকাংশ জমিতেই বারি মুগ-৬ জাতের ডাল আবাদ করা হয়েছে বলে জানান জেলা কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগ। এ ছাড়া দেশে যে পরিমাণ মুগডাল উৎপাদন হয়- তার ৬০ শতাংশ ডাল উৎপাদন করে পটুয়াখালীর কৃষকরা। এ অঞ্চলের জমি ডাল চাষে উপযুক্ত হওয়ায় এবং ফলন ভালো পাওয়া কৃষক মুগডাল চাষে বাড়তি উৎসাহ বোধ করেন। তবে এবার মুগডাল চাষকে আরও সহজ করতে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনিস্ট্রিটিউট (বারি) ডাল বীজ বপন যন্ত্র আবিষ্কার করেছে। এই যন্ত্র ব্যবহার করে জেলার বেশ কয়েকটি স্থানে ডালের বীজ বপন করা হয়েছে। কৃষি বিজ্ঞানীরা বলছেন, এই যন্ত্র দিয়ে কৃষক যেমন দ্রম্নত বীজ বপন করতে পারছে, তেমনি উৎপাদন খরচ কমার পাশপাশি ফলনও বেশি পাচ্ছে। কৃষি বিজ্ঞানী ড. আক্কাস আলী বলেন, 'ডাল জাতীয় ফসল চাষ করলে গাছের শেকড়ে এক ধরনের গুটি তৈরি হয়। যার ফলে পরবর্তী ফসলে ইউরিয়ার ব্যবহার কম লাগে এবং জমির উর্বরতা শক্তি বৃদ্ধি পায়।' পটুয়াখালী জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক হৃদয়েশ্বর দত্ত জানান, মুগডাল এখন পটুয়াখালী জেলার কৃষকদের কাছে জনপ্রিয় একটি ফসল। প্রতি বছর যেমন আবাদযোগ্য জমির পরিমাণ বাড়ছে তেমনি গত কয়েক বছর যাবত এই জেলা থেকে জাপানে মুগডাল রপ্তানি হচ্ছে। বর্তমান বছরেও প্রায় এক হাজার মেট্রিক টন মুগডাল রপ্তানি করা হবে। বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনিস্ট্রিটিউটের সরেজমিন গবেষণা বিভাগের পটুয়াখালী জেলার প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মো. শহিদুল ইসলাম খান জানান, কৃষকরা নিয়ম মেনে চাষাবাদ করায় এবং আবহাওয়া ভালো থাকায় এ বছর বিঘা প্রতি পাঁচ থেকে ছয় মণ পর্যন্ত্ম মুগডাল পাওয়া যাবে। এ ছাড়া প্রতি মণ ডাল বর্তমান বাজারে ১ হাজার ৯০০ থেকে ২ হাজার টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। সামনের দিনগুলোতে এই মূল্য আরও বাড়বে বলেও জানান তিনি। বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনিস্ট্রিটিউটের সরেজমিন গবেষণা বিভাগের মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা আ সা ম মাহাববুর রহমান জানান, এক সময়ে পটুয়াখালীসহ দক্ষিণ অঞ্চলের কৃষকরা তাদের জমিতে শুধু আমন ধান আবদ করত। কিন্তু বর্তমানে চাষাবাদের নতুন নতুন কৌশল ও জাত উদ্ভাবিত হওয়ায় কৃষকরা দুই থেকে তিনটি ফসল করতে পারছে। এমনই একটি ফসল মুগডাল। বর্তমান বছরে এই জেলার কৃষকরা বারি মুগ-৬ জাতের ডাল আবাদ করে ভালো ফলন পেয়েছে। এর ফলে দেশের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেও এই অঞ্চলের কৃষকরা গুরম্নত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারছে বলে মন্ত্মব্য করেন এই কৃষি বিজ্ঞানী।

 
পরবর্তী সংবাদ
এই প্রতিবেদন সম্পর্কে আপনার মতামত দিতে এখানে ক্লিক করুন
স্বদেশ -এর আরো সংবাদ
অনলাইন জরিপ
অনলাইন জরিপআজকের প্রশ্নজঙ্গিবাদ নিয়ে মন্ত্রীদের প্রচারে আস্থাহীনতার সৃষ্টি হয়েছে_ বিএনপি নেতা আসাদুজ্জামান রিপনের এই বক্তব্য সমর্থন করেন কি?হ্যাঁনাজরিপের ফলাফল
আজকের ভিউ
পুরোনো সংখ্যা
2015 The Jaijaidin
close