logo
  • Mon, 19 Nov, 2018

  রণেশ মৈত্র   ২৬ জুলাই ২০১৮, ০০:০০  

অথর্বহ জাতীয় নিবার্চনের প্রত্যাশায়

নিবার্চনে কালো টাকার বন্যা বইতে থাকে। এগুলো চলে ধমের্র নামে সূ² প্রচারণাও। নেমে আসে ধমীর্য় ও জাতিগত সংখ্যালঘু সম্প্রদায়গুলোর ওপর নিযার্তন। ফলে নিবার্চন অবাধ, শান্তিপূণর্ ও নিরপেক্ষ হয় না। এ ক্ষেত্রে কঠোরভাবে টাকার মেলা, পেশি শক্তির ব্যবহার, ধমের্র নামে প্রচারণা ও সংখ্যালঘু নিযার্তন অবশ্যই বন্ধ করতে হবে। কোথাও এমন কোনো ঘটনা ঘটলে তা প্রতিরোধে কাযর্কর ব্যবস্থা নিবার্চন কমিশনকে তাৎক্ষণিকভাবেই নিতে হবে। এ ব্যাপারে কালবিলম্ব হলে পরবতীের্ত সুষ্ঠু নিবার্চন পরিচালনার পথে অনেক অনাকাক্সিক্ষত বাধা-বিঘেœর সম্মুখীন হতে পারে।

অথর্বহ জাতীয় নিবার্চনের প্রত্যাশায়
অতীতে একবার বা দুবার আগামী নিবার্চন নিয়ে লিখেছিলাম। তখনো নিবার্চন কমিশন রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সংলাপ শুরু করেন নি। ইতোমধ্যে যেই সংলাপ শেষ হয়েছে। অনেকগুলো নতুন রাজনৈতিক দল নিবন্ধিত হওয়ার জন্য নিবার্চন কমিশনে তাদের আবেদনপত্র জমা দিয়েছেনÑ কাকে কাকে নিবন্ধন দেয়া হবে তা আজও অবশ্য জানা যায়নি।

যা হোক, বড় বড় রাজনৈতিক দল যারা ক্ষমতায় আছেন বা ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হতে চান তাদের সক্রিয়তা চোখে পড়ার মতো। যদিও মামলা মোকদ্দমার জজির্রত বিএনপি অনেকটাই যেন হতবিহŸল ও শক্তিহীন জামায়াতে ইসলামী দলটি বিস্ময়করভাবে আজও বে-আইনি ঘোষিত হয়নি বলে তারা দলীয়ভাবে আজও বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটে অনুষ্ঠানিকভাবেই থাকতে পারছে। তবে যেহেতু তারা নিবার্চন কমিশনের নিবন্ধন হারিয়েছে তাই হয়তো তারা দঁাড়িপাল্লা প্রতীক নিয়ে নিবার্চনী প্রতিদ্ব›িদ্বতা করতে পারবে না। তাই ধানের শীষ প্রতীক নিয়েই তারা নিবার্চন লড়তে প্রস্তুতি নিচ্ছে বলেই প্রতীয়মান হয়।

নিবার্চনে অংশগ্রহণ করতে সব দলই ইচ্ছুক। কিন্তু যে নিবার্চন অবশ্যই হতে হবে স্বাধীন ও নিরপেক্ষ। অংশগ্রহণকারী দলগুলোকে নিবার্চনের সব সুযোগ-সুবিধা সমভাবে দিতে হবে, এমন দাবিও সংলাপে সব দলাই তুলে ধরেছেন।

কিছু দিন দিব্যি বিতকর্ চলল দলীয় সরকারের অধীনে নিবার্চনের অংশ নেয়া না নেয়া নিয়ে। সরকারি দলের সবাই এক বাক্যে বলেছেনÑশেখ হাসিনার নেতৃত্বেই নিবার্চন অনুষ্ঠিত হবে। বিএনপি বলেছে, তার নেতৃত্বে নিবার্চন হলে তা নিরপেক্ষ হবে না এবং ফলে ওই নিবার্চনে তাদের অংশগ্রহণ হবে অনিশ্চিত। তারা নিবার্চনের পূবের্ বতর্মান সরকারের পদত্যাগ ও নিবার্চনকালীন সহায়ক সরকারের প্রত্যাশী বলে দাবি করেছেন কিন্তু তার কোনো স্পষ্ট রূপরেখা বিএনপি আজও তুলে ধরতে পারে নি।

কিন্তু এ বিতকর্ অহেতুক তিক্ততাই সৃষ্টি করে মাত্র। স্পষ্ট কথা হলো- নিবার্চন হতে হবে পুরোদস্তুর নিবার্চন কমিশনের অধীনে। তাই নিবার্চন পরিচালনায় সব দায়িত্ব ও ক্ষমতা অবশ্যই ওই কমিশনের হাতে থাকতে হবে। সে ক্ষেত্রে আইন-কানুনের কোনো ঘাটতি থেকে থাকলে অবশ্যই দ্রæত তার অবসান ঘটাতে হবে। প্রয়োজনে আইনের সংশোধন-সংযোজন করে নিতে হবে অবিলম্বে।

মন্ত্রণালয়গুলো কতিপয় দিক- যেমন স্বরাষ্ট্র, জনপ্রশাসন অপরাপর সব ক্ষমতা নিরংকুশাভাবে অবশ্যই নিবার্চন কমিশনের হাতে ন্যস্ত করতে হবে। এ ক্ষেত্রে সামান্যতম সংশয় সৃষ্টি হওয়ার সুযোগও যেন আদৌ না থাকে।

নিবার্চনের প্রচারণা আমাদের মিডিয়াগুলোতে পুরোপুরিভাবে দুটি বড় দলের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে। এ অভিযোগ দীঘর্ দিনের। তাই অংশগ্রহণকারী সব দলের জন্য প্রতিদিন সংবাদপত্রসমূহে ও বেতার টেলিভিশনে সমান সময় ও স্পেস নিধাির্রত হওয়া বাঞ্ছনীয়। দলীয় প্রধানসহ সব নেতা-নেত্রীর বক্তব্যই গুরুত্বসহকারে প্রকাশ করার জন্য নিবার্চন কমিশন মিডিয়াগুলোকে আবেদন জানাতে পারবেন।

নিবার্চনে কালো টাকার বন্যা বইতে থাকে। এগুলো চলে ধমের্র নামে সূ² প্রচারণাও। নেমে আসে ধমীর্য় ও জাতিগত সংখ্যালঘু সম্প্রদায়গুলোর ওপর নিযার্তন। ফলে নিবার্চন অবাধ, শান্তিপূণর্ ও নিরপেক্ষ হয় না। এ ক্ষেত্রে কঠোরভাবে টাকার মেলা, পেশী শক্তির ব্যবহার, ধমের্র নামে প্রচারণা ও সংখ্যালঘু নিযার্তন অবশ্যই বন্ধ করতে হবে। কোথাও এমন কোনো ঘটনা ঘটলে তা প্রতিরোধে কাযর্কর ব্যবস্থা নিবার্চন কমিশনকে তাৎক্ষণিকভাবেই নিতে হবে। এ ব্যাপারে কালবিলম্ব হলে পরবতীের্ত সুষ্ঠু নিবার্চন পরিচালনার পথে অনেক অনাকাক্সিক্ষত বাধা-বিঘেœর সম্মুখীন হতে পারে।

নিবার্চনী শাস্তিযোগ্য অপরাধসমূহ ও তার জন্য নিধাির্রত শাস্তির মেয়াদ অবশ্যই বাড়ানো উচিত। তার প্রয়োগ ও বাস্তবায়নও কঠোরভাবে করা প্রয়োজন।

যেমন প্রতিদ্ব›দ্বী দুই দল যদি নিবার্চনী বুথে বা নিদির্ষ্ট কেন্দ্রে মারামারি করে, ব্যালটপেপার ছিনতাই করে বা প্রতিদ্ব›দ্বী পক্ষের পোলিং এজেন্টকে বুথ থেকে জোর করে বের করে দেয় সেগুলো যেমন মারাত্মক অপরাধ-তেমনই আবার ধমের্র নামে নিবার্চনী প্রচারণা চালানো বা লৈঙ্গিক ভিন্নতাকে টেনে এনে কোনো প্রাথীর্র বিরোধিতা করে প্রচার-প্রচারণা চালানো বা ভয়-ভীতি হুমকি দেখিয়ে প্রাথীির্বশেষকে ভোট দিতে বা না দিতে বলা বা বাধ্য করা কিংবা নিবার্চনের সিডিউল ঘোষণার পর থেকে নিবার্চনী ফল প্রকাশের পর এক মাসে পযর্ন্ত ধমীর্য় ও জাতিগত সংখ্যালঘুদের প্রতি সহিংস আক্রমণের অভিজ্ঞতা থেকে এখন এগুলোকে অধিকতর গুরুতর অপরাধ

হিসেবে গণ্য করে একদিকে তার জন্য কঠোরতর শাস্তির বিধান আইনের সংস্কারের মাধ্যমে করে তা বাস্তবায়নে নিশ্চয়তা বিধান করার সঙ্গে সঙ্গে ওই আইন বাস্তবায়নে যে কোনো ব্যক্তির সৈথিল্য বা সময় ক্ষেপণও সমতুল্য অপরাধ বলে গণ্য করা হোক। ভুক্তভোগীরা দীঘির্দন ধরে এই দাবিগুলো উত্থাপন করে এলেও তার প্রতি কোনোপ্রকার কণর্পাত না করায় সংশ্লিষ্টদের মনে নিবার্চন সম্পকের্ এক ধরনের ভীতি বাসা বেঁধেছে যা অবিলম্বে দূরীভ‚ত করা সুষ্ঠু নিবার্চনের স্বাথের্ অত্যন্ত জরুরি।

এ জাতীয় অপরাধ সম্পকের্ অভিযোগ সংশ্লিষ্ট ভোটকেন্দ্রের কমর্কতার্, রিটানির্ং অফিসার, থানা কতৃর্পক্ষ পুলিশ সুপার এদের সবার কাছেই পাঠানোর বিধান রাখা সঙ্গিত। যাতে অভিযোগটি পাওয়া যায়নি এমন কথা বলা না যায়।

তদুপরি, বিশেষ পরিস্থিতিতে ভোটগ্রহণ স্থগিত ঘোষণার ক্ষমতা সংশ্লিষ্ট ভোট কেন্দ্রের প্রধান কমর্কতার্র হাতে থাকাও বাঞ্ছনীয়।

ভোট গণনা শুরু হওয়ার পর তা কোনোক্রমে স্থগিত ঘোষণা করা বা বিরতি দেয়া বে-আইনি এমন বিধানও রাখাতে হবে।

ভোট দেয়া না দেয়া আমাদের দেশে সংশ্লিষ্ট ভোটারের ব্যক্তিগত অধিকার হিসেবে বিবেচিত। আবর অস্ট্রেলিয়ান প্রত্যেক নাগরিকের জন্য ভোট প্রদানে বাধ্যতামূলক। অবশ্য গুরুতর অসুস্থতা, সামরিকভাবে ভিন্ন দেশে অবস্থান প্রভৃতি জাতীয় প্রতিবন্ধকতা ( যা আবার প্রমাণ করতে হয়) না থাকলে। সেখানে ভোটের দিন ছুটিও ঘোষণা করা হয় না তবে ভোট দানের জন্য কিছুটা সময় দেয়া হয় প্রত্যেককে। যা হোক, আমাদের দেশেও ভোটদান বাধ্যতামূলক করা উচিত এবং ভোট দানের ক্ষেত্রে কোনোপ্রকার প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি গুরুতর অপরাধ বলে বিবেচনা করে তা কঠোর শাস্তিযোগ্য হিসেবে কাযর্করও করা উচিত।

কিন্তু অথর্বহ নিবার্চন ও গণতন্ত্রের বিকাশ ও তার প্রাসঙ্গিকতা নিভর্র করে রাজনৈতিক দলগুলোর ওপর বহুলাংশে প্রথমত, দলগুলোর আভ্যন্তরীণ গণতন্ত্র কঠোরভাবে চচির্ত হওয়া প্রয়োজন এবং এ ব্যাপারে দলগুলোর গঠনতন্ত্রে উপযুক্ত সংস্কারও প্রয়োজন। তদুপরি, নিবার্চনে টাকার খেলা বন্ধ করতে হলে শুধু আইন নয় তার সঙ্গে প্রাথীর্ মনোনয়নের ক্ষেত্রে প্রতিটি রাজনৈতিক দলকে ধনী, ব্যবসায়ী, শিল্পপতি প্রভৃতিকে পরিহার করে দরিদ্র দেশপ্রেমিক সৎ রাজনৈতিক নেতা ও কমীের্দর প্রাধান্য দিতে হবে। ১৫ আগস্টের পূবর্ পযর্ন্ত আমাদের দেশে তাই হতো। জিয়ার আমলে ওই প্রথা বদলে দিয়ে ধনীদের প্রাধান্য দেয়া শুরু হয় এবং এখন ওই রোগ প্রধান বড় দলগুলোতে ব্যাপকভাবে সংক্রমিত হয়েছে। কাযর্করভাবে এই প্রথা বন্ধের উদ্যোগ এক্ষুনি নিতে হবে।

সামাজকমীর্, শিক্ষক, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী, ক্ষুদ্র শিল্পপতি এবং অনুরূপ সামাজিক স্তর থেকে আসা রাজনৈতিক কমীের্দর মনোনীত করলে সংসদ জনগণের সংসদে পরিণত হতে পারে। বতর্মানে আমরা সংসদীয় গণতন্ত্র ব্যবস্থা পুনরুদ্ধার করেছি বটে কিন্তু সংসদকে জনগণের সংসদে পরিণত করতে আজও পারিনি। সেখানে দরিদ্র, শোষিত জনগণের সমস্যা আলোচনা তো দূরের কথা, উত্থাপিত কোনো বিলের ওপর তার ভাল-মন্দ নানা দিক নিয়ে কোনো আলোচনাও সংসদে হয় না। বিল উত্থাপন হতে না হতেই তা কণ্ঠভোটে পাস হয়ে যায়। তদুপরি কোনো

সংসদ সদস্য দলীয় সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ভোট দিলে তার সদস্যপদ থাকবে না মমের্ যে আইন আছেÑ তার ফলেও সংসদে কোনো বিষয়ে আলোচনা হয় না। দলীয় প্রধান যা বলে দেন চোখবুজে সবাই তার স্বপক্ষে হাত তুলে তা পাস করে দেন। ফলে আমাদের সংসদ সরব হতে পারে না। অথচ গণতন্ত্র বঁাচাতে হলে সরব সংসদের বিকল্প নেই তাই এ ব্যাপারেও প্রয়োজনীয় সংশোধনী আনা জরুরি। শুধু সরকারের প্রতি কেউ অনাস্থা প্রস্তাব আনলে সে ক্ষেত্রেই এমন ব্যবস্থা রাখা যেতে পারে।

জনগণের সংসদ প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে জনগণেরও অতন্দ্র প্রহরীর ভ‚মিকায় নামতে হবে। গৎবঁাধাভাবে ‘মাকার্’ বা ‘প্রতীক’ দেখে ভোট দেয়ার রেওয়াজ পাল্টাতে হবে। প্রাথীির্ট কেমন- যোগ্য কিনা সৎ কিনা গরিব ও নিযার্তীত মানুষের পক্ষে কিনা- তাদের স্বাথের্ লড়াই করার ঐতিহ্য আছে কিনা অসম্প্রদায়িক চেতনার অধিকারী কিনা সেগুলো সম্পকের্ অবহিত হয়ে ওই গুণাবলি বা তার বেশির ভাগ যার আছে তাকে ভোট দেয়ার রেওয়াজ চালু করা অপরিহাযর্।

ভোটদানের ক্ষেত্রে প্রাসঙ্গিক নয় প্রাসঙ্গিক হলো জনগণ, জনগণের ও দেশের স্বাথর্। ‘অমুককেই তো ভোট দিতাম কারণ উনি যোগ্য। কিন্তু উনি যদি অমুক প্রতীক নিয়ে দঁাড়াতেন তবে অবশ্যই ভোট দিতাম। তা না হওয়াতে ওনাকে ভোট দিলে ভোটটাই নষ্ট হবে’ এমন মানষিকতা ছাড়তে হবে। কারণ, যোগ্য লোককে ভোট দেয়ার জন্যই তো নিবার্চন- তাকে ভোট না দিলেই ভোট নষ্ট হয় ভোটারদের এই কথাটি বুঝা দরকার।

লেখক : সভাপতি মÐলীর সদস্য, ঐক্য ন্যাপ

ঊ-সধরষ: ৎধহবংযধসরঃৎধ@মসধরষ.পড়স
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

সকল ফিচার

রঙ বেরঙ
উনিশ বিশ
জেজেডি ফ্রেন্ডস ফোরাম
নন্দিনী
অাইন ও বিচার
ক্যাম্পাস
হাট্টি মা টিম টিম
তারার মেলা
সাহিত্য
সুস্বাস্থ্য
কৃষি ও সম্ভাবনা
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি
close

উপরে