logo
  • শনিবার, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০১৮

  পাবর্নী দাস   ১০ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ০০:০০  

পাহাড় ও মেঘের কোলে ভেসে

পাহাড় ও মেঘের কোলে ভেসে
নীলগিরি যেন প্রকৃতির এক অনন্য দান ছবি : ইন্টারনেট
মেঘের কোলে ভেসে ভেসে আকাশ ছুঁতে চানÑ কতই না মজা। ভাবতে মনটা কেমন নেচে ওঠে। আপনি যদি মেঘের কোলে ভেসে আকাশটাকে ছুঁতে চান তাহলে আপনাকে যেতে হবে বান্দরবানের পযর্টন স্পট নীলগিরিতে। আকাশ ছুঁয়ে দেখা যায় বান্দরবানের এই নীলগিরি পযর্টন স্পটে। জেলা সদর থেকে ৪৫ কিলোমিটার দূরে পাহাড়ের চ‚ড়ায় নীলগিরির অবস্থান। অল্প সময়ে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী পরিচালিত পযর্টন স্পট নীলগিরি সারা দেশে পরিচিতি লাভ করেছে। পাহাড়ি অঁাকাবঁাকা পথে বান্দরবান থেকে চঁাদের গাড়ি কিংবা জিপ-মাইক্রো বাসে চড়ে খুব সহজেই নীলগিরিতে যাওয়া যায়।

দুগর্ম পাহাড়ে নীলগিরি পযর্টন কেন্দ্রে গড়ে তোলা হয়েছে আকাশনীলা, মেঘদূত ও নীলাতানা নামে পযর্টকদের জন্য সব সুবিধাসংবলিত তিনটি কটেজ। কটেজগুলো রাতযাপনের জন্য ভাড়া পাওয়া যায় এক থেকে আড়াই হাজার টাকার মধ্যে। এখানে ১ কোটি টাকা ব্যয়ে গড়ে তোলা হয়েছে অত্যাধুনিক একটি রেস্টুরেন্টও। নীলগিরির কাছাকাছি রয়েছে বেশ কয়েকটি ম্রো উপজাতীয় গ্রাম। নীলগিরির একদম কাছে কাপ্রুপাড়া, আপনি সহজেই পরিদশর্ন করে ম্রো আদিবাসী সম্পকের্ জানতে পারবেন। নীলগিরিতে রয়েছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর একটি ক্যাম্প। ফলে এখানে নিরাপত্তার কোনো ঘাটতি নেই। আপনার যে কোনো প্রয়োজনে সেনা সদস্যরা সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেবেন। নীলগিরি বাংলাদেশের দাজিির্লং।

নীলগিরির রাতের সৌন্দযর্ আপনাকে আরো হতবাক করে তুলবে। চারদিকের হরিণ, শিয়ালসহ বিভিন্ন বন্যপ্রাণীর ডাক আর পাহাড়গুলোর আলো-অঁাধারির খেলা দেখে আপনার জীবনকেই যেন রহস্যময় বলে মনে হবে। যারা জীবনে অ্যাডভেঞ্চার পছন্দ করেন তাদের জন্য রাতের নীলগিরি হতে পারে উৎকৃষ্ট স্থান।

সারা দেশের সঙ্গে বান্দরবানের যোগাযোগের একমাত্র মাধ্যম সড়কপথ। প্রতিদিন সড়কপথে ঢাকার ফকিরাপুল, সায়েদাবাদ, মতিঝিল, আরামবাগ, কমলাপুর, কলাবাগান থেকে বিভিন্ন কোম্পানির বাস বান্দরবানের উদ্দেশে ছেড়ে যায়। এসব স্টেশন থেকে এস আলম, সৌদিয়া পরিবহন, হানিফ পরিবহন, ইউনিক সাভির্স, শ্যামলী এন্টারপ্রাইজ, বিআরটিসি, সেন্ট মাটির্ন, ঈগল পরিবহনের বাসগুলো যাত্রী পরিবহন করে। এসি, নন এসি উভয় বাসই বান্দরবান যাতায়াত করে। ভাড়া ৮০০ থেকে ১০০০ টাকার মধ্যে। সড়কপথের যানজট এড়িয়ে আকাশপথে আসতে চাইলে দেশের সব বিমানবন্দর থেকে চট্টগ্রাম বিমানবন্দর হয়েও বান্দরবান যাওয়া যায়। চট্টগ্রামের বহদ্দারহাট বাস টামির্নাল ও রেল স্টেশনসংলগ্ন বিআরটিসি স্টেশন থেকে বান্দরবানের উদ্দেশে বিভিন্ন বাস সাভির্স চালু আছে।

নীলগিরি যেন প্রকৃতির এক অনন্য দান। যারা আকাশ ছেঁায়ার স্বপ্ন দেখেন নীলগিরিতে গেলে তাদের কিঞ্চিৎ স্বপ্ন পূরণ হতে পারে। নীলগিরিতে গেলে মনে হবে আপনি আকাশের কাছাকাছি পেঁৗছে গেছেন। মেঘেরা নিজ থেকেই আপনাকে ছুঁয়ে যাবে। নীলগিরির চ‚ড়া থেকে দেশের দ্বিতীয় সবোর্চ্চ পাহাড় কেওক্রাডং, প্রাকৃতিক আশ্চযর্ বগা লেক, কক্সবাজারের সমুদ্র, চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দরের আলো-অঁাধারি বাতি এবং চোখ জুড়ানো পাহাড়ের সারিও দেখতে পাওয়া যায়।

বান্দরবানে এসেই আপনাকে কোনো একটি আবাসিক হোটেলে রুম নিয়ে বিশ্রাম নিতে হবে। শহরের মধ্যে বিভিন্ন দামের এসি, নন এসি হোটেল পাওয়া যায়। পযার্প্ত হোটেল থাকায় রুম পেতে কোনো ঝামেলা পোহাতে হয় না। তবে পযর্টকের ভরা মৌসুমে আগেভাগে বুকিং দিয়ে আসা ভালো। এখন বেশির ভাগ আবাসিক হোটেলের সঙ্গেই খাবারের রেস্তোরঁা রয়েছে। খাবার-দাবার সেরে রুমে খানিকটা বিশ্রাম নিয়ে আপনি নীলগিরির পথে রওনা হতে পারেন।

নীলগিরি যাওয়ার পথে শৈলপ্রপাত ঝরনাও আপনি দেখে যেতে পারেন। এ এলাকায় নেমে ঝরনার স্বচ্ছ জলে একটু মুখ-হাত ধুয়ে নিলে যাত্রাপথের ক্লান্তি অনেক কমে যাবে। স্থানীয় বম সম্প্রদায়ের বিচিত্র জীবনপ্রণালি উপভোগ করাটা হবে যাত্রাপথে অতিরিক্ত পাওনা। শহরের রুমা বাস স্টেশন থেকে বিভিন্ন চঁাদের গাড়ি, জিপ ইত্যাদি নীলগিরি পযর্টন কেন্দ্রে চলাচল করে। আপনাকে এসব গাড়ি রিজাভর্ করেই যেতে হবে গন্তব্যে। কারণ রিজাভর্ গাড়িতে না গেলে আপনাকে পথে অনেক ঝামেলা পোহাতে হতে পারে, যা আপনার ভ্রমণের আনন্দকে ¤øান করে দিতে পারে। গন্তব্যে পেঁৗছাতে এসব গাড়ি ২-৩ ঘণ্টা সময় নিতে পারে।

শহর থেকে চঁাদের গাড়িগুলো নীলগিরি পযর্ন্ত ৩-৪ হাজার টাকা ভাড়া নেয়। এসব চঁাদের গাড়ি একসঙ্গে ২০-২৫ জন পযর্ন্ত যাত্রী পরিবহন করে। নীলগিরি পেঁৗছে আপনি সেখানে রাতযাপনও করতে পারবেন। এখানকার কটেজগুলো একটু ব্যয়বহুল। এখানকার প্রতিটি কটেজের ভাড়া রাতপ্রতি ৪-৫ হাজার টাকার মধ্যে। আর থাকতে না চাইলে নিদির্ষ্ট সময়ের মধ্যে আপনাকে আবার বান্দরবান শহরের উদ্দেশে রওনা দিতে হবে।

বান্দরবান শহর থেকে মাত্র ৪ কিলোমিটার দূরে নীলাচল পযর্টন কেন্দ্র। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ২ হাজার ফুট উচ্চতায় এ পযর্টন কেন্দ্রের অবস্থান। জেলা প্রশাসনের তত্ত¡াবধানে পরিচালিত নীলাচলের এ পাহাড়ি এলাকাটিকে অনেকে বাংলার দাজিির্লং বলেন। রাতের বেলায় বগা লেক অদ্ভুত সুন্দর রূপ ধারণ করে। পূণির্মার সময় যেতে পারলে পুরো রূপ উপভোগ করতে পারবেন। বগা লেক থেকে কেওক্রাডাং কাছেই। ইচ্ছা করলে সেখান থেকেও ঘুরে আসতে পারেন।
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

সকল ফিচার

রঙ বেরঙ
উনিশ বিশ
জেজেডি ফ্রেন্ডস ফোরাম
নন্দিনী
অাইন ও বিচার
ক্যাম্পাস
হাট্টি মা টিম টিম
তারার মেলা
সাহিত্য
সুস্বাস্থ্য
কৃষি ও সম্ভাবনা
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি

উপরে