logo
বুধবার, ২০ নভেম্বর ২০১৯, ৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

  যাযাদি রিপোর্ট   ২১ অক্টোবর ২০১৯, ০০:০০  

যুবলীগের চেয়ারম্যান পদ হারালেন ওমর ফারুক

যুবলীগের নতুন নেতাদের বয়সসীমা ৫৫ বছর নির্ধারণ করা হয়েছে বলে বৈঠক সূত্রে জানা গেছে

যুবলীগের চেয়ারম্যান পদ  হারালেন ওমর ফারুক
ওমর ফারুক চৌধুরী

 



যুবলীগের চেয়ারম্যান পদ থেকে ওমর ফারুককে বাদ দেওয়া হয়েছে। যুবলীগ আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠন।

ক্যাসিনোকা-ে যুবলীগের বিভিন্ন পর্যায়ের শীর্ষ নেতাদের যুক্ত থাকার অভিযোগের মধ্যেই ওমর ফারুককে সংগঠনের শীর্ষ পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হলো। গত ১৮ সেপ্টেম্বর ক্যাসিনোবিরোধী অভিযান শুরুর পর দু-এক দিন সরব থাকলেও পরে সবকিছু থেকে অনেকটা দূরে সরে যান ওমর ফারুক। তাকে ছাড়াই সংগঠনটির সভাপতিম-লীর সভা হয়।

রোববার রাতে গণভবনে যুবলীগ নেতাদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা বৈঠক করেন। ওই বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত হয় বলে জানা গেছে।

 বৈঠক শেষে গণভবন থেকে বেরিয়ে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের এ সিদ্ধান্তের কথা সাংবাদিকদের জানান।

ওমর ফারুক সাত বছর ধরে সংগঠনটির চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করছেন। এখন তার বয়স ৭১ বছর।

সদ্য-পদ-হারানো নেতা ওমর ফারুক তামাকের বিকল্প ‘টেন্ডু পাতা’ থেকে শুরু করে তৈরি পোশাকের ব্যবসা করেছেন। ঋণখেলাপি হয়েছেন। রাজনীতিতেও দীর্ঘ সময় সুবিধা করতে পারেননি। বিড়ি শ্রমিক লীগ, জাতীয় পার্টির যুব সংগঠন, আওয়ামী লীগ করেও লম্বা সময় ছিলেন পেছনের কাতারে। তবে যুবলীগ তাকে নিয়ে গেছে শীর্ষে। যুবলীগের চেয়ারম্যান হওয়ার পর শোধ করেছেন পুরানো ব্যর্থতার দেনা।

ভাগ্যগুণে ওমর ফারুক চৌধুরী এমন সাফল্য পেয়েছেন বলে মনে করেন যুবলীগের অনেক নেতা। তারা জানান, ২০০৩ সালে যুবলীগের সভাপতিম-লীর সদস্য হন ওমর ফারুক। এর আগের কমিটিতে কার্যনির্বাহী সদস্য ছিলেন তিনি। ২০০৯ সালে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আর ২০১২ সালে হন চেয়ারম্যান। এরপর থেকে যুবলীগে তার সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত ছিল। ক্ষমতাসীন দলের যুব সংগঠনের শীর্ষ পদ পাওয়ার পর সম্পদ নিলামে ওঠার পরিস্থিতি সামলে নিয়েছেন এবং ধনাঢ্য জীবন যাপন করছেন; যদিও তার দৃশ্যমান কোনো ব্যবসা নেই।

ওমর ফারুক ৬৪ বছর বয়সে যুবলীগের চেয়ারম্যান হন। অথচ যুবলীগের ইতিহাসে এর আগে ৫০ বছরের বেশি বয়সি কেউ চেয়ারম্যান হননি। ১৯৭২ সালের নভেম্বরে শেখ ফজুলল হক মণি যখন যুবলীগ প্রতিষ্ঠা করেন, তখন তার বয়স ছিল ৩২ বছর।

১৯৪৮ সালে জন্ম নেওয়া ওমর ফারুক চৌধুরী সত্তরের দশকে চট্টগ্রাম জেলা বিড়ি শ্রমিক লীগের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। এইচ এম এরশাদ ক্ষমতায় আসার সময় ওমর ফারুক শ্রমিক লীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন। জাতীয় পার্টির প্রয়াত নেতা নাজিউর রহমান (মঞ্জু) এরশাদের মন্ত্রিসভার সদস্য হলে ওমর ফারুক দল বদল করেন। জাতীয় পার্টির অঙ্গ সংগঠন যুব সংহতির চট্টগ্রাম উত্তর জেলার রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত হন। ওমর ফারুক চৌধুরী নাজিউর রহমানের ভায়রা এবং শেখ ফজলুল করিম সেলিমের ভগ্নিপতি।

এরশাদ সরকারের পতনের পর ১৯৯২ সালে চট্টগ্রাম উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলন হলে তিনি সদস্য হন। ১৯৯৭ সালে তিনি উত্তর জেলা কমিটির কোষাধ্যক্ষ হন।

সম্মেলন প্রস্তুতি কিমিটি

এদিকে বৈঠক শেষে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের যুবলীগের সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটি করার কথাও জানান।

তিনি বলেন, যুবলীগের সভাপতিম-লীর সদস্য চয়ন ইসলামকে আহ্বায়ক এবং বর্তমান সাধারণ সম্পাদক হারুনুর রশীদকে সদস্য সচিব করে সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটি করা হয়েছে। যুবলীগের কার্যনির্বাহী কমিটির সবাইকে এই কমিটির সদস্য করা হয়েছে।

আগামী ২৩ নভেম্বর যুবলীগের সপ্তম কংগ্রেস হবে। তার আগ পর্যন্ত সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটিই সংগঠনের সব কর্মকা- পরিচালনা করবে।

অনূর্ধ্ব ৫৫ বছর বয়সিরা এবার যুবলীগের নেতৃত্বে আসতে পারবেন বলে জানান তিনি।

বাংলা একাডেমির প্রথম মহাপরিচালক ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক মযহারুল ইসলামের ছেলে চয়ন ইসলাম এর আগে যুবলীগের সাংস্কৃতিক সম্পাদক ছিলেন। নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর আসন থেকে বিজয়ী হয়েছিলেন তিনি।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
close

উপরে