বুধবার, ১২ জুন ২০২৪, ২৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১

হাওড়ের পথে-প্রান্তে কৃষ্ণচূড়ার রঙ মশাল

মন্তোষ চক্রবর্তী ( হাওরাঞ্চল) থেকে :
  ০৯ মে ২০২৪, ১২:৪৯
ছবি-যায়যায়দিন

গ্রীষ্মের সৌন্দর্য মানে কৃষ্ণচূড়া ফুল। ঋতুবৈচিত্রের ধারায় প্রকৃতিতে এখন বিরাজমান বৈশাখ। বৈশাখের প্রখর রোদ যখন তাপদাহ ছড়ায় তখন কৃষ্ণচূড়া ফুল তার সৌন্দর্যের বার্তা ছড়িয়ে দেয় প্রকৃতির বুকে।

গ্রীষ্মের এ রুক্ষ মেজাজ ছাপিয়ে কৃষ্ণচূড়া নিজেকে প্রকৃতিতে মেলে ধরে আপন মহিমায়।তখনই বারবার মনে পড়ে ‘কৃষ্ণচূড়ার রাঙা মঞ্জুরি কর্ণে/আমি ভুবন ভোলাতে আসি গন্ধে ও বর্ণে’ বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলামের কৃষ্ণচূড়া গাছ আর ফুল নিয়ে ছিলো মনোমুগ্ধকর সেই কালজয়ী গানটি।

গ্রীষ্মের ঘাম ঝরা দুপুরে কৃষ্ণচূড়া ছায়া যেন প্রশান্তি এনে দেয় অবসন্ন পথিকের মনে। তাপদাহে ওষ্ঠাগত পথচারীরা পুলকিত নয়নে, এক অবাক বিস্ময়ে উপভোগ করে থাকে এ সৌন্দর্য। কিন্তু কৃষ্ণচূড়াকে চেনেন না এমন লোক খুঁজে পাওয়া দুষ্কর। এখন কৃষ্ণচূড়ার সময় যেন এই লালের সমারোহ কৃষ্ণচূড়ারই মহিমা কৃষ্ণ চূড়া গাছ দেখলে থমকে যায় পথচারীরা এক নজর দেখে প্রশান্তি নেন মনে প্রাণে।

এমনই দৃশ্য চোখে পড়ছে কিশোরগঞ্জের হাওর অধ্যুষিত উপজেলার বিভিন্ন জায়গায়।

কৃষ্ণচূড়ার মনকাড়া সৌন্দর্য উপভোগ করছে কিশোরগঞ্জের হাওর অধ্যুষিত উপজেলা সহ বেশ কয়েকটি উপজেলার বিভিন্ন জায়গায়। সবুজ চিকন পাতা, ফাঁকে লাল লাল কৃষ্ণচূড়া ফুল। দেখলেই চোখ এবং প্রাণ জুড়িয়ে যায়।

কৃষ্ণচূড়ার লাল রঙে যেন এক অন্যরকম দৃষ্টিনন্দন শোভা। এপ্রিলে গ্রীষ্মের শুরুর সঙ্গে সঙ্গেই প্রকৃতির সবুজ পেছনে ফেলে বেরিয়ে আসতে থাকে লাল রঙের এ কৃষ্ণচূড়া ফুল। মানুষের দৃষ্টিগোচর হতে থাকে তার সৌন্দর্য। তখন আর আলাদা করে তার খোঁজ নেওয়ার দরকার হয় না। প্রকৃতিকে অপরূপ সাজে সাজিয়ে রঙিন করে তুলেছে।

এসময় স্মরণ করিয়ে দেই গরম এসেছে। কৃষ্ণচূড়া গ্রীষ্মের অতি পরিচিত ফুল। গ্রীষ্ম এলেই যেন প্রকৃতির ভালোবাসার কথা জানান দিতে লাল হয়ে হেঁসে ওঠে কৃষ্ণচূড়া। কৃষ্ণচূড়া ফুলের কথা নানা ভঙ্গিমায় লেখকের কলমের মাধ্যমে।

এই সময়টাতে সারাদেশের মত কিশোরগঞ্জের হাওর অধ্যুষিত অষ্টগ্রাম, ইটনা মিঠামইন বাজিতপুর, নিকলীসহ হাওরের পথজুড়ে যেন কৃষ্ণ চূড়া রঙমশাল। এর মধ্যে জেলার সবচেয়ে বেশি সৌন্দর্যে ভীড় করছে ভাগলপুর জহিরুল ইসলাম মেডিক্যাল কলেজের দিকে আরেকটি হলো অষ্টগ্রাম রোটারি সরকারি কলেজে দিকে। ভাগলপুরে সড়কের দুপাশে বেশ কিছু কৃষ্ণ চূড়া গাছ সারিবদ্ধ ভাবে দাড়িয়ে আছে এই মনোরম দৃশ্য চোখে দেখতে প্রতিদিন বিকেলে শতশত লোকজন সেখানে যাচ্ছেন এদিকে অষ্টগ্রাম সরকারি কলেজে কৃষ্ণ চূড়া ছাড়াও রয়েছে শুভাবর্ধনে জন্য অসংখ্য ফুলের গাছ যা দেখার জন্য প্রতিদিন ভির জমান স্থানীয় লোকজন ছাড়াও হাওরে ঘুরতে আসা পর্যটকেরা।

অষ্টগ্রাম রোটারি সরকারি কলেজেের অধ্যক্ষ মোজতাবা আরিফ খান বলেন, কৃষ্ণচূড়া ফুল এই গরমে প্রকৃতিকে ভিন্ন সাজে সাজিয়েছে। এর রূপ সব শ্রেণির, সব বয়সের মানুষকে মুগ্ধ করে। সবুজের মধ্যে রক্তাক্ত লাল ফুল মন ভালো করে দেয়। হাওরের পথে–প্রান্তরে এবার অসংখ্য কৃষ্ণচূড়াগাছে ফুল এসেছে। কড়া রোদে অথবা বৃষ্টির পর রৌদ্রোজ্জ্বল পরিবেশে এ ফুল আরও রূপ মেলে ধরে।

অপরূপ প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি আমাদের ষড়ঋতুর বাংলাদেশ। এখানে রয়েছে বারো মাসে ছয়টি ঋতু। প্রতি দুই মাস অন্তর ঋতু পরিবর্তন হয়। আর এই পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে প্রকৃতিতে চলতে থাকে রূপের পালাবদল। প্রকৃতিতে এখন গ্রীষ্ম। গ্রীষ্মকালে কাঠফাঁটা রোদে কৃষ্ণচূড়ার আবীর নিয়ে প্রকৃতি সেজে উঠেছে যেন বর্ণিল রুপে। চোখ ধাঁধানো কৃষ্ণচূড়া ফুলের সৌন্দর্য যেন হার মানায় ঋতুরাজকেও। ঋতুচক্রের আবর্তনে কৃষ্ণচূড়া তার মোহনীয় সৌন্দর্য নিয়ে আবারো হাজির হয়েছে প্রকৃতির মাঝে। টকটকে লাল অথবা গাঢ় কমলা লাল ছোপে ভরা কৃষ্ণচূড়া আমাদের মন রাঙিয়ে দেয়।

পলাশ-শিমুল যদি হয় বসন্তের প্রতীক, কদম যদি হয় বর্ষার, তবে কৃষ্ণচূড়া নিশ্চয়ই গ্রীষ্মের প্রতীক। সবুজ পাতার ফাঁকে মোরগের লাল ঝুঁটির মতো ফুটেছে ফুল। গ্রীষ্মকাল বিশেষ করে বৈশাখ মাস কৃষ্ণচূড়া ফোটার সময়। এ সময় বাংলাদেশের সব জায়গায় থোকায় থোকায় কৃষ্ণচূড়া ফোটে তার নিজস্ব বৈশিষ্ট্য নিয়ে। এ সময় উপজেলার বিভিন্ন গ্রাম কিংবা শহরে এ কৃষ্ণচূড়া ফুটতে দেখা যায়।

অষ্টগ্রাম উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভূমি) উবায়দুর রহমান সাহেল বলেন, প্রকৃতির সৌন্দর্যের প্রতীক হলো এ কৃষ্ণচূড়া গাছ। গ্রীষ্ম এলেই যেন প্রকৃতির ভালোবাসার কথা জানান দিতে লাল হয়ে হেঁসে ওঠে এ কৃষ্ণচূড়া। আমাদের বাংগালপাড়া ইউনিয়ন ভূমি অফিসে সামনে একটি কৃষ্ণ চূড়া গাছ রয়েছে বর্তমানে দেখলে মনে হয় চোখ ধাঁধানো কৃষ্ণচূড়া ফুলের সৌন্দর্য্য যেন হার মানায় ঋতুরাজকেও।

যাযাদি/ এস

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়
X
Nagad

উপরে