বুধবার, ২৪ জুলাই ২০২৪, ৯ শ্রাবণ ১৪৩১

জাবির ভর্তি পরীক্ষায় পাশ করলেই পোষ্যদের 'চান্স' দাবি কর্মচারীদের

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি
  ০৮ জুন ২০২৩, ১৮:০৯
জাবির ভর্তি পরীক্ষায় পাশ করলেই পোষ্যদের 'চান্স' দাবি কর্মচারীদের

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের স্নাতক (সম্মান) প্রথম বর্ষের ভর্তি পরীক্ষায় বিভাগীয় শর্ত বাতিল করে শুধু পাশ নম্বর পেলেই পোষ্যদের চান্স সহ (ভর্তি) ১৪ দফা দাবিতে প্রশাসনিক ভবন অবরোধ ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মচারীরা।

বৃহস্পতিবার (০৮ জুন) সকাল ৯টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত দ্বিতীয় দিনের মত নতুন প্রশাসনিক ভবনের ফটক অবরোধ করে এ কর্মসূচি পালিত হয়।

বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মচারী সমিতি ও কর্মচারী ইউনিয়নের যৌথ উদ্যোগে এ কর্মসূচি পালিত হয়। ভবনের ফটকে তালা লাগিয়ে রাখায় কোন কর্মচারী তাদের অফিসে প্রবেশ করতে পারেনি৷ ফলে সেবা প্রত্যাশী শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা সেবা না পেয়ে ক্ষুব্ধ হয়ে ফিরে যান। তবে উপাচার্য অধ্যাপক মো. নূরুল আলম তালা ভেঙে অফিসে ঢুকেছেন বলে দাবি কর্মচারীদের।

কর্মচারীদের অন্য দাবিগুলো হলো- কর্মচারীদের পদোন্নতি নীতিমালায় ৮৩ ও ৮৪ নম্বর ক্রমিকের শর্ত ও অভিজ্ঞতায় ৮৫ নম্বর ক্রমিকের শর্ত ও অভিজ্ঞতা একই করা ও ঊর্ধ্বতন সহকারী, সর্টার গ্রেড-৩ এবং সমমানের কর্মচারীদের উচ্চতর স্কেল দেওয়া; তৃতীয় শ্রেণি ও ৪র্থ শ্রেণির কর্মচারীদের নৈশ ভাতা, সব কর্মচারীদের ওভারটাইম বেসিক হারে দেওয়া; বাস ড্রাইভারদের ন্যায় বাস হেলপার, কন্ডাক্টরদের ২৫০ ঘণ্টা ওভারটাইম দেওয়া; মাস্টাররোল ও দৈনিক মজুরিভিত্তিতে নিয়োজিত কর্মচারীদের স্থায়ীকরণ; সরকার ঘোষিত সাধারণ ছুটির টাকা ওভারটাইম হিসেবে দেওয়া।

এছাড়াও তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীদের পুরাতন বাসা ভাড়া কমানো; হল অ্যাটেনডেন্টদের উৎকালীন ভাতা ১২০০ টাকার পরিবর্তে বেসিকহারে ওভারটাইম দেওয়া; একটি নতুন পাবলিক/প্রাইভেট ব্যাংকের শাখা চালু করা; রাঙামাটি কবরস্থান জরুরি ভিত্তিতে সংস্কার করা; রাঙামাটি বর্জ্য ব্যবস্থাপনা স্থানান্তর করা; বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন কর্তৃক অনুমোদিত সব সরকারি/বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ইভিনিং ও উইকেন্ডসহ সব ডিগ্রির সার্টিফিকেট আমলে নিয়ে কর্মচারীদের পদোন্নতির ব্যবস্থা করা; কলাবাগান ও রাঙামাটি আবাসিক এলাকার জামে মসজিদে ইমাম নিয়োগ করা ও ২০ নম্বর হল থেকে কলাবাগান আবাসিক এলাকায় পানি সংযোগ স্থাপন করা, শহীদ সালাম বরকত হল থেকে কলাবাগান মসজিদ পর্যন্ত রাস্তায় বিদ্যুৎ সংযোগ এবং কলাবাগান ও রাঙামাটি আবাসিক এলাকার ঝুলন্ত তার সরিয়ে যথাস্থানে স্থাপন করা।

প্রশাসনিক ভবনে আসা সেবা প্রত্যাশী একাধিক শিক্ষার্থীর সাথে কথা বলেছে এই প্রতিবেদক। দূর-দূরান্ত থেকে জরুরি প্রয়োজনে এসে সেবা না পেয়ে ফিয়ে যাওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অধিকাংশ শিক্ষার্থী।

সাংবাদিকতা ও গণমাধ্যম অধ্যয়ন বিভাগের ৪৬ ব্যাচের এক শিক্ষার্থী যায়যায়দিন-কে জানান, স্নাতকোত্তর পর্বের ভর্তি সংক্রান্ত বিষয়ে রেজিস্ট্রার ভবনে গিয়েছিলাম। এসে দেখি ভবনের সামনে ব্যানার ঝুলছে এবং গেটে তালা মারা। শিক্ষা শাখায় কেউ নেই। কাজ শেষ না করেই বাধ্য হয়েই ফিরে আসতে হয়েছে। কষ্ট করে আবার অন্যদিন আসা লাগবে। হুটহাট এভাবে প্রশাসনিক ভবন অবরোধ করে সাধারণ শিক্ষার্থীদের ভোগান্তিতে ফেলা কোনভাবেই কাম্য নয়৷

কর্মচারী সমিতির সভাপতি মোহাম্মদ আঃ রহিম বলেন, আমাদের ন্যায্য দাবি মানতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কোন আগ্রহ দেখায়নি। বারবার শুধু আমাদের আশ্বস্ত করেছেন, কিন্তু বাস্তবায়নের চেষ্টা করেননি। উপাচার্যের প্রতি আমাদের আস্থা আছে। কিন্তু আমরা মনে করি, এই প্রশাসনের পেছনে আরেকটি প্রশাসন আছে যার কয়েকজন ব্যক্তি এই উপাচার্যকে চালাচ্ছে। তারা আমাদের দাবি মানতে দিচ্ছে না।

তিনি আরও বলেন, আমরা বিশ্ববিদ্যালয়কে অস্থিতিশীল করতে চাই না। কিন্তু দাবি না মানলে আমাদের কিছু করার থাকবে না। যদি রোববারের মধ্যে প্রশাসন কোন সিদ্ধান্ত না জানায় তবে আমরা আরও বড় পরিসরে আন্দোলন শুরু করবো। যতক্ষণ পর্যন্ত দাবি মেনে না নিবে ততক্ষণ আমাদের আন্দোলন চলবেই।

কর্মচারী ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক বিপ্লব খান টিপু বলেন, প্রশাসনের কাছে অনেক আগে থেকেই দাবিগুলো জানিয়েছি। প্রশাসন আশ্বস্ত করছিলো পরের সিন্ডিকেট সভায় দাবি মেনে নেওয়া হবে। তবে দীর্ঘসময় অতিবাহিত হলেও প্রশাসন দাবি মেনে নেয়নি। আমরা বাধ্য হয়ে কর্মসূচি দিয়েছি, তবুও উপাচার্য আমাদের সঙ্গে আলোচনায় বসেননি। অথচ তিনি তালা কেটে অফিসে ঢুকেছেন।

এ বিষয়ে জানতে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো: নূরুল আলম ও রেজিস্ট্রার (চুক্তিভিত্তিক) রহিমা কানিজ-কে কয়েক দফায় একাধিকবার ফোন করলেও তাঁরা রিসিভ করেননি।

তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ভর্তি পরীক্ষা পরিচালনা কমিটির সদস্য সচিব ও ডেপুটি রেজিস্ট্রার (শিক্ষা) মো. আবু হাসান দৈনিক যায়যায়দিন-কে বলেন, ভর্তি পরীক্ষায় এমনিতেই পোষ্যদের সুযোগ দেওয়া হয়। এখন তারা এই অযৌক্তিক দাবি নিয়ে হাজির হয়েছে। তারা লিখিতভাবে ভর্তি পরীক্ষা পরিচালনা কমিটির কাছে দাবি জানিয়েছিল। সেই দাবি কমিটির সভায় নাকচ হয়েছে। এটা কোনভাবেই মেনে নেওয়ার মত দাবি না।

যাযাদি/এসএস

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

উপরে