বৃহস্পতিবার, ২৫ জুলাই ২০২৪, ১০ শ্রাবণ ১৪৩১

অনেকে আমাকে ইন্ডিয়ান মনে করত...

মাতিয়ার রাফায়েল
  ১১ মে ২০২৩, ১০:০৬
অনেকে আমাকে ইন্ডিয়ান মনে করত...

ক্যারিয়ারের শুরুতেই দেশের শীর্ষ অভিনেতা শাকিব খান আর কলকাতার তারকা দেবের সঙ্গে জুটি বেঁধে অভিনয় করে চলচ্চিত্র মহলে একটা প্রবল ঝাঁকুনিই দিয়েছিলেন লাস্যময়ী অভিনেত্রী জাহারা মিতু।

নিজেকে ফ্যাশন ডিজাইনার হিসেবে পরিচিত করে তোলা মিতু প্রথমে ‘আগুন’ সিনেমায় অভিনয়ের মাধ্যমে এফডিসিতে পা রাখেন। আর সম্প্রতি প্রথমবারের মতো ঈদে মুক্তি পায় সুমন ধর পরিচালিত ‘শত্রু’ সিনেমাটি। অবশ্য অভিনয় জগতে পা রাখার আগে ‘মিস ওয়ার্ল্ড বাংলাদেশ-২০১৭’ সুন্দরী প্রতিযোগিতায় প্রথম রানারসআপ হওয়ায় এমনিতেই সবার কাছে আলোচিত ছিলেন তিনি। এরপর নাটক, বিজ্ঞাপন, মডেলিং এবং উপস্থাপনা করে শোবিজের সবার নজর কাড়তে সক্ষম হন মিতু।

সেই সুবাদে ক্যারিয়ারের শুরুতেই দুই দেশের শীর্ষ তারকার সঙ্গে জুটি বেঁধে অভিনয় করায় তার সেই পরিচিতি আরও বেশি সমৃদ্ধ করে তুলবে সেটাই স্বাভাবিক। সেটা হয়েছেও। বর্তমানে নির্মাতাদের কাছেও আগ্রহের শীর্ষে আছেন জাহরা মিতু।

‘আগুন’ সিনেমায় অভিনয় করে নায়িকা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করলেও তার প্রথম ছবি মুক্তির আগেই কলকাতা সুপারস্টার দেবের বিপরীতে অভিনয় করেছেন ‘কমান্ডো’ সিনেমায়। অভিনয় করেছেন কাজী হায়াতের মতো মেগা ডিরেক্টরের সঙ্গে। প্রথম মুক্তি পাওয়া সিনেমা হিসেবে ‘জয় বাংলা’ সুপার ফ্লপ হলেও এ নিয়ে মোটেও ভেঙে পড়েননি মিতু।

এ বিষয়ে মিতুর ভাষ্য, ‘আসলে আমরা বাংলাদেশের মানুষ দেশ প্রেমের কথা বলে যতই চিল্লাই দেশপ্রেম বা মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক সিনেমা প্রেক্ষাগৃহে গেলে তখন কিন্তু কাউকে খুঁজে পাওয়া যায় না, সেটা আমি আগে থেকেই ভালো করে জানি। তাই প্রথম থেকেই প্রত্যাশা করিনি এটা কমার্শিয়াল সিনেমা হবে; দর্শক হুমড়ি খেয়ে পড়বে। সিনেমাটি ফ্লপ হলেও যারাই আমার অভিনয় দেখেছেন সবাই কিন্তু প্রশংসা করেছেন। আমি যখন সিনেমাটিতে সাইন করি তখন তিনটি জিনিসকে প্রাধান্য দিই এক, কাজী হায়াতের নাম; দুই, লেখক মুনতাসীর মামুনের নাম; তিন, জয়বাংলা স্লোগান।’

মিতু এখন আগের সাধারণ লুক থেকে বেরিয়ে এসে নিজেকে একেবারে পাল্টে ফেলেছেন। লম্বা চুল, কপালে লাল টিপ, নাকে নথ, হাতে চুরি ও গাঁদা ফুল। ক্রমে যেন তার বয়সও কমে আসছে। একের পর এক ফটোশুটে ধরাশায়ী করছেন অনুরাগীদের; মন জয় করে চলেছেন একে একে রুপালিপর্দার প্রেমীদের। পোশাক পরিচ্ছদ, সাজগোজ সবকিছুতেই তিনি বেশ সপ্রতিভ। মিতু যেমন নিজের জীবনে নিজের মতো করে চলেন তেমনি অনুরাগীদের সঙ্গেও বেশ যোগাযোগ স্থাপনে পটু তিনি।

সোশ্যাল মিডিয়ায়ও বেশ সরব থাকেন। কাজের ক্ষেত্রেও কো-আর্টিস্টদের সঙ্গেও বেশ চমৎকারভাবে মানিয়ে যান। এ ব্যাপারে মিতুর কাছে জানতে চাওয়া হলো অভিনয় করতে গিয়ে সহ-অভিনয় শিল্পী বা টিমের সঙ্গে মানিয়ে নিতে অসুবিধা হয় না কখনো? জবাবে বেশ স্বাচ্ছন্দ্যের সঙ্গেই মিতু বলেন, ‘আমার একটা সুবিধা কি, আমি শীর্ষ নায়ক থেকে শুরু করে অনেক বড় বড় প্রোডাকশনের কাজ করেছি তো, সেদিক থেকে আমাকে খুব লাকি বলতে পারেন। আমি কাজ করেছি বিগ বাজেট ও মিড বাজেটের সিনেমায়। আসলে বিহেভিয়ার বা টিম ম্যানেজমেন্ট যা-ই বলেন, এটা ম্যান টু ম্যান ভেরি করে। আমার দিক থেকে আমি কিন্তু খুব মিশুক এবং সবাইর সঙ্গেই খুব আন্তরিকতার সঙ্গে কথা বলি। টিমের সঙ্গে এতটাই মিশে যাই যে, তখন তারাও আমাকে তাদের ফ্যামিলি মেম্বার হিসেবে ভাবতে শুরু করেন। সেদিক থেকে অভিজ্ঞতা আমার খারাপ নয়। নয়তো কাজী হায়াত, শাহীন সুমনের মতো বড় নির্মাতাদের সঙ্গে কাজ করতে পারতাম না।’

আজকের সিনেমার জগতে দ্রুত নিজের পরিচয় ছড়িয়ে দিতে বাণিজ্যিক সিনেমার কোনো জুড়ি নেই। আবার শিল্পসম্মত জীবনঘনিষ্ঠ সিনেমা ব্যবসাসফল না হলেও এ ধরনের সিনেমায় অভিনয় করে বহু অভিনয়শিল্পী আন্তর্জাতিক খ্যাতি ও বেশ সমীহ আদায় করে নিচ্ছেন। বড় বড় ফেস্টিভালেই বোঝা যায়, তাদের আন্তর্জাতিক গুরুত্ব কত বেশি। এক্ষেত্রে জাহারা মিতু কোন ধরনের সিনেমায় বেশি আগ্রহী জানতে চাওয়া হলে লাস্যময়ী তারকা মিতু বলেন, ‘আমাকে সবচেয়ে বেশি টানে কমার্শিয়াল সিনেমা। গ্ল্যামার আর নাচে-গানে ভরপুর সিনেমাই আমাকে বেশি টানে। যে সিনেমায় দর্শক পরিপূর্ণ বিনোদন পাবে সে সিনেমাই আমাকে খুব বেশি টানে। যে যা-ই বলুক আমি আমার মনমতো একশ পার্সেন্ট কমার্শিয়াল সিনেমাই চাই। আমার অনেক ক্ষুধা কমার্শিয়াল সিনেমায় অভিনয় করার। আমি আসলে একজন পুরাদস্তুর কমার্শিয়াল ম্যানেজার।’

এখন তো ছোটপর্দার জায়গা দখল করে নিয়েছে ওটিটি। কবে আবার এফডিসির জায়গাও দখল করে নেয় এই ওটিটি- তারও কোনো ঠিকঠিকানা নেই; এই ওটিটির মাধ্যমেও কি নিজের জায়গা করে নিতে ইচ্ছে হয় না? মিতুর জবাব, ‘অবশ্যই ওটিটির মাধ্যমেও কাজ করার আগ্রহ আছে আমার। শুধু ওটিটিই নয়, ছোটপর্দায়ও আমি কাজ করতে চাই। এটা যেমন গল্পের ওপর নির্ভর করে, তেমন সময়ের ওপরও নির্ভর করে। তবে দেখতে হবে কাজগুলো মানের দিক থেকে যেন ভালো হয়।’

আর এই যে খুব দ্রুতই ঢাকাই ইন্ডাস্ট্রিতে নিজের পরিচয়টিও আরও বেশি উজ্জ্বল হয়ে উঠছে, এটা ভাবতেও বা কেমন লাগে? এমন প্রশ্নে মিতু বলেন, ‘এটা ঠিক যে, আমি যখন স্পোর্টস উপস্থাপনা করতাম, তখন অনেকে আমাকে ইন্ডিয়ান মনে করত। তখন আমার পরিচিতি এতটা ছিল না; দর্শকও আমাকে চিনত না। তবে সিনেমায় আসার পর থেকে সবাই চেনে, এটা ভাবতে তো অবশ্য ভালো লাগে আমার। তবে এ নিয়ে আমার পা আর মাটিতেই পড়ে না এমন নই কিন্তু আমি।’

যাযাদি/ এস

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

উপরে