শুক্রবার, ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৩, ২০ মাঘ ১৪২৯
walton1
গল্প

ইচ্ছা পূরণের পরী

সাঈদুর রহমান লিটন
  ০৬ নভেম্বর ২০২২, ০০:০০
একদিন জঙ্গলের পাশ দিয়ে হেঁটে যাচ্ছিল টাবু। টাবু খুব সাহসী ছেলে। ৪র্থ শ্রেণিতে পড়ে। কখনো কোনো ক্লাসে ফার্স্ট হতে পারেনি। কিন্তু মনে মনে ফার্স্ট হওয়ার ইচ্ছে আছে তার। কিন্তু কোনোভাবেই হতে পারছে না। এমনকি কোনো কিছুই ইচ্ছে মতো হয় না। তাই মনটা খুবই খারাপ। টাবুর মন বেশির ভাগ সময়ই এমন খারাপ থাকে। এই যেমন আজ মনটা ভীষণ খারাপ। অংক পরীক্ষা নিয়ে টাবুর চিন্তা; অংক তো সিলেবাসের সবই করতে হয়। সব অংকই পারে কিন্তু পরীক্ষার সময় কোনো অংকই পারে না। মানে- মনে থাকে না। টাবু ভাবে যদি পরীক্ষায় বসলে কোনো দৈব শক্তি বা কেউ এমন হতো পরীক্ষার সময় আমার সব মনে করে দিত। আমি সেই শক্তি বলে পরীক্ষায় সবার চেয়ে ভালো ফল করতে পারতাম। পাশ দিয়ে 'ইচ্ছে পূরণের পরী' যাচ্ছিল। একটি সাদা ফ্রগ পরনে। হাতে একটি বেতের দন্ড, পিঠ ভরা মাথার লম্বা চুল। আর পিঠে আছে একজোড়া সুন্দর পাখনা। টাবুর সামনে উড়ে এসে দাঁড়াল। টাবুকে পরী বলল, আমি তোমার সব ইচ্ছেই পূরণ করে দেব। তোমার প্রথম ইচ্ছে বল, টাবু বলল পরী আপু, আমার পড়তে ইচ্ছে করে না। কিন্তু মা আর বাবা শুধু পড়তে বলে- আমি কি করব? আমার পড়ার কি হবে? পরী বলল, তোমার পড়তেই হবে না। তাহলে আমি পাস করব কীভাবে? সেটা আমিই দেখে নেব- পরী বলল। খুশি হলো টাবু। তাহলে পড়তে হবে না কি মজা! কি মজা! তবে আমার কিছু শর্ত আছে। শর্তগুলো তোমাকে মানতে হবে। টাবু বলল, আবার কি শর্ত? পরী বলল, আমি যা বলবো তাই করতে হবে। টাবু বলল, বিনা পড়ায় পাস করার জন্য আমি সবই করতে পারব। আপনার শর্ত বলুন- পরী আপু। তাহলে শোন্‌। জ্লি বলুন। পরী বলল, তাহলে তুমি আজ থেকে ইচ্ছে মতো ঘোরাঘুরি কর, ইচ্ছে মতো চলো। কোনো পড়াশোনার দরকার নেই। আবার কাল এই খানে দেখা হবে। এই একটা শলাকা দিলাম এখানে এসে এই শলাকাটি গাছের সঙ্গে ঘষলেই চলে আসব আমি। আজ তাহলে যাই। পরী চলে গেল। টাবু ভীষণ খুশি। পরদিন টাবু আবার এলো। শলাকা ঘষতেই পরী এলো। পরী বলল, আজ আমার সময় নেই। এই পাঁচ শত টাকা নাও। কিছু বাজার করে এনো। পাঁচ কেজি চাল আনবে, দুই কেজি চিনি আনবে আর দুটি খাতা আনবে। যাও কিনে আন- যা আনবে তা এই খরচ খাতায় লিখে রাখবে এবং যথা সময়ে আমাকে দেখাবে। বাকি টাকা আমাকে হিসাব করে ফেরত দেবে। এই ভাবেই চলতে লাগল বেশ কিছু দিন। মাঝে মাঝেই বাজার করতে হয়। টাবু এভাবে বাজার করতে করতে যোগ, বিয়োগ, গুন ও ভাগ বেশ আয়ত্তে নিয়ে এলো। পরী একদিন বলল টাবু তুমি কি গল্প বলতে পারো। আমার গল্প শুনতে খুব ভালো লাগে। টাবু আম্‌তা আ্‌তা করতে লাগল। পরী বলল, আমাকে গল্প বলবে বিনিময়ে আমি তোমাকে তোমার পছন্দের রসমালাই খাওয়াব। টাবু ভাবলো, তবে তো ভালোই, আমার বাংলা বইতে অনেক গল্প আছে সেই গল্প বলব আর রসমালাই খাব। এভাবে বাংলা বইয়ের গল্প ও কবিতা প্রায় সব মুখস্ত হয়ে গেল। নিয়মিত বাজার ও চলছে। বড় ধরনের বাজার করতে দেওয়া হচ্ছে ইদানীং। তাই টাবুর অংক বই থেকেও সহায়তা নিতে হচ্ছে ইদানীং। বাজার করতে ভালোই লাগছে। নতুন নতুন অনেক কিছু খাওয়াও যাচ্ছে। পরী ইচ্ছে মতো খাবার হুকুম দিয়েছেন। পরী এবার শর্ত দিয়েছে, পরীর নাকি নতুন সহকারী নিয়েছে। সে বাংলা বোঝে না। তাই হিসাবগুলো ইংরেজিতে লিখতে হবে। টাবু বিপদে পড়ল এবার। পরী বলল, কি ভাবছ। তেমন কিছু না। আমি তো ইংরেজি লিখতে পারি না। তাহলে লিখব কীভাবে। তাহলে দরকার নেই। আমি অন্য কাউকে দিয়ে করিয়ে নেব। টাবু বলল, না না আমিই পারব। পরী বলল তুমি পারবে না। টাবু বলল পারব আপু। টাবু বাজার করে এসে ডিক্সনারি আর ওর ক্লাসের ইংরেজি বইয়ের সহায়তা নিয়ে সব কাজগুলো করে যাচ্ছে। টাবু নিয়মিত ইংরেজিতে চর্চা করতে করতে ভালই ইংরেজি শিখে যাচ্ছে। প্রতিদিন গল্প বলা, কবিতা বলা, বাজার করা মানে অংক করা নিয়মিত হচ্ছে। এবার পরী বলল, তোমাকে বিদেশ নিয়ে যাব। দেশ-বিদেশের কোথায় কি এগুলো জানতে হবে। সব দেশের সব কিছুর তথ্য জানতে, টাকার নাম জানতে হবে, ভাষার নাম জানতে হবে- মোট কথা সবকিছুই জানতে হবে। টাবু বিদেশের কথা শুনে খুব খুশি হলো। বলল, ঠিক আছে, পরী আপু আমি এগুলো শিখব। আমার আমেরিকা যাওয়ার খুব শখ। পরী বলল, নিয়ে যাব। তবে তোমার তো এত কিছু মনে থাকবে না। যা শিখবে, মুখস্থ করবে তা খাতায় লিখে রাখবে। টাবু নিয়মিত এসব করে যেতে লাগল। টাবুর এখন সারাক্ষণই টেবিলে থাকতে হয়। সারাক্ষণই পড়তে হয়। টাবু ও মনের অজান্তে পড়ে যেতে লাগল। পরীও তাকে ভ্রমণের কথা বলে ভ্রমণ করালো, বিভিন্ন ঐতিহাসিক জায়গায় নিয়ে গেল। অনেক বিশিষ্ট ব্যক্তি বাড়িতে নিয়ে গেল তাদের আদিঅন্ত খাতায় নোট করে রাখতে লাগল। এভাবেই টাবু পরীর শর্তগুলো মেনে চলছে। কখন যে পরীক্ষা চলে এলো টাবু টেরই পায়নি। পরীক্ষা খুব ভালো হলো। একবার রেজাল্ট হলো টাবু অসাধারণ ফলাফল করল। সবাই খুশি হলো। পরী বলল, তুমি তো পড়নি ভালো ফলাফল করলে কীভাবে? টাবু বলল আমি তো এখন সবই পারি। পরীক্ষার সময় সব মনে পড়ে। পরী বলল, তাহলে এভাবেই কাজ করে যাও। সফলতা আসবেই। পরী মাথায় হাত দিয়ে দোয়া করে দিয়ে টাবু কে বলল, তবে আজ আমি চললাম। পরী আকাশে উড়াল দিল। একেবারে আকাশে মিলিয়ে গেল।
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

উপরে