বুধবার, ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৩, ২৪ মাঘ ১৪২৯
walton1

ফাঁকা স্ট্যাম্পকে বায়না দলিল বানিয়ে মিথ্যা মামলা বাদীর কারাদন্ড

আইন ও বিচার ডেস্ক
  ২৯ নভেম্বর ২০২২, ০০:০০
রাজশাহীতে মিথ্যা মামলা করায় আবু বক্কর সিদ্দিক নামে এক ব্যক্তিকে এক মাসের কারাদন্ড দিয়েছেন আদালত। সেই সঙ্গে বিবাদীকে চার হাজার টাকার ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সিদ্দিক রাজশাহীর পুঠিয়া উপজেলার ঝলমলিয়া গ্রামের সামছুদ্দিন সরকারের ছেলে। ২৩ নভেম্বর রাজশাহী সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক মারুফ আলস্নাম এই রায় ঘোষণা করেন। রাজশাহী জেলা পুলিশের আদালত পরিদর্শক পরিমল চক্রবর্তী বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, পুঠিয়া উপজেলার কামার ধাদাস গ্রামের হাজেরা বেগম, তার স্বামী হযরত আলী, ছেলে আল আমীন ও ভাই আব্বাস মোলস্নাকে আসামি করে ২০১৮ সালের ৬ এপ্রিল মামলা করেন সিদ্দিক। তিনি অভিযোগ করেন, তার কাছ থেকে সাড়ে তিন লাখ টাকা নিয়ে হাজেরা বায়না দলিল করেন কিন্তু পরে বায়নার শর্ত ভঙ্গ করে অন্য ব্যক্তিকে জমির দলিল করে দেন। কিন্তু আদালতের কাছে সাক্ষ্যপ্রমাণ থেকে স্পষ্ট হয়, আসামি হাজেরা মূলত আবু বক্কর সিদ্দিকের কাছে জমি বন্ধক রেখেছিলেন এবং কয়েক বছর পরে বন্ধকী জমির ওপর অতিরিক্ত কিছু টাকা নিয়েছিলেন। অতিরিক্ত টাকা নেওয়ার সময় আসামি হাজেরা বাধ্য হন আবু বক্করকে ফাঁকা স্ট্যাম্প দিতে। এদিকে, আবু বক্করের আশা ছিল, জমিটি একসময় তার কাছেই হাজেরা বিক্রি করবেন। কিন্তু পরে হাজেরা ওই জমি আবু বক্করের কাছে বিক্রি না করে সাজেদুর রহমানের কাছে বেশি দামে বিক্রি করে দেন। সাজেদুর রহমান জমি কেনার আগে হাজেরার সব ঋণ আবু বক্করকে পরিশোধ করে দেন। তবে হাজেরা অন্যত্র জমি বিক্রি করায় আবু বক্কর তার কাছ থেকে নেওয়া ফাঁকা স্ট্যাম্পকে বায়নানামায় পরিণত করে প্রতারণার মামলা দেন।পরিদর্শক পরিমল বলেন, মামলাটিতে আবু বক্করের পক্ষে তার চার ভাই সাক্ষী দিতে আদালতে আসেন। কিন্তু আদালতের জিজ্ঞাসাবাদে তারা বলেন, বাস্তবে বায়নার নামে কোনো টাকা-পয়সাই বাদী-আসামির মধ্যে লেনদেন হয়নি। তারা আরও স্বীকার করেন, জমির ওপর হাজেরা যত টাকা নিয়েছিলেন, সেই টাকা পরিশোধ হয়ে গেছে।তিনি বলেন, বিচার শেষে আদালতের কাছে বাদীর অভিযোগ মিথ্যা ও হয়রানিমূলক প্রতীয়মান হয়। ফলে আদালত আসামিদের খালাস দিয়ে বাদীকেই এক মাসের সশ্রম কারাদন্ড দেন। একই সঙ্গে চার আসামির প্রত্যেককে এক হাজার টাকা করে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার আদেশ দেন। রায় ঘোষণাকালে আদালতে সিদ্দিক উপস্থিত ছিলেন। পরে তাকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়। তবে আপিলের শর্তে স্থানীয় কাউন্সিলের জিম্মায় জামিন পেয়েছেন তিনি।
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

উপরে