বুধবার, ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৩, ২৪ মাঘ ১৪২৯
walton1
স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি

আইনের ভাষ্য বনাম বাস্তবতা

জবানবন্দি রেকর্ডকারী একজন ম্যাজিস্ট্রেটকে তার নিজস্ব যুক্তি, বুদ্ধি ও চিন্তার প্রতিফলন ঘটানোর বিপুল পরিমাণে সুযোগ তৈরি করে দিয়েছে। এমনকি অভিযুক্তকে শারীরিকভাবে নির্যাতন-নিপীড়ন করা হয়েছে কিনা সেই সংক্রান্ত আঘাতের দাগ ও চিহ্ন খুঁজে বের করার উদ্দেশ্যে জবানবন্দি গ্রহণকারী ম্যাজিস্ট্রেট ন্যায়বিচারের স্বার্থে প্রয়োজনে অভিযুক্তের শারীরিক পরীক্ষাও করতে পারেন।
এসএম তাসমিরুল ইসলাম উদয়
  ০৬ ডিসেম্বর ২০২২, ০০:০০
কোনো অপরাধের দায়ে অভিযুক্ত ব্যক্তি কর্তৃক ওই অপরাধের দায় স্বীকার করে নেওয়া হলো স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি। আইন-আদালতের ভাষায় এই স্বীকারোক্তিকে বলা হয় দোষ স্বীকারোক্তি। অভিযুক্ত ব্যক্তি যদি নিজেকে না জড়িয়ে অপরাধের ঘটনা সম্পর্কে কোন বিবৃতি প্রদান করে তবে তা অপরাধ স্বীকারোক্তি নয় (আব্দুল ওয়াহাব বনাম রাষ্ট্র, ৬ বিএলডি, ৩৯০)। দ্য এভিডেন্স অ্যাক্ট-১৮৭২ এর ধারা-২৪ থেকে ২৮ সাপেক্ষে এবং দ্য কোড অব ক্রিমিনাল প্রসিডিউর-১৮৯৮ এর ধারা-১৬৪ ও ৩৬৪-এর বিধানের আলোকে এই স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি গ্রহণের কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়। ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ (১) ধারা অনুযায়ী মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট, প্রথম শ্রেণির ম্যাজিস্ট্রেট এবং এই বিষয়ে সরকার কর্তৃক বিশেষভাবে ক্ষমতাপ্রাপ্ত দ্বিতীয় শ্রেণির ম্যাজিস্ট্রেট জবানবন্দি লিপিবদ্ধ করতে পারবেন। এ ধরনের জবানবন্দি তদন্ত বা অনুসন্ধানকালে বা বিচার শুরু হওয়ার আগে বা পরে যে কোনো সময় করা যাবে। তবে লিপিবদ্ধকারী ম্যাজিস্ট্রেটের অপরাধ বিচারের এখতিয়ার এখানে বিবেচ্য হবে না। স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি রেকর্ডকালে একজন ম্যাজিস্ট্রেট নিন্মোক্ত বিধানের আলোকে কার্যক্রম পরিচালনা করবেন: ক. স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি কোনো পুলিশের সামনে রেকর্ড করা যাবে না, এটা অবশ্যই শুধু ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে এবং তার তত্ত্বাবধানে রেকর্ড হবে, এমনকি এ স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি রেকর্ড করার সময় সংশ্লিষ্ট ম্যাজিস্ট্রেটের কক্ষেও কোনো পুলিশ উপস্থিত থাকতে পারবে না। খ. ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪(৩) ধারা মোতাবেক, সংশ্লিষ্ট ম্যাজিস্ট্রেট স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি রেকর্ড করার আগে তিনি অবশ্যই জবানবন্দিদাতাকে এটা পরিষ্কারভাবে ব্যাখ্যা করবেন যে, এই জবানবন্দি প্রদান করতে তিনি কোনোভাবে বাধ্য নন এবং তাকে এ-ও পরিষ্কার করে বলতে হবে যে, যদি এ ধরনের কোনো স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন, তাহলে এটা তার বিরুদ্ধেও ব্যবহৃত হতে পারে। গ. সংশ্লিষ্ট ম্যাজিস্ট্রেট জবানবন্দিদাতাকে প্রশ্ন করার মাধ্যমে ব্যক্তিগতভাবে সন্তুষ্ট হতে হবে যে, এই জবানবন্দিদাতা সম্পূূর্ণ স্বেচ্ছায় এবং কোনো প্রকার প্রভাবে প্রভাবিত না হয়ে এই স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করছেন। ঘ. ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৬৪ ধারায় জবানবন্দি রেকর্ড ও স্বাক্ষর করার যে পদ্ধতি বলা হয়েছে, সে মোতাবেক সংশ্লিষ্ট ম্যাজিস্ট্রেট জবানবন্দিদাতার স্বাক্ষর নেবেন এবং স্বাক্ষর নেওয়ার আগে তিনি কী জবানবন্দি দিয়েছেন, তা তাকে অবশ্যই পড়ে শোনাবেন। ঙ. জবানবন্দি স্বেচ্ছাপ্রণোদিতভাবে প্রদান করা হয়েছে এবং তিনি জবানবন্দি দেওয়ার ফলাফল সম্পর্কে ব্যক্তিটিকে অবহিত করেছেন কিনা উলেস্নখ করে একটি মেমোরেন্ডাম লিখবেন। ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি রেকর্ড করার পূর্বে একজন ম্যাজিস্ট্রেটকে অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে স্বীকারোক্তি রেকর্ড করতে হবে অন্যথায় কার্যক্রমটি প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে যাবে। পদ্ধতিগত ত্রম্নটি-বিচু্যতি এড়াতে এবং রেকর্ড কার্যক্রমকে নির্ভরযোগ্য ও বিশ্বাসযোগ্য করে তোলার জন্য কোড অব ক্রিমিনাল প্রসিডিউরের পাশাপাশি ক্রিমিনাল রুলস অ্যান্ড অর্ডারস-২০০৯ এর বিধানসমূহ একজন রেকর্ডকারী ম্যাজিস্ট্রেটের জন্য অবশ্য পালনীয়। অত্র আদেশ দ্বারা একজন ম্যাজিস্ট্রেটকে নির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে, একজন ম্যাজিস্ট্রেটকে পর্যাপ্ত যত্ন সহকারে এবং সতর্কতার সঙ্গে এই রেকর্ড কার্যক্রম পালন করতে হবে। ওই কার্যক্রমকে অতিরিক্ত কার্যক্রম হিসেবে বিবেচনা করা যাবে না, বরং স্বীকারোক্তি প্রদানকারী আসামির পরিণতি হিসেবে এবং ফৌজদারি ন্যায়বিচার নিশ্চিতকরণে আদালতের দায়দায়িত্ব হিসেবে বিবেচনা করতে হবে। ১৯৭২ সালের দ্য এভিডেন্স অ্যাক্টের বিধান এবং সিআরপিসির ১৬৪ ও ৩৬৪ ধারার বিধান সতর্কতার সহিত অধ্যয়ন করতে হবে এবং যাতে কোনো অবহেলা-অযত্ন এবং দ্রম্নততা না হয় (রাষ্ট্র বনাম লালু মিয়া ৩৯ ডিএলআর, এডি,পৃঃ ১১৭)। স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দির প্রতি সতর্কতার কারণ হচ্ছে এই স্বীকারোক্তি জবানবন্দি দাতার বিরুদ্ধে সাক্ষ্যে ব্যবহার হতে পারে। স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দির ক্ষেত্রে যখন সাক্ষ্য হিসেবে সিআরপিসি-১৮৯৮ এর ১৬৪ ধারার দলিল পেশ করা হয় এবং দেখা যায় যে ১৬৪(৩) ধারার প্রয়োজনীয় একটি স্মারকলিপি দেওয়া হয়েছে তখন এভিডেন্স অ্যাক্টের ৮০ ধারায় এই অনুমান করা হয় যে, সমস্ত প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা সম্পাদন করা হয়েছে এবং সেই দলিল অন্য কোনো প্রমাণ ছাড়াই সাক্ষ্য হিসেবে গ্রহণযোগ্য [ মেজর মো. বজলুল হুদা (আর্টিলারি) বনাম রাষ্ট্র, ৬২, ডিএলআর,এডি, ২০১০]। স্বীকারোক্তি যদি স্বেচ্ছা, স্বতঃপ্রণোদিত ও সত্য হিসেবে প্রমাণিত হয় এবং ওই স্বীকারোক্তি যদি বাদী পক্ষ কর্তৃক উত্থাপিত মামলার ঘটনার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হয় তবে ওই জবানবন্দি দাতাকে সাজা প্রদানের জন্য তা একমাত্র ভিত্তি হতে পারে এবং অপরাধের ধরন অনুযায়ী সর্বোচ্চ সাজাও হতে পারে (ইসলাম উদ্দিন বনাম রাষ্ট্র, ১৩ বিএলসি, এডি, পৃঃ ৮১, ২০০৮)। আমাদের দেশে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিকে কেন্দ্র করে বিতর্ক আছে। অভিযোগ হচ্ছে যে, রেকর্ডকৃত জবানবন্দি স্বেচ্ছায় ও স্বতঃপ্রণোদিত হচ্ছে না। যদি জবানবন্দি স্বেচ্ছায় ও স্বতঃপ্রণোদিত না হয়ে থাকে তবে এই কার্যক্রম অসাংবিধানিক এবং এই জবানবন্দি গ্রহণকালে যদি কোনো প্রকার নির্যাতনের ঘটনা ঘটে থাকে তবে তা দেশের বিদ্যমান দ্য পেনাল কোড-১৮৬০ এবং নির্যাতন এবং হেফাজতে মৃতু্য (নিবারণ) আইন- ২০১৩ অনুযায়ী শাস্তিযোগ্য অপরাধ। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৩৫(৪) অনুযায়ী কোনো অপরাধের দায়ে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে নিজের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিতে বাধ্য করা যাবে না। এটি একজন নাগরিকের মৌলিক অধিকার। এই অধিকার দেশের সর্বোচ্চ মৌলিক আইন দ্বারা সুরক্ষিত করা হয়েছে। কিন্তু আমাদের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে এবং ক্ষেত্র বিশেষে কতিপয় বিজ্ঞ ম্যাজিস্ট্রেটদের দ্বারা একজন নাগরিকের এই সাংবিধানিক অধিকার কতটুকু সুরক্ষিত থাকছে তা নিয়ে তৈরি হয়েছে সন্দেহ, সৃষ্টি হয়েছে অবিশ্বাস। সাম্প্রতিককালে ঘটে যাওয়া কিছু আলোচিত ঘটনার দিকে আলোকপাত করলে বিষয়টি আরও স্পষ্ট হবে: ঘটনা-০১ মো. আজম হোসেন ঢাকার হাজারীবাগ থানার বটতলা মাজার রোডের বাসিন্দা। পঞ্চম শ্রেণিপড়ুয়া ছাত্র- ছেলে আবু সাঈদ অপহরণ হয়। পরে হত্যার অভিযোগও আনা হয়। ২০১৪ সালের এপ্রিলে এ বিষয়ে একটি মামলাও দায়ের করেন। মামলা দায়েরের পর পুলিশ ছয়জনকে গ্রেপ্তার করে। থানার মধ্যেই দুজনের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিও আদায় করা হয়। ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি নেওয়ার পর পুলিশ গ্রেপ্তার করা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দেয়। সেটার ভিত্তিতে শুরু হয় বিচার। বিচারের শেষ পর্যায়ে শিশুটি উদ্ধার হয়। জানা যায়, আবু সাঈদ অপহৃত হয়নি। তাকে লুকিয়ে রেখে মিথ্যা মামলা করা হয়েছিল। ওই মামলার আসামিরা জানান, থানায় আটকে অমানসিক নির্যাতনের পর তারা পুলিশের কথামতো স্বীকারোক্তি দিতে বাধ্য হন। ঘটনা-০২ নারায়ণগঞ্জের জিসা মনিকান্ড দেশব্যাপী তুমুল আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি করে। শহরের দেওভোগ পাক্কা রোড এলাকার ১৫ বছরের স্কুলছাত্রী জিসা মণি গত ৪ জুলাই নিখোঁজ হয়। বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও সন্ধান না মেলায় গত ৬ আগস্ট স্কুলছাত্রীর বাবা অপহরণ মামলা করেন। মামলায় প্রধান আসামি করা হয় বন্দর উপজেলার বুরুন্ডি এলাকার আব্দুলস্নাহ (২২) এবং তার বন্ধু রকিব (১৯) ও খলিল মাঝিকে (৩৬)। ওইদিনই পুলিশ তাদের গ্রেপ্তার করে। পুলিশ জানায়, আসামিরা আদালতে ১৬৪ ধারায় এ ঘটনা স্বীকার করে জবানবন্দিতে স্কুলছাত্রীকে গণধর্ষণের পর হত্যা করে লাশ নদীতে ভাসিয়ে দেওয়ার কথা স্বীকার করে। কিন্তু ঘটনার ৫১ দিন পর সেই স্কুলছাত্রীকে খুঁজে পাওয়া যায়। পরে তাকে থানায় হাজির করা হয়। সঙ্গে ছিলেন কিশোরীর স্বামীও। তাকে জীবিত অবস্থায় পাওয়ায় তোলপাড় সৃষ্টি হয়। বিষয়টি উচ্চ আদালতের নজরে আনা হলে হাইকোর্টের এক নির্দেশনা অনুসারে নারায়ণগঞ্জে স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে মর্মে আসামিদের স্বীকারোক্তির বিষয়ে বিচারিক তদন্ত করেন নারায়ণগঞ্জের চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ফারহানা ফেরদৌস। প্রতিবেদনের মতামত অংশে বলা হয়, 'বিচারিক অনুসন্ধানে মামলার এজাহার, সাক্ষীদের প্রদত্ত জবানবন্দি, ভিকটিমের ২২ ধারায় প্রদত্ত জবানবন্দি, আসামিদের ১৬৪ ধারায় প্রদত্ত স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি, জব্দকৃত আলামতসহ মামলাটির সার্বিক দিক পর্যালোচনা করা হয়েছে। সার্বিক বিবেচনায় ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৭ ধারা অনুযায়ী আসামিদের পুলিশ রিমান্ড মঞ্জুর, ১৬৪ ধারায় আসামিদের দোষ স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি রেকর্ডের ক্ষেত্রে ম্যাজিস্ট্রেটদের কোনো অনিয়ম বিচারিক অনুসন্ধানকালে প্রতীয়মান হয়নি। তবে পুলিশ হেফাজতে (পুলিশ রিমান্ড) থাকাকালীন তদন্ত কর্মকর্তা নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানার এসআই শামীম আল-মামুনের বিরুদ্ধে আসামিদের মারধর, ভয়ভীতি ও প্রলোভন দেখিয়ে স্বীকারোক্তি প্রদানে বাধ্য করার অপরাধের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া যায়।' এখানে উলেস্নখ করা প্রয়োজন, নির্যাতনের মাধ্যমে স্বীকারোক্তি প্রদানে বাধ্য করার ক্ষেত্রে একজন ম্যাজিস্ট্রেট যদি আইনের পুঙ্খানুপুঙ্খ অনুসরণের চেষ্টা করেন তবে অবশ্যই তিনি ঘটনার সত্যতা কিছুটা হলেও আঁচ করতে পারতেন। ক্রিমিনাল রুলস অ্যান্ড অর্ডারস-২০০৯ এর বিধান অনুযায়ী, ম্যাজিস্ট্রেট অভিযুক্তের জবানবন্দি লিপিবদ্ধ করার জন্য অগ্রসর হবেন না যতক্ষণ পর্যন্ত তিনি অভিযুক্ত প্রশ্ন করে এবং তার আচরণ লক্ষ্য করে এই বিষয়ে নিশ্চিত হবেন যে অভিযুক্ত স্বতঃপ্রণোদিতভাবে জবানবন্দি দেওয়ার জন্য প্রস্তুত। অত্র বিধিতে আরও বলা হচ্ছে, ম্যাজিস্ট্রেট শুধুমাত্র নিয়ম রক্ষার জন্য জবানবন্দি গ্রহণ করবেন। তিনি তার বিচারিক মনোভাব প্রয়োগ করবেন এবং তার নিশ্চিত যুক্তি ও কারণ খুঁজে বের করার প্রচেষ্টা চালাবেন। অর্থাৎ এই ক্ষেত্রে আইন জবানবন্দি রেকর্ডকারী একজন ম্যাজিস্ট্রেটকে তার নিজস্ব যুক্তি, বুদ্ধি ও চিন্তার প্রতিফলন ঘটানোর বিপুল পরিমাণে সুযোগ তৈরি করে দিয়েছে। এমনকি অভিযুক্তকে শারীরিকভাবে নির্যাতন-নিপীড়ন করা হয়েছে কিনা সেই সংক্রান্ত আঘাতের দাগ ও চিহ্ন খুঁজে বের করার উদ্দেশ্যে জবানবন্দি গ্রহণকারী ম্যাজিস্ট্রেট ন্যায়বিচারের স্বার্থে প্রয়োজনে অভিযুক্তের শারীরিক পরীক্ষাও করতে পারেন। নারায়ণগঞ্জের ঘটনায় জবানবন্দি গ্রহণকারী বিজ্ঞ ম্যাজিস্ট্রেট কখনই তার আইনগত ও নৈতিক দায় এড়াতে পারে না। নারায়ণগঞ্জের ঘটনার সত্যতা উদঘাটন হওয়ার পর মহামান্য হাইকোর্ট মন্তব্য করেন, 'ফাঁসি হবে জেনেও আসামিরা কি স্বেচ্ছায় জবানবন্দি দিয়েছেন?' লেখক : এস এম তাসমিরুল ইসলাম উদয়, \হতরুণ আইনজীবী ও অধিকারকর্মী।
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

উপরে