শনিবার, ২০ এপ্রিল ২০২৪, ৬ বৈশাখ ১৪৩১

সব ক্ষেত্রে রাষ্ট্র্রভাষা ব্যবহার নিশ্চিত হয়নি কেন?

আইন ও বিচার ডেস্ক
  ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ০০:০০

সরকারের বড় উদ্যোগগুলো পর্যালোচনা করে দেখা যায়, মূল সংবিধান, ১৯৮৭ সালের বাংলা ভাষা প্রচলন আইন, উচ্চ আদালতের ২০১৪ সালের রায় এবং জিয়াউর রহমান ও এইচ এম এরশাদ সরকারের সময়ের এক ডজনেরও বেশি আদেশ, পরিপত্র বা বিধি থাকলেও সব ক্ষেত্রে রাষ্ট্রভাষার ব্যবহার নিশ্চিত করা যায়নি।

১৯৮১ সালে সংস্থাপন মন্ত্রণালয়ের অধীনে বাংলা ভাষা বাস্তবায়ন কোষ (বাবাকো) প্রতিষ্ঠা করা হয়। কোষের কার্যক্রমও চলছে ঢিমেতালে। প্রতিষ্ঠার পর থেকে বাবাকো জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের ১৪টি আইন, বিধি ও অধ্যাদেশ প্রমিতিকরণ করেছে। এ ছাড়া অন্য সব মন্ত্রণালয়ের ৫৭টি আইন বা অধ্যাদেশ প্রমিতিকরণ করেছে। অথচ শত শত আইন এখনো ইংরেজিতে রয়েছে, যেগুলোর অনুবাদের পর বাবাকোর প্রমিতিকরণ করার কথা। এ পর্যন্ত বাবাকোর উলেস্নখযোগ্য অর্জন হচ্ছে, প্রশাসনিক পরিভাষা, পদবি পরিভাষা ও সরকারি কাজে ব্যবহারিক বাংলা এই তিনটি পুস্তিকা প্রণয়ন করা।

সচিবালয় নির্দেশিকা-২০১৪ প্রণয়নে বাবাকো সাচিবিক দায়িত্ব পালন করেছে।

১৯৭১ সালের ১৫ ফেব্রম্নয়ারি বাংলা একাডেমিতে এক অনুষ্ঠানে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বলেন, 'আমি ঘোষণা করছি, আমাদের হাতে যেদিন ক্ষমতা আসবে, সেদিন থেকেই দেশের সর্বস্তরে বাংলা ভাষা চালু হবে।' ১৯৭১ সালের ৩০ ডিসেম্বর নতুন মন্ত্রিসভা গঠন করে প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদ ঘোষণা দেন, বাংলা হবে দেশের সরকারি ভাষা।

বাংলা ভাষা প্রচলন আইন হয় ১৯৮৭ সালের ৮ মার্চ। ওই বছরের ১২ এপ্রিল সংস্থাপন মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, 'সরকার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করিয়াছেন যে, ভবিষ্যতে সকল নতুন আইন, অধ্যাদেশ, বিধি ইত্যাদি অবশ্যই বাংলায় প্রণয়ন করিতে হইবে।' ১৯৭৯ সালের ২৪ জানুয়ারি সর্বস্তরে বাংলা ভাষা নিশ্চিত করতে মন্ত্রিসভা নয়টি সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। ওই বছরের ১৬ ফেব্রম্নয়ারি এসব সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে ১০ সচিবের সমন্বয়ে কমিটি গঠন করা হয়। এর কয়েক মাস পর ৩ মে বঙ্গভবনের আদেশে বলা হয়, সব নোট, সার-সংক্ষেপ বা প্রস্তাবটি বাংলায় উপস্থাপনা করা না হলে রাষ্ট্রপতি তা গ্রহণ করবেন না। ৪ মে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ এ সংক্রান্ত আদেশটি সবাইকে অবহিত করে।

বিচারপতি কাজী ইবাদুল হক এবং বিচারপতি মো. হামিদুল হক সমন্বয়ে হাইকোর্টের একটি বেঞ্চ ১৯৯৮ সালের ১২ ফেব্রম্নয়ারি ফৌজদারি মামলায় বাংলায় রায় দেওয়ার পর তা নিয়ে দেশজুড়ে আলোচনা হয়। কিছু ব্যতিক্রম ছাড়া এখনো উচ্চ আদালতে ইংরেজিতে রায় দেওয়া হচ্ছে। ২০১৪ সালের ১৭ ফেব্রম্নয়ারি একটি রিট আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে হাইকোর্ট বিভাগ সাইনবোর্ড, বিলবোর্ড, ব্যানার, গাড়ির নম্বরপেস্নট, বিভিন্ন দপ্তরের নামফলকে বাংলা ব্যবহার করতে বলেন। এই পরিপ্রেক্ষিতে ওই বছরের ১৪ মে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সিটি করপোরেশন, পৌরসভা ও ক্যান্টনমেন্ট বোর্ডগুলোকে আদেশটি কার্যকর করতে বলে। যা এখনো পুরোপুরি কার্যকর হয়নি।

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

উপরে