বৃহস্পতিবার, ০২ ফেব্রুয়ারি ২০২৩, ১৯ মাঘ ১৪২৯
walton1

ঝিলিক বাড়ছে ঝিলিকের

মাতিয়ার রাফায়েল
  ২৪ নভেম্বর ২০২২, ০০:০০
নতুন প্রজন্মের গানের শিল্পীদের মধ্যে জানিতা আহমেদ ঝিলিক এখন দারুণ এক সময় পার করছেন। গানের ভুবনে ঝিলিক নামেই বেশি পরিচিত তিনি। সেই তিন বছর বয়স থেকে বাংলা গানের সঙ্গে জড়িয়ে আছেন। এরপর 'চ্যানেল আই সেরাকণ্ঠ-২০০৮ এ চ্যাম্পিয়ন হওয়ার মধ্য দিয়ে পেশাদারি গানে পা রাখেন ঝিলিক। সেই থেকে পার করে এসেছেন তার চৌদ্দ বছরের ক্যারিয়ার। বর্তমান সময়ের সেরাকণ্ঠখ্যাত কণ্ঠশিল্পী ঝিলিক। গান গেয়ে খুব অল্প সময়ের মধ্যেই শ্রোতাপ্রিয়তা লাভ করেছেন। ঝিলিকের গানের হাতেখড়ি তার বাবার কাছেই। ক্লাসিক্যাল, নজরুলসংগীত, রবীন্দ্রসংগীত, আধুনিক, ফোক- সব ধরনের গানেই সমান দখল আছে ঝিলিকের। তার অসাধারণ গায়কি আর কণ্ঠশৈলীর জাদুতে খুব সহজেই জায়গা করে নিয়েছেন ভক্ত-শ্রোতাদের হৃদয়। এখানেই শেষ নয়, আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন কণ্ঠশিল্পী রুনা লায়লার সুনজরেও পড়েছেন তিনি। প্রায় সময়েই তার খোঁজ-খবর নেন রুনা লায়লা। যখন যতটুকু সময় দিতে পারেন গানের ত্রম্নটি-বিচু্যতি ধরিয়ে দিতে গাইডও করেন। তাতে করে ঝিলিকের উৎসাহ বেড়ে গেছে আরও বহু গুণ। ঝিলিক বলেন, 'এটা কয়জনের ভাগ্যে জোটে বলেন। মাঝে মাঝে আমাকে ফোন দিয়ে প্রশংসা করেন, কোন গানের কোথাও ত্রম্নটি দেখলে সেটা আমাকে ধরিয়ে দেন। এটা হয়নি, ওটা হয়নি বলে আমার গানের ইমপ্রম্নভের জন্য সাপোর্ট দেন। আমার কাছে এই অনুপ্রেরণা কোনো অ্যাওয়ার্ডের সঙ্গেও তুলনা করা যাবে না। সেদিক থেকে নিজেকে অনেক বেশি ভাগ্যবতী মনে হয়।' ঝিলিকের কাছ থেকে জানা গেল, বর্তমানে বিরতিহীন কাজ করছেন তিনি। বিশেষ করে স্টেজ শোতে তার বিচরণ এখন লক্ষ্য করার মতো। দেশের বিভিন্ন জেলা শহরে একের পর এক স্টেজ শো'তে উপস্থিত হচ্ছেন। মাতিয়ে চলেছেন দর্শক-শ্রোতাদের। তার প্রতি এই দর্শক-শ্রোতার চাহিদার কারণে জ্যেষ্ঠ সংগীত তারকাদেরও সুনজরে পড়ছেন তিনি। স্টেজ শো ছাড়াও নিজের ইউটিউব চ্যানেলের জন্য মিউজিক ভিডিও করছেন একের পর এক। এরই মধ্যে ইউটিউবে সংগীতশিল্পী কামাল আহমেদের সঙ্গে মিউজিক অব বেঙ্গলের ব্যানারে 'একই বৃন্তে' নামের তার মিউজিক ভিডিও প্রকাশ হয়েছে বলে জানালেন ঝিলিক। গানটির কথা লিখেছেন শাহিন আনোয়ার, সুর ও সংগীত পরিচালনায় সুজেয় শ্যাম, চিত্রগ্রহণ এবং পরিচালনা করেছেন জামিউর রহমান লেমন। তবে জানিতা আহমেদের ঝিলিকের ভাষ্য, ঘন ঘন মিউজিক ভিডিও করা তার পছন্দ নয়। মাসে মাসে মিউজিক ভিডিও করলে দর্শক-শ্রোতাও গানটির সঙ্গে একাত্ম হতে পারেন না। নতুন আরেকটি গান এসে গেলে আগের গানটি ভুলে যান। তার মতে, 'সে জন্য দর্শক-শ্রোতাকে সময় দিতে হবে।' এখনকার শিল্পীদের গান দর্শক-শ্রোতার মনে থাকে না খুব দ্রম্নতই ভুলে যান। এটা মিডিয়ায় সব সময়েই আসে। এ বিষয়ে ঝিলিকেরও নজর এড়িয়ে যাওয়ার কথা নয়। সেই দৃষ্টিকোণ থেকেই তিনি মনে করেন, মিউজিক ভিডিও ঘন ঘন না ছেড়ে বরং সময় নিয়েই ছাড়া উচিত। এখন যে নতুনদের গান জনপ্রিয় হচ্ছে না সেই সংকট কি কেটে যাবে এই বিরতি দিয়ে গান ছাড়া হলে? এমন প্রশ্নে ঝিলিক বলেন, 'জনপ্রিয় না হোক, গানটি ভালো করে শোনা জানা ও বোঝার জন্যও তো সময় দেয়া উচিত দর্শক-শ্রোতাদের। সব গানই যে জনপ্রিয় হবে এমন তো কথা নেই।' ঝিলিক বিভিন্ন ইভেন্টের ওপর সম্মিলিতভাবে কাজ করেছেন। যেমন পদ্মা সেতু নিয়ে কোনালসহ কয়েকজনের সঙ্গে সমবেত কণ্ঠ দিয়েছেন তিনি। এতে জাতীয় পর্যায়েও দর্শক-শ্রোতার কাছে তার গুরুত্ব বেড়েছে। অন্যদিকে 'পদ্মা সেতু' নিয়ে বাংলাদেশ বেতারের তৈরি করা 'পদ্মা সেতুর গান'টিতেও যৌথভাবে কণ্ঠ দিয়েছেন ঝিলিক ও রাশেদ। গানটির কথা লিখেছেন শফিকুল ইসলাম বাহার। সুর ও সংগীতায়োজন করেছেন উজ্জ্বল সিনহা। তবে পেস্ন-ব্যাক নিয়ে যেন ঝিলিকের কিছুটা উষ্মা রয়েছে। সম্প্রতি ঢাকাই সিনেমায় নতুন জোয়ার আসা প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে তিনি বলেন, 'দেশের সিনেমায় নতুন একটা আগ্রহ তৈরি হচ্ছে এটা আমাদের জন্য ভালো একটা খবর। তবে যারা সিনেমা নিয়ে কাজ করছেন তাদের আরো বেশি ছড়িয়ে ছিটিয়ে কাজ করা উচিত। শুধু গুটিকয় শিল্পীর মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না। তাদের দেখা উচিত দেশের শ্রোতারা কার কার গান শুনতে চায়- তাদেরও পেস্ন-ব্যাক করার সুযোগ করে দেওয়া উচিত। আমি তো চাইলে প্রতি মাসেই একটা করে মিউজিক ভিডিও করতে পারি কিন্তু মুভি বানিয়ে গান তো গাইতে পারব না। সেজন্যই পেস্ন-ব্যাক করার ক্ষেত্রে সবাইকেই সুযোগ দেওয়া উচিত। অন্তত দর্শক-শ্রোতা যাদের গান শুনতে চান।' কথাটি খুবই বিজ্ঞজনের মতই বলেছেন ঝিলিক। আমাদের সবকিছুতেই যেন একটা সিন্ডিকেট জড়িত থাকে। যে কারণে যোগ্যতা ও প্রতিভা থাকা সত্ত্বেও অনেক সময় এই সিন্ডিকেটভুক্তদের চাইতেও ভালো পারফর্মাররা সুযোগের অভাবে বঞ্চিত থাকেন। প্রথম প্রথম এটা কিংবদন্তি কণ্ঠশিল্পী রুনা লায়লার ক্ষেত্রেও ঘটেছিল। রীতিমত লড়াই করতে হয়েছিল তাকে ঢাকাই ফিল্মি ইন্ডাস্ট্রিতে। সুযোগ পাওয়ার পর তিনি প্রমাণ দিয়েছেন পেস্ন-ব্যাক কাকে বলে এবং কত প্রকার। সেজন্য কার গলায় কোন গান ম্যাচ করবে সেটা বুঝেশুনেও গান তৈরি করা উচিত সিনেমার পরিচালকদের।
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

উপরে