মঙ্গলবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৪, ১০ বৈশাখ ১৪৩১

বাংলালিংক-এর দুই হাজারের বেশি টাওয়ার অধিগ্রহণ

কাজী দ্বীন মোহাম্মদ, বিশেষ প্রতিনিধি
  ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ২০:৫৫

দেশের সর্ববৃহৎ টেলিযোগাযোগ অবকাঠামো সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান, সামিট কমিউনিকেশনস-এর মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান সামিট টাওয়ারস সফলভাবে বাংলালিংক ডিজিটাল কমিউনিকেশনস লিমিটেড-এর ২০১২ টি টাওয়ার অধিগ্রহণ করেছে। এটি বাংলাদেশের টেলিকমিউনিকেশনস সেক্টর এর জন্য একটি উল্লেখযোগ্য মাইলফলক।

১১০০ কোটি টাকা অর্থমূল্যের এই চুক্তিটির ফলে প্রতিষ্ঠান দুটির মাঝে একটি স্থায়ী অংশীদারিত্ব প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। একইসাথে এটি বাংলাদেশের টেলিযোগাযোগ অবকাঠামো সেক্টরে সামিট-এর অবস্থান আরও দৃঢ় করেছে।

সামিট টাওয়ার-এর জন্য গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে বিবেচিত এই অধিগ্রহণটি মোবাইল অপারেটরদের উন্নত নেটওয়ার্ক সেবা প্রদানের মাধ্যমে গ্রাহকদেরকে নিরবচ্ছিন্ন ফোর-জি সেবা প্রদানে সহায়তা করবে। একইসাথে ফাইভ-জি সেবা প্রদানের ভিত্তিও স্থাপন করবে। এছাড়াও, মানসম্মত টেলিযোগাযোগ অবকাঠামোগত সেবা, ইন্টিগ্রেটিং ফাইবার, টাওয়ার ও নতুন চালু হতে যাওয়া সাবমেরিন কেবল সেবা প্রদান করার ক্ষেত্রে সামিট টেলিকমিউনিকেশনস-এর সক্ষমতাকে বাড়াবে। যা প্রতিষ্ঠানটিকে এর অংশীদার ও গ্রাহকদের ক্রমবর্ধমান চাহিদা পূরণে সহায়তা করবে।

বাংলালিংক-এর জন্যও এই চুক্তিটি একটি বড় মাইলফলক হয়ে থাকবে, কারণ দেশজুড়ে নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ ও রক্ষণাবেক্ষণের খরচ বাঁচানো ছাড়াও এটি সেবার মান বৃদ্ধি ও প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষায় সহায়তা করবে।

এই মুহূর্তকে স্মরণীয় করে রাখতে সামিট কমিউনিকেশনস গ্রুপ ১৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৪-এ হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল-এর গ্র্যান্ড বলরুম রূপসী বাংলাতে “সেলিব্রেটিং সিনার্জি” শীর্ষক অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

অনুষ্ঠানে ‘প্রধান অতিথি’ হিসেবে ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্য ও প্রযুক্তি বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক, এম. পি., ‘বিশেষ অতিথি’ হিসেবে আইসিটি বিভাগের সচিব, মোহাম্মদ সামসুল আরেফীন ও বিটিআরসি চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার মো. মহিউদ্দিন আহমেদ উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে ‘সম্মানিত অতিথি’ হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সামিট গ্রুপ-এর প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান মুহাম্মদ আজিজ খান। এছাড়াও সাফল্য উদযাপনের এই বিশেষ অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন, সামিট গ্রুপ-এর সম্মানিত চেয়ারম্যান জনাব মুহাম্মদ ফরিদ খান, ম্যানেজিং ডিরেক্টর ও সিইও জনাব মো. আরিফ আল ইসলাম ও এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর মিস ফাদিয়া খান।

এই যৌথ উদ্যোগকে উদযাপন করতে ভিওন-এর গ্রুপ সিইও কান তেরজিওগ্লু, বাংলালিংক-এর সিইও এরিক অসসহ বাংলালিংক-এর উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন।

ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্য ও প্রযুক্তি বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী জনাব জুনাইদ আহমেদ পলক, এম. পি. বলেন, বাংলালিংক এবং সামিট যেভাবে একে অপরের সহযোগী হয়ে কাজ করছে, সেভাবে সকলের উচিত প্রতিদ্বন্দ্বিতার বদলে সকলের সাথে একত্রিত হয়ে কাজ করা। দেশের সাড়ে ৪ হাজার ইউনিয়নে এখন দ্রুতগতির ফাইবার অপটিক ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট আছে। সামিট কমিউনিকেশন যে ২ হাজারের বেশি টাওয়ার অধিগ্রহণ করেছে, বিষয়টিকে সাধুবাদ জানাই।

২০৪১ সাল নাগাদ সকলের অন্তর্ভুক্তিমূলক স্মার্ট সমাজ গড়ে তুলতে এবং সেই যাত্রায় সামিট আমাদের সাথে থাকবে। টাওয়ার শেয়ারিংয়ের মাধ্যমে স্মার্ট নেটওয়ার্ক প্রতিষ্ঠার মধ্যদিয়ে স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মাণে অবদান রাখবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন প্রতিমন্ত্রী।

সামিট গ্রুপ অব কোম্পানিজ-এর প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান জনাব মোহাম্মদ আজিজ খান বলেন, “কোভিড, যুদ্ধ, মার্কিন সুদের হার ইত্যাদি সত্ত্বেও এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ। ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ পৌঁছাতে সরকারের নীতিমালার পাশাপাশি ইন্টারনেট ও সকলের হাতে মোবাইল ফোন তথা “ডিজিটাল বাংলাদেশ” বাস্তবায়নের কারনে এটি সম্ভব হয়েছে। উভয় ক্ষেত্রেই যুক্ত থাকতে পারা সামিটের জন্য বিশেষ সম্মানের। একইভাবে এই টাওয়ার অধিগ্রহণ বাংলাদেশ-এর মধ্যম আয়ের দেশে উন্নিত হওয়া, দারিদ্র্য বিমোচন ও স্মার্ট বাংলাদেশ গড়ার মহান যাত্রারই একটি অংশ।” ভিওন-এর গ্রুপ সিইও কান তেরজিওগ্লু বলেন “সামিট টাওয়ার-এর সাথে আমাদের চুক্তি শুধু একটি আর্থিক লেনদেন নয়; এটি পারস্পরিক সহযোগিতার একটি কৌশলগত উদাহরণ যা আমাদেরকে সত্যিকার অর্থে একটি অ্যাসেট-লাইট ডিজিটাল অপারেটরে পরিণত করবে। এই চুক্তিটি দেশের সবচেয়ে বৈচিত্রপূর্ণ ও উদ্ভাবনী ডিজিটাল পোর্টফোলিও তৈরির ক্ষেত্রে আমাদেরকে দক্ষতার সাথে সম্পদ ব্যবহারে সাহয্য করবে। উদ্ভাবন, সহযোগিতা ও অভিন্ন লক্ষ্যের মাধ্যমে বাংলাদেশের ডিজিটাল ভবিষ্যতের পূর্ণ সম্ভাবনাকে আমরা তরান্বিত করতে পারি।”

বাংলালিংক-এর সিইও এরিক অস বলেন, “সামিট টাওয়ার-এর সাথে আমাদের চুক্তিটি অবকাঠামো ব্যবহার সংক্রান্ত বিষয়ের বাইরেও বিশেষভাবে প্রাসঙ্গিক। এটি একটি রূপান্তরমূলক পদক্ষেপ, যা আমাদের উদ্ভাবনী ডিজিটাল সেবা ও সংযোগের প্রসারে মনোনিবেশ করতে সাহয্য করছে। দেশজুড়ে বিস্তৃত ডিজিটাল অপারেটর হিসেবে, বাংলালিংক তার নেটওয়ার্ক সক্ষমতা দ্বিগুণ করেছে, যা সারাদেশে মাইবিএল ও টফি-এর মতো ডিজিটাল সেবা পৌঁছে দেওয়ার পাশাপাশি ২০৪১ সালের আগে একটি ‘স্মার্ট বাংলাদেশ’ বিনির্মাণে অবদান রাখছে।” সামিট কমিউনিকেশনস লিমিটেড-এর চেয়ারম্যান মুহাম্মদ ফরিদ খান বলেন, “পারস্পরিক সম্মতির মাধম্যে আড়াই মাসের মধ্যে সফলতার সাথে চুক্তি চূড়ান্ত করতে পেরে আমরা অত্যন্ত আনন্দিত। এই চুক্তির মাধ্যমে টাওয়ারগুলির মালিকানা অধিগ্রহণে বাংলাদেশের বাজারে আমাদের ৪,৫০০ টাওয়ার হলো। ৫৫,০০০ কিলোমিটারেরও বেশি বিস্তৃত ফাইবার অপটিক নেটওয়ার্ক ও আসন্ন সাবমেরিন ক্যাবলসহ সামিট কমিউনিকেশনস গ্রুপকে দেশের প্রধান এন্ড-টু-এন্ড ডিজিটাল অবকাঠামো প্রদানকারী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার দশ বছরের লালিত স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিচ্ছে।”

ম্যানেজিং ডিরেক্টর ও সিইও, আরিফ আল ইসলাম বলেন, “বাংলাদেশের টেলিকম শিল্পে টাওয়ার অধিগ্রহনের ঘটনা এটিই প্রথম যা এধরণের আরো লেনদেনের সূচনা করবে। এই টাওয়ার অধিগ্রহণ আমাদেরকে আরো দক্ষতা ও সমন্বয়ের সাথে পরিবেশবান্ধব উপায়ে কর্মকান্ড পরিচালনায় সাহায্য করবে”।

যাযাদি/ এম

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

উপরে