মঙ্গলবার, ২৮ মে ২০২৪, ১৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১

 মারা গেছেন ‘লোহার ফুসফুসে’ বেঁচে থাকা পল

যাযাদি ডেস্ক
  ১৪ মার্চ ২০২৪, ১৯:২৪
 মারা গেছেন ‘লোহার ফুসফুসে’ বেঁচে থাকা পল

পৃথিবীর একমাত্র কৃত্রিম ফুসফুস ছাড়া মানুষ ধরা হয় যুক্তরাষ্ট্রের পল আলেকজান্ডার। পল এর বয়স যখন মাত্র ৬ বছর তখন পোলিওতে আক্রান্ত হন। আর এ রোগে আক্রান্তের কারণে পলের ঘাড় থেকে পুরো শরীর প্যারালাইজড হয়ে যায়।

সে কারণে পল পৃথিবীর আলো বাতাসে মুক্তভাবে শ্বাস নিতে পারছিলেন না। তবে বাঁচতে চেয়েছিলেন। তাই চিকিত্সকরা পরামর্শে দেয় তাকে ধাতব সিলিন্ডারের ভেতর রাখতে, যেখানে বাকি জীবনটা কাটাতে হবে।

গত ১১ মার্চ যুক্তরাষ্ট্রের ডালাস হাসপাতালে মারা যান ৭৮ বছর বয়সী পল। তার দীর্ঘদিনের বন্ধু ড্যানিয়েল স্পিঙ্কস জানান, সম্প্রতি আলেকজান্ডার কোভিড-১৯ এ আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন। তবে তিনি তার মৃত্যুর কারণ জানেন না বলে জানিয়েছেন।

তার ভাই ফিলিপ আলেকজান্ডার পলের সম্পর্কে জানান, সে একজন ‘অবিশ্বাস্য’ রোল মডেল। এই সময়ের ভেতর পল কলেজে যান এবং একজন আইনজীবী হন। প্যালাইজড অবস্থায় নিজের স্মৃতিকথা লিখে গেছে। বইটি সে লিখেছে তার মুখে কলম রেখে। তার বইটির নাম ‘থ্রি মিনিটস ফর এ ডগ: মাই লাইফ ইন এন আয়রন লাং’। ১৫৫ পৃষ্ঠার এই বইটি লিখতে তার পাঁচ বছর লেগেছিল।

মুখ দিয়ে ছবি আঁকছেন পল। এ রীতিতেই বই লেখা হয়েছে।

একদিন দুদিন নয়, দীর্ঘ সাত দশকের বেশি সময় ধরে ৬০০ পাউন্ড ‘লোহার ফুসফুস’-এর ভেতর কাটালেন এক ব্যক্তি। অবিশ্বাস্য মনে হলেও ঘটনা সত্য। এরই মধ্যে গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসে নাম লিখিয়েছেন তিনি। গত মার্চে পলকে বিশ্বের দীর্ঘতম ‘আয়রন ফুসফুসের রোগী’ হিসেবে স্বীকৃতি দেয় গিনেস কর্তৃপক্ষ।

পুরো শরীর প্যারালাইজড হয়ে গেলেও শিক্ষা গ্রহণে তাকে তার শারীরিক অক্ষমতা আটকাতে পারেনি। ধাতব বক্সের ভেতর বাতাস শূন্য করে সেখানে অক্সিজেন ঢুকিয়ে তাকে বাঁচিয়ে রাখা হতো। পলের পলকা শরীরের হয়তো মৃত্যু হয়েছে। কিন্তু পলদের মতো মানুষদের কখনও মৃত্যু হয় না। দশকের পর দশক পোলিও পলরা ‘অসুস্থ’ মানুষের জন্য হয়ে ওঠেন অনুপ্রেরণার দেবদূত। পল আলেকজান্ডাররা আসেন সকল চ্যালেঞ্জ জয় করতে। মানুষকে দেখিয়ে দিতে যে, কোনোকিছুই অসাধ্য নয়।

সূত্র: এপির

যাযাদি/ এম

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়
X
Nagad

উপরে