মঙ্গলবার, ২৮ মে ২০২৪, ১৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১

খাবার-দাবার নিয়ে যে বিতর্ক তুঙ্গে

যাযাদি ডেস্ক
  ১৪ এপ্রিল ২০২৪, ০০:৩৬
ছবি সংগৃহিত

ভারতের আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের দিন যত ঘনিয়ে আসছে ততই নানা বিষয়ে বিতর্ক তুঙ্গে বিরোধী ও সরকারী দলের মধ্যে। রাজ্যে রাজ্যে ভিন্ন ভিন্ন ইস্যুতেই রাজনৈতিক মাঠ উত্তপ্ত। ইতোমধ্যে দিল্লির মুখ্যমন্ত্রীকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে নেয়া হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গের মমতাকে গ্রেপ্তারের দাবি তুলেছে বিজেপি।

এদিকে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি মন্তব্য করেছেন যে কংগ্রেস ও বিরোধী ‘ইন্ডিয়া’ জোটের নেতারা ‘দেশের মানুষের আবেগ নিয়ে খেলতে ভালোবাসেন’, তাদের ‘উত্যক্ত’ করেন এই নেতারা।

অন্যদিকে কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী এবং বিহারের উপমুখ্যমন্ত্রী তেজস্বী যাদবের নাম উল্লেখ না করে প্রধানমন্ত্রী এক নির্বাচনী সভায় এদের সাথে মুঘলদের তুলনা করেছেন। ভারতশাসিত জম্মু-কাশ্মিরের উধমপুরে এক জনসভায় বিরোধী নেতাদের আমিষ খাওয়া নিয়ে এই মন্তব্য করেন মোদি।

জানা যায়, গত বছর সেপ্টেম্বরে ভাইরাল হয়ে যাওয়া একটি ভিডিওতে দেখা গিয়েছিল যে বিহারের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী লালু প্রসাদ যাদব আর কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী একসাথে খাসির গোশত রান্না করছেন। আবার কয়েকদিন আগে বিহারের সাবেক উপমুখ্যমন্ত্রী তেজস্বী যাদব কেন নবরাত্রির সময়ে মাছ খাওয়ার ভিডিও দিলেন, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছিলেন বিজেপি নেতারা।

‘মানুষের ভাবাবেগের কথা ভাবেনই না’

সেই ভিডিওর কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, ‘কংগ্রেস আর বিরোধী জোটের লোকেরা দেশের অধিকাংশ মানুষের ভাবাবেগের কথা ভাবেনই না। মানুষের আবেগ নিয়ে খেলতে ভালোবাসেন তারা। একজন ব্যক্তি (লালু প্রসাদ যাদব), যাকে কোর্ট সাজা দিয়েছে এবং এখন জামিনে আছেন, এরকম একজন অপরাধীর বাড়িতে গিয়ে এরা শ্রাবণ মাসে খাসির গোশত রান্না করল। আবার সেটা ভিডিও বানালো যাতে দেশের মানুষ বিরক্ত হন।’

গত সেপ্টেম্বর মাসের কিছুদিন শ্রাবণ মাস চলে এবং সেই সময়ে মূলত উত্তর ভারতের হিন্দুদের অনেকেই নিরামিষ খান। সেই সময়ে রাহুল গান্ধী খাসির গোশত রান্না করছেন বলেই তাকে কটাক্ষ করেছেন প্রধানমন্ত্রী।

কংগ্রেসের প্রতিক্রিয়া

দলের নেতা রাহুল গান্ধীর খাসির গোশত রান্না করা নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর কটাক্ষের জবাবে কংগ্রেস বলেছে, ‘তারা রাজনৈতিক নেতাদের পুষ্টির মাসিক হিসাব রাখে না, তবে মোদির আমলে যে শিশুদের মধ্যে অপুষ্টি বাড়ছে, তার দিকে দল নজর রেখেছে।’

জাতীয় কংগ্রেসের মুখপাত্র জয়রাম রমেশ বলেন, ‘শিশুদের পুষ্টিগত তথ্য উদ্বেগজনকভাবে খারাপের দিকে চলে গেছে, কিন্তু স্কুলপড়ুয়া শিশুদের মিড-ডে মিল প্রকল্পের অধীনে সকালের নাস্তা দেয়ার জন্য চার হাজার কোটি ভারতীয় টাকার একটি প্রকল্প অর্থের অভাবে গ্রহণই করল না মোদির সরকার।’

তিনি আরো বলেন, ‘২০১৫ থেকে ২১ সাল পর্যন্ত পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুদের মধ্যে রক্তস্বল্পতার ঘটনা প্রায় ১০ শতাংশ বেড়েছে। যেসব নারী ১৫ থেকে ১৯ বছর বয়সসীমার মধ্যে পড়েন, তাদের মধ্যে রক্তস্বল্পতা বেড়েছে ৯.২%। প্রধানমন্ত্রীর রাজ্য গুজরাটে পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুদের প্রতি ১০ জনের মধ্যে ৮ জনের রক্তস্বল্পতা দেখা গেছে।’

নবরাত্রির সময়ে কেন আমিষ? বিহারের সাবেক উপমুখ্যমন্ত্রী ও লালু প্রসাদ যাদবের ছেলে তেজস্বী যাদবের সামাজিক মাধ্যমে পোস্ট করা একটি ছবির কথাও উল্লেখ করেছেন প্রধানমন্ত্রী, এমনটাই জানিয়েছে সংবাদ সংস্থাগুলো।

এখন উত্তর ও পশ্চিম ভারতে হিন্দুদের অনেকেই নবরাত্রি পালন করেন এবং এই সময়ে নিরামিষ খাওয়ার চল রয়েছে তাদের মধ্যে।

নরেন্দ্র মোদি বলেন, ‘নবরাত্রি চলাকালীন আমিষ খাবার খাওয়া, সেটার ভিডিও করে দেখানো, মানুষের ভাবাবেগে আঘাত দেয়া, কাদের খুশি করতে চাইছেন আপনারা?’

‘বিজেপি নেতাদের বুদ্ধির পরীক্ষা’

এ মাসের আট তারিখে তেজস্বী যাদব বিমানে বসে মাছ খাওয়ার একটি ভিডিও পোস্ট করেন।

যদিও পোস্টটা তিনি করেছিলেন পরের দিন, যেদিন নবরাত্রি শুরু হয়েছে।

বিজেপি তাকে ‘মরসুমি সনাতনী’ বলে কটাক্ষ করেছিল।

জবাবে তেজস্বী যাদব বলেছিলেন, তিনি পোস্টে লিখেই দিয়েছিলেন যে ভিডিওটি ৮ এপ্রিলের। ভিডিওটি দিয়ে তিনি বিজেপি নেতাদের বুদ্ধির পরীক্ষা নিতে চেয়েছিলেন বলেও জানিয়েছিলেন।

মাছ খাওয়ার ভিডিও দেয়ার দুদিন পরে আরেকটি ভিডিও দিয়েছিলেন তেজস্বী যাদব। সেখানে তাকে দেখা যাচ্ছিল কমলালেবু খেতে।

ভিডিওর ওপরে তিনি লিখেছিলেন, ‘হ্যালো বন্ধুরা। আজ হেলিকপ্টারে কমলালেবু পার্টি হচ্ছে। কমলা রঙটা নিয়ে ওরা আবার বিরক্ত হবে না তো?’

বিজেপির পছন্দের রঙ গেরুয়া আর কমলা – দুটিই বেশ কাছাকাছি।

উধমপুরে প্রধানমন্ত্রীর বক্তৃতার জবাবে বিহারের সাবেক উপমুখ্যমন্ত্রী তেজস্বী যাদব এক নির্বাচনী জনসভায় বলেন যে মানুষের আসল সমস্যাগুলো নিয়ে কথা না বলে তারা কে কী খাবে, কে কী পরবে, তা নিয়ে রাজনীতি করতে নেমে পড়েছে।

ইংরেজি সংবাদ চ্যানেল এনডিটিভি তেজস্বী যাদবকে উদ্ধৃত করে জানিয়েছে, ‘যেসব গুরুত্বপূর্ণ বিষয় আছে, তা নিয়ে কথা না বলে বিজেপি কথা বলছে মানুষ কী খাবে আর পরবে, তা নিয়ে।’

‘বিহারের ইস্যু নিয়ে তারা কথা বলছে না। রাজ্য থেকে বাইরে কাজের খোঁজে যাওয়া কী করে বন্ধ করা যায় বা ভোটে জিতে ক্ষমতায় এলে পরবর্তী পাঁচ বছরে তারা কী করবে সেসব নিয়ে কথা নেই। গত দশ বছরে কেন্দ্রে বা রাজ্যে ১৭ বছরে কিছুই করেনি তারা... কিন্তু তারা মানুষ কী পরবে, কী খাবে সেসব নিয়ে কথা বলবে আর তা নিয়েই রাজনীতি চালিয়ে যাবে,’ মন্তব্য তেজস্বী যাদবের।

সূত্র : বিবিসি

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়
X
Nagad

উপরে