শুক্রবার, ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৩, ২০ মাঘ ১৪২৯
walton1

নবীজির যুগে আরবদের পেশা

যাযাদি ডেস্ক
  ২৭ নভেম্বর ২০২২, ১৩:৩৫
ফাইল ছবি

ইসলামে ইবাদতের পাশাপাশি জীবিকা অর্জনের বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। আল্লাহর প্রেরিত নবী-রাসুলরাও বিভিন্ন পেশা অবলম্বন করেছেন। কারণ ইসলাম বৈরাগ্য পছন্দ করে না। বেকারত্বের গ্লানি নিয়ে ঘুরতে উৎসাহ দেয় না। আজ আমরা রাসুল (স.)-এর যুগে আরবদের কী কী পেশা ছিল।

ব্যবসা
রাসুলুল্লাহ (স.)-এর যুগে ব্যবসা-বাণিজ্যে কোরাইশরা খ্যাতি অর্জন করেছিল। রাসুল (স.) নিজেও ব্যবসা করেছেন। হালাল পন্থায় ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রতি উম্মতকে উৎসাহ দিয়েছেন। রাসুলুল্লাহ (স.) বলেছেন, ‘সত্যবাদী ও বিশ্বস্ত ব্যবসায়ীরা পরকালে নবী, শহিদ ও সিদ্দিকদের সঙ্গে থাকবে।’ (তিরমিজি: ১২০৯)

পশুপালন
নবীজি (স.)-এর যুগে আরবদের অন্যতম পেশা ছিল পশুপালন। রাসুল (স.) নিজেও এই পেশার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী (স.) বলেছেন, আল্লাহ তাআলা এমন কোনো নবী প্রেরণ করেননি, যিনি বকরি চরাননি। তখন সাহাবিরা বলেন, আপনিও? তিনি বলেন, ‘হ্যাঁ, আমি কয়েক কিরাতের (মুদ্রা) বিনিময়ে মক্কাবাসীদের ছাগল চরাতাম।’ (বুখারি: ২২৬২)

শিকার
রাসুল (স.)-এর যুগে আরবে কেউ কেউ শিকার করে জীবিকা নির্বাহ করত। তৎকালীন যুগে আরবের দক্ষ শিকারি হিসেবে পরিচিত ছিলেন হামজা ইবনে আব্দুল মুত্তালিব। পবিত্র কোরআনে আয়াত নাজিল করার মাধ্যমে এই পেশার লোকদের ইহরাম অবস্থায় শিকার থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ইরশাদ হয়েছে, ‘হে ঈমানদাররা! আল্লাহ অবশ্যই তোমাদের পরীক্ষা করবেন শিকারের এমন বস্তু দ্বারা, যা তোমাদের হাত ও বর্শা নাগাল পায়, এটা জেনে নেওয়ার জন্য যে অদৃশ্য থেকেও কে আল্লাহকে ভয় করে। কাজেই এরপর কেউ সীমা লঙ্ঘন করলে তার জন্য কষ্টদায়ক শাস্তি রয়েছে।’ (সুরা মায়েদা: ৯৪)

চাষাবাদ
আরবকে ব্যাপকভাবে মরুভূমি বলে মনে করা হয়, তবে এর এমন অঞ্চল রয়েছে যেখানে জলবায়ু কৃষির অনুকূলে। নবীজির যুগেও আরবের বিভিন্ন এলাকায় চাষাবাদ হতো। মানবসভ্যতার এই আদিপেশার প্রতি উৎসাহিত করেছে ইসলাম। পবিত্র কোরআনের মাধ্যমে মহান আল্লাহ এই পেশার লোকদের দিকনির্দেশনা দিয়েছেন। ইরশাদ হয়েছে, ‘আর তিনিই সৃষ্টি করেছেন এমন বাগানসমূহ, যার কিছু মাচানির্ভর, অপর কিছু মাচানির্ভর নয় এবং খেজুর বৃক্ষ ও শস্য, যার স্বাদ বিভিন্ন রকম, আর জয়তুন ও আনার, এগুলো একটি অন্যটির মতো, আবার বিভিন্ন রূপেরও। যখন এগুলো ফলবান হবে তখন সেগুলোর ফল খাবে এবং ফসল তোলার দিন সেসবের হক প্রদান করবে। আর অপচয় করবে না; নিশ্চয়ই তিনি অপচয়কারীদের পছন্দ করেন না।’ (সুরা আনআম: ১৪১)

শিক্ষকতা
রাসুলুল্লাহ (স.)-এর যুগে শিক্ষকতার বিশেষ গুরুত্ব ছিল। রাসুল (স.) নিজেও ছিলেন একজন শিক্ষক, যিনি গোটা বিশ্ববাসীকে আলোর পথ দেখিয়েছেন। তিনি বলেছেন, ‘আমি শিক্ষক হিসেবে প্রেরিত হয়েছি।’ (ইবনে মাজাহ: ২২৯)

কাঠ সংগ্রহ
রাসুল (স.)-এর যুগে কিছু মানুষ জীবিকা নির্বাহ করত কাঠ কেটে। তিনি নিজেও মানুষকে এই পেশা অবলম্বনের প্রতি উৎসাহিত করেছেন। রাসুল (স.) বলেছেন, ‘যার হাতে আমার জীবন, সেই সত্তার কসম! তোমাদের মধ্যে কারো রশি নিয়ে কাঠ সংগ্রহ করে পিঠে করে বয়ে আনা কারো কাছে ভিক্ষা করার চেয়ে উত্তম, চাই সে দিক বা না দিক।’ (বুখারি: ১৪৭০)

অস্ত্র উৎপাদন
একটি দেশের সমৃদ্ধির জন্য যেমন খাদ্যশস্য উৎপাদন জরুরি, তেমনি দেশের নিরাপত্তার জন্য সামরিক শক্তি অর্জনও আবশ্যক। রাসুল (স.)-এর যুগে আরবের লোকেরা অস্ত্র উৎপাদনেও বেশ পারদর্শী ছিল।

সুতা কাটা
বস্ত্রশিল্পে আরবরা ছিল বিশ্বের অন্য সব দেশের পেছনে। কাপড় বুনন, চামড়া পাকা করাসহ যেসব শিল্পের খবর জানা যায়, তার বেশির ভাগ হত প্রতিবেশী দেশ ইয়েমেনে, সিরিয়া ও হিরা বা ইরাকে। সমগ্র আরবে নারীরা সুতা কাটার কাজ করত। (আর রাহিকুল মাখতুম, পৃষ্ঠা-৬১)

আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে হালাল পেশার গুরুত্ব অনুধাবনের তাওফিক দান করুন। প্রত্যেক বিষয়ে নবীজির সিরাত থেকে শিক্ষা নেওয়ার তাওফিক দান করুন। আমিন।

যাযাদি/ সোহেল

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

উপরে