শুক্রবার, ১৯ জুলাই ২০২৪, ৩ শ্রাবণ ১৪৩১

প্রেমের টানে নাটোরে চিনা যুবক, ইসলামগ্রহণ, মুসলিম তরুণীকে বিয়ে

আশরাফুল ইসলাম, নাটোর
  ২৩ জুন ২০২৪, ১১:০৬
ছবি-যায়যায়দিন

এবার প্রেমের টানে নাটোরের প্রত্যন্ত গ্রামে সুদুর চীন থেকে ছুটে এসেছেন লি সি জাং নামে এক তরুণ। বনলতার শহর নাটোরে এ যেন অন্য প্রেমের গল্প! মাত্র ৬ মাস আগে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে পরিচয় হয় তাদের। ুআর ছয়মাসের প্রেম পরিপূণর্তা পেয়েছে বিয়ের মধ্য দিয়ে। গত বুধবার সদর উপজেলার বড়বাড়িয়া গ্রামে আবু তাহেরের বাড়িতে আসেন তিনি। পরে ধর্মান্তরিত হয়ে বৃহস্পতিবার নাটোর নবাব সিরাজ উদ দৌলা কলেজে ইসলামের ইতিহাস বিভাগের ৩য় বর্ষে অধ্যায়নরত কলেজ ছাত্রী ফাতেমা খাতুনকে বিয়ে করেন তিনি। নবদম্পতিকে একনজর দেখতে ভিড় করছেন স্থানীয়রা।

এলাকাবাসী জানায়, সামাজিক যোগোযোগ মাধ্যম উই চ্যাটের মাধ্যমে প্রায় ছয় মাস আগে চীনের সাংহাইয়ের বাসিন্দা, পেশায় প্লাষ্টিক সার্জন লি সি জাংয়ের সাথে পরিচয় হয় নাটোরের প্রত্যন্ত গ্রাম বড়বাড়িয়ার ফাতেমা খাতুনের। লি সি জাংয়ের সাথে যোগাযোগের মাধ্যমেই চীনা ভাষা রপ্ত করে ফাতেমা। একপর্যায়ে পরিচয় থেকে পরিণয়ে জড়ান তারা। ভালবাসার আদান প্রদানের একপর্যায়ে বিয়ের সিন্ধান্ত নেয় দুই প্রেমিক যুগল। সেই সিন্ধান্ত মোতাবেক গত বুধবার বিকেলে প্রেমের টানে ফাতেমার গ্রামে হাজির লি সি জাং । তারপর দুই পরিবারের সম্মতিক্রমেই শুক্রবারে সাত লাখ টাকা দেনমোহরে বিয়ের পিঁড়িতে বসেন তারা। তার আগেই বৌদ্ধ ধর্মের অনুসারি লি সি জাং ধর্ম পাল্টে মুসলমান হয়ে যান। নাম বর্তমান নাম আলী। বাংলাদেশে এসে ভাল লাগার কথা জানান আলী। ভালবাসার মানুষকে আপন করে পেয়ে উচ্ছ্বাসিত দুজনই।

লি সি জাং ওরফে আলী বলেন, তিনি চায়না থেকে নাটোরে এসেছেন, তার ভালবাসার স্বীকৃতি পেতে। তিনি তার স্ত্রীকে খুব ভালবাসেন। তার জন্য ইসলাম ধর্ম গ্রহন করেছেন। তার নতুন নাম আলী। তিনি চান তার ভালবাসার গল্প সবাই জানুক। সবার কাছে দোয়া চান তিনি।

ফাতেমা খাতুন আনন্দে উচ্ছ্বসিত হয়ে জানান, তাকে ভালোবেসে লি সি জাং বনলতা সেনের শহর নাটোরে এসেছে। তিনিই লি সি জাংয়ের বনলতা। ভালবাসার জন্য সে বৌদ্ধ ধর্ম ত্যাগ করে মুসলমানও হয়েছে। সুখ-দুঃখে একসঙ্গে থাকতে সবার দোয়া চেয়ে স্বামীর সঙ্গে চীনে চলে যাওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেন ফাতেমা।

ফাতেমার বাবা আবু তাহের জানান, তার মেয়ে সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে চীনের তরুণের সাথে পরিচয়ের সুত্র ধরে ভালবাসায় জড়িয়ে পড়ে। পরে চীনের ঐ তরুণ তার বাড়িতে চলে আসে। পরে তার মেয়ের সাথে বিয়ে হয় তার। এলাকার সবাই এই বিয়েতে আনন্দিত।

লক্ষীপুর খোলাবাড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নুরুজ্জামান কালু জানান, বিদেশ থেকে অনেকে এসে বাংলাদেশে বিয়ে করছে। দেশের বিভিন্ন স্থানে এমন ঘটনা ঘটলেও এই প্রথমবারের মতো চীনের বাসিন্দা ভালবাসার টানে নাটোরে এই প্রত্যন্ত গ্রামে ছুটে এসেছেন। এলাকাবাসী সবাই খুশি। তাদের দাম্পত্য জীবন সুখের হোক এমনটাই প্রত্যাশা করেন তিনি।

চীনা তরুণকে ফাতেমার স্বামী হিসাবে পেয়ে আনন্দিত তার স্বজনরাও। ফাতেমার স্বজনদের অনেকেই জানান, বাংলা ভাষা বুঝতে অসুবিধা হওয়ায় তারা ট্র্যান্সলেটর অ্যাপ ব্যবহার করে কথোপকথন চালিয়ে যাচ্ছেন। চীনা যুবকটি খুবই মিশুক প্রকৃতির বলেও জানান তারা। তাকে পেয়ে সবাই আনন্দিত। ভালবাসার টানে সুদুর চীন থেকে এমন প্রত্যন্ত গ্রামে চীনের তরুণ আসায় খুশি এলাকাবাসীরাও। স্থানীয়রাও নবদম্পতিকে একনজর দেখার জন্য ভীড় করছেন ফাতেমাদের বাড়িতে।

বিদেশী তরুণের সাথে গ্রামের মেয়ের বিয়ে হওয়ায় আনন্দিত তারাও। নবদম্পতির জীবন যেন সুখ স্বাচ্ছন্দে ভরে উঠে এ জন্য সবার দোয়া চেয়েছেন ফাতেমার স্বজন ও এলাকাবাসী।

যাযাদি/ এস

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

উপরে