মঙ্গলবার, ২৮ মে ২০২৪, ১৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১

ঘুরে দাঁড়াতে চারটি বিষয় গুরুত্ব পাচ্ছে বিএনপিতে

যাযাদি রিপোর্ট
  ১৪ মার্চ ২০২৪, ১০:০৮
-ফাইল ছবি

নির্বাচন ঘিরে আন্দোলন ব্যর্থ হওয়ায় ‘ব্যাকফুটে’ আছে বিএনপি। এ অবস্থা থেকে ঘুরে দাঁড়াতে চারটি বিষয়ে জোর দিচ্ছে দলটি। এগুলো হচ্ছেÑ ব্যর্থতার কারণ অনুসন্ধান, অভ্যন্তরীণ কোন্দল নিরসন ও আত্মসমালোচনা, হুট করে নয়, পরিকল্পনা করে ভবিষ্যত কর্মপন্থা নির্ধারণ ও নেতৃত্বে ব্যাপক পরিবর্তন আনা।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, চারটি বিষয় জোর দিয়ে তা বাস্তবায়নের জন্য এরইমধ্যে কাজ শুরু করেছে বিএনপির হাইকমান্ড। এর অংশ হিসেবে আন্দোলনে ব্যর্থতার কারণ অনুসন্ধানে দলের পাশাপাশি জোটের নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করেছেন। এসব আলোচনায় বেরিয়ে এসেছে কেন আন্দোলন ব্যর্থ হলো। দল ও জোটের নেতাদের মূল্যায়ন বা পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী সরকার ও প্রশাসনের নিপীড়নমূলক ব্যবস্থা, গ্রেপ্তার, জেল-জুলুম, বিচার ও শাস্তিই হচ্ছে আন্দোলন ব্যর্থ হওয়ার অন্যতম প্রধান কারণ। এর বাইরে দলের নেতৃত্ব ও সাংগঠনিক দুর্বলতা এবং আন্দোলনে বিদেশনির্ভরতা, বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষকে আন্দোলনে যুক্ত করতে না পারাও আছে তাদের মূল্যায়নে। সবমিলে আন্দোলনে ব্যর্থতার জন্য বিএনপির নেতৃত্বের দুর্বলতার পাশাপাশি প্রতিবেশী দেশের ভূমিকা এবং সরকারের ‘ভয়ংকর’ দমননীতির বিষয়টি সবচেয়ে বেশি সামনে এসেছে।

বিএনপি সূত্রমতে, আন্দোলন ফলপ্রসূ না হওয়ার কারণ অনুসন্ধান করে বসে থাকতে চায়না দলটির শীর্ষ নেতৃত্ব। পরবর্তী আন্দোলন যেন ব্যর্থ না হয় সেজন্য ভবিষ্যত কর্মপন্থা ঠিক করতে চায়। তাই আপাতত হঠকারী কোনো সিদ্ধান্ত না নিয়ে নিয়মতান্ত্রিক আন্দোলনের কর্মসূচি দিয়ে নেতাকর্মীদের উজ্জীবিত রাখতে চায় তারা। এরঅংশ হিসেবে হতাশ নেতাকর্মীদের চাঙ্গা রাখতে ধারাবাহিকভাবে মাঠে থাকতে চায় বিএনপি। আপাতত জনস্বার্থ সম্পৃক্ত ঢিলেঢালা কর্মসূচি নিয়ে তার রাজপথে থাকবে। এরইমধ্যে বিদ্যুৎ, গ্যাস, জ্বালানি ও নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে ঢাকা মহানগরসহ সারা দেশে লিফলেট বিতরণ ও গণসংযোগের কর্মসূচি পালন করছে। এর বাইরে পবিত্র রমজান ও ঈদ ঘিরে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের সীমাহীন মূল্যবৃদ্ধিসহ জনসম্পৃক্ত ইস্যুতে মাঠে থাকবে। পবিত্র রমজানে এতিম ও আলেম-ওলামাদের সঙ্গে ইফতার পার্টি করবে। আর কূটনীতিক ও রাজনীতিকদের সম্মানে ইফতার মাহফিলের আয়োজন করবে। পাশাপাশি সারাদেশের সব সাংগঠনিক জেলাসহ সব ইউনিটেও ইফতার মাহফিল করবে।

সূত্রমতে, বিএনপি মনে করে ঘুরে দাঁড়াতে অভ্যন্তরীণ কোন্দল নিরসন করে সাংগঠনকে শক্তিশালী করা এখন সময়ের দাবি।

দলে ঐক্যের অভাব রেখে সরকারের বিরুদ্ধে জনগণকে ‘ঐক্যবদ্ধ’ হওয়া সম্ভব নয় এমন উপলব্ধি আছে দলটিতে। কারণ কেন্দ্র থেকে তৃণমূল পর্যায় পর্যন্ত দ্বন্দ্ব- কোন্দল লেগেইে আছে। এর অন্যতম একটি কারণ হচ্ছে, গত কয়েক বছরে জ্ঞাত কিংবা অজ্ঞাত কারণে বিএনপির বহুসংখ্যক নেতাকে হয় বহিষ্কার করা হয়েছে, না হয় পদাবনতি-অব্যাহতির মাধ্যমে নিষ্ক্রিয় করে ফেলা হয়েছে। নতুন কর্মী সংগ্রহ করে দলকে অধিকতর শক্তিশালী করা উদ্যোগ তো নেয়নি, উল্টো গত কয়েক বছরে শতাধিক নেতাকে দল থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। তৃনমূলের পাশাপাশি কেন্দ্রীয় পর্যাযের অন্তর্কোন্দল নিরসনেও কাজ করছে দলের হাইকমান্ড। সাংগঠনকে গতিশীল করে রাজনৈতিকভাবে ঘুরে দাঁড়াতে আত্মসমালোচনা জরুরি বলেও মনে করে বিএনপি। এই চর্চা শুরুও হয়েছে। এরই মধ্যে উচ্চ পর্যায় থেকে নির্বাচনে ঘিরে নিজেদের ভুল বুঝতে না পারার বিষয়টি স্বীকারও করেছে। সূত্রমতে, দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে আন্দোলন ব্যর্থ হওয়ার পর ঘুরে দাঁড়ানোর লক্ষ্যে নেতৃত্বে ব্যাপক পরিবর্তনের প্রয়োজনীতা অনুভব করছে বিএনপি। এরইমধ্যে দল পুনর্গঠন প্রক্রিয়া শুরু করেছে দলটি। এর অংশ হিসেবে আন্দোলন সফলের হাতিয়ার হিসেবে পরিচিত ছাত্রদলের আগের কমিটি ভেঙ্গে দিয়ে নতুন নেতৃত্ব ঠিক করা হয়েছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ বিএনপি, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল, মহিলা দল, কৃষক দল, মৎস্যজীবী দল, তাঁতী দলসহ সব অঙ্গ-সহযোগী সংগঠন পুনর্গঠনের নীতিগত সিদ্ধান্ত রয়েছে দলটির।

সূত্রের দাবি, বিএনপির অঙ্গ সংগঠন পুনর্গঠন প্রক্রিয়া শেষ হলে মূল দল পুনর্গঠনে হাত দেওয়া হতে পারে। দলের স্থায়ী কমিটিসহ কেন্দ্রীয় কমিটির শূন্যপদগুলো পূরণ করা হবে। স্থায়ী কমিটিতে পাঁচটিসহ কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির প্রায় ১৩০টি পদ এখন শূন্য। তবে অঙ্গ সংগঠন পুনর্গঠনের মধ্যেও এই প্রক্রিয়া চলতে পারে। সম্প্রতি বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির দুটি শূন্যপদ পূরণ করা হয়েছে।

দলে পুনর্গঠন প্রসঙ্গে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য বেগম সেলিমা রহমান বলেন, দল পুনর্গঠন একটি চলমান প্রক্রিয়া। তা সবসময় হয়ে থাকে। এনিয়ে দলীয় ফেরামে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত হয়। এখনো হচ্ছে।

যাযাদি/ এস

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়
X
Nagad

উপরে