রোববার, ২৩ জুন ২০২৪, ৯ আষাঢ় ১৪৩১

নাটকীয় ম্যাচ জিতে ট্রেবল শিরোপা জিতল বসুন্ধরা

যাযাদি ডেস্ক
  ২৩ মে ২০২৪, ১১:৫৬
ছবি-যায়যায়দিন

বসুন্ধরা কিংসের সমানে ট্রেবল জয়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারল না মোহামেডান স্পোর্র্টিং ক্লাব। বুধবার বিকালে ফেডারেশন কাপ ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনালে সাদাকালো শিবিরকে হারিয়ে এক মৌসুমে ট্রেবল শিরোপা জিতে নিল কিংস। এদিন ময়মনসিংহের রফিকউদ্দিন ভুইয়া স্টেডিয়ামে তারা ২-১ গোলে হারায় মোহামেডানকে। গত মৌসুমে আবাহনীকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল মোহামেডান। এবার তাদের রানার্সআপ হয়েই সন্তুষ্ট থাকতে হচ্ছে। এর আগে ২০১২-১৩ মৌসুমে ট্রেবল জয়ের একমাত্র কীর্তিটি ছিল শেখ রাসেল ক্রীড়া চক্রের। এবার তাদের পাশে জায়গা করে নিল কিংস।

ময়মনসিংহে ম্যাচের ৯ মিনিটে বা প্রান্ত থেকে মোহামেডানের উজবেকিস্তানের মিডফিল্ডার মোজাফফারভের ফ্রি কিক চলে যায় মাঠের বাইরে। ১৩ মিনিটে বা প্রান্ত থেকে কিংসের রিমনের ক্রস বক্সে পেলেও প্রতিপক্ষ ডিফেন্ডারের বাধার মুখে রিসিভ করতে পারেননি রাকিব। ১৫ মিনিটে কর্ণার পায় বসুন্ধরা। ডান প্রান্তে ব্রাজিলিয়ান মিডফিল্ডার মিগেল দামাসেনোর কর্নার হেডে ক্লিয়ার করেন মোহামেডানের গোলরক্ষক সুজন হোসেন।

২৪ মিনিটে মাঠের ডান প্রান্তে ফ্রি কিক পায় মোহামেডান। মোজাফফারভের স্পট কিক কোন কাজে আসেনি। ২৬ মিনিটে প্রতিপক্ষের ডিফেন্ডারদের কাটিয়ে মিগেল দামাসেনো বল বাড়িয়ে দেন আরেক ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড রবসন রবিনহোকে। তবে দক্ষতার সঙ্গেই তাকে ব্লক করেন মোহামেডানের ডিফেন্ডাররা। পরের মিনিটেই রাকিবের থ্রু বলে ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড ডরিয়েলটন গোমেজ পোস্টের কাছ থেকে যে শট নিয়েছিলেন সেটি ছিল নিশ্চিত গোল। তবে এবারও দারুণ সেইভ করেছেন সুজন। ৩৮ মিনিটে বক্সের কয়েক গজ দূরেই ফ্রি কিক পায় বসুন্ধরা। মিগেল দামাসেনোর বা পায়ের স্পট কিক মোহামেডানের হিউম্যান ওয়াল টপকে ঢুকে যাচ্ছিল জালে, সুজন লাফিয়ে উঠে বল গ্রিপ করেন। ৪২ মিনিটে বা প্রান্ত থেকে আরিফ হোসেনের ক্রস বক্সে পেয়ে শট নেন মোহামেডান অধিনায়ক মালীর ফরোয়ার্ড সুলেমান দিয়াবাতে। তবে বল গ্রিপ করেন কিংস গোলরক্ষক মেহদী হাসান শ্রাবণ। পরের মিনিটে ইমানুয়েল সানডের ক্রসে পোস্টের কাছ থেকে শট নিতে গিয়ে পড়ে যান সুলেমান দিয়াবাতে।

প্রথমার্ধের ইনজুরি টাইমে (৪৫+১ মিনিটে) কিংসের ফরোয়ার্ড রাকিব হোসেন বল নিয়ে ঢুকে পড়েন মোহামেডানের বক্সে। নিশ্চিত গোলের সম্ভাবনা ছিল। তবে তাকে আটকে দেন মোহামেডানের ডিফেন্ডার রাকিব। প্রথমার্ধ ছিল গোলশূন্য (০-০)।

৫১ মিনিটে মোজাফফারভের দূরপাল্লার শট বারের উপর দিয়ে চলে যায়। ৫৬ মিনিটে মাহবুবের থ্রু পাস থেকে ভালো সুযোগ এসেছিল সুলেমান দিয়াবাতের সামনে। তবে বক্সে ববুরবেগ এসে বল ক্লিয়ার করেন। কর্নার পায় মোহামেডান। ডান প্রান্ত থেকে মোজাফফারভের কর্নার বক্সে জটলার মধ্যে থেকে হেডে ক্লিয়ার করেন সোহেল রানা। ৫৯ মিনিটে নাইজেরিয়ান মিডফিল্ডার ইমানুয়েল সানডের পাসে বক্সে পোস্টের কাছ থেকে ডান পায়ে শট নেন শাহরিয়ার ইমন।

অল্পের জন্য বল জড়ায়নি জালে। ৬০ মিনিটে বক্সের বাইরে থেকে শাহরিয়ার ইমনের শট আটকে দেন গোলরক্ষক শ্রাবণ। পর পর দুটি সুযোগ সৃষ্টি করেও গোল পাননি ইমন। ৬১ মিনিটে বক্সের মাথা থেকে মোজাফফারভের ডান পায়ের শট ফিরিয়ে দেন মেহেদী হাসান শ্রাবণ। পরের মিনিটে মোহামেডানের কর্নার থেকে উড়ে আসা বল বক্সে পেয়ে হেড নেন সুলেমান দিয়াবাতে। এটিও ছিল নিশ্চিত গোল। কিন্তু শ্রাবণ যেন চীনের প্রাচীর। তাকে ভেদ করাই সম্ভব হলো না।

তবে মোহামেডানও গোল আদায় করার লক্ষ্যেই খেলতে থাকে, ৬৩ মিনিটে ম্যাচে লিডও নেয় সাদা কালোরা। প্রতিপক্ষের সোহেলকে কাটিয়ে বা প্রান্ত থেকে বা পায়ের কোনাকোনি শটে কিংসের জাল কাঁপান ইমানুয়েল সানডে (১-০)। ৬৮ মিনিটে ডান প্রান্ত থেকে মিগেল দামাসেনোর ফ্রি কিক পোস্টের কাছে পেয়েও মাথা ছোঁয়াতে পারেননি ববুরবেগ। গোলরক্ষক সুজনের সঙ্গে ধাক্কা লেগে পড়ে যান মাঠে। ৭৭ মিনিটে ডান প্রান্ত থেকে রবিনহোর পাস বক্সে পেয়েছিলেন ডরিয়েলটন। বল উপরে উঠে গেলে বা পায়ে শট নেন ডরিয়েলটন। তবে এবারও সুজনকে পরাস্ত করতে পারেননি।

৮১ মিনিটে বক্সের কাছ থেকে রবসনের বুলেট গতির শট ফিস্ট করেন সুজন। এরই মধ্যে সতীর্থের লং পাসে মাঠের অন্যপাশে গোলরক্ষককে ওয়ান টু ওয়ান পজিশনে পেয়ে যান সুলেমান দিয়াবাতে। তবে তার শট আটকে দেন শ্রাবণ। ৮৬ মিনিটে দারুণ এক গোলে মিনহাজ রাকিবকে কাটিয়ে বক্সে ঢুকে আরও দুই ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে বা পায়ের দারুণ শটে গোল করে কিংসকে ম্যাচে ফেরান মিগেল দামাসেনো (১-১)। নির্ধারিত সময়ে ম্যাচ সমতায় থাকাতে অতিরিক্ত সময়ে গড়ায় ম্যাচ। ১০৫ মিনিটে এগিয়ে যায় বসুন্ধরা। ডানপ্রান্ত থেকে মিগেল দামাসেনোর কর্নারে বক্সে বল পেয়ে যান বদলি খেলোয়াড় জাহিদ। পোস্ট ছেড়ে কিছুটা সামনে এগিয়ে গিয়েছিলেন সেই ফাঁক দিয়ে বল জালে পাঠিয়ে দেন জাহিদ (২-১)। গোলের সিদ্ধান্ত নিয়ে আপত্তি তোলে মোহামেডান।

তাদের দাবি ফাউলের শিকার হয়েছিলেন গোলরক্ষক সুজন। ম্যাচ খেলবে না বলে জানায় তারা। তবে কিছু সময় পর মাঠে ফেরে সাদা-কালোরা। ১২০ মিনিটে শাহরিয়ার ইমনের শট বা পোস্টের কাছ ঘেঁষে চলে গেলে আফসোসে পুড়ে মোহামেডান। রেফারি শেষ বাঁশি বাজান। জয়ের উল্লাসে ফেটে পড়ে বসুন্ধরা।

যাযাদি/ এস

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়
X
Nagad

উপরে