logo
শনিবার, ০৮ আগস্ট ২০২০, ২৪ শ্রাবণ ১৪২৬

  আজিনুর রহমান লিমন মিয়া পাড়া, ডিমলা, নীলফামারী   ১২ জুলাই ২০২০, ০০:০০  

করোনাকালে স্মার্ট ফোনের প্রতি শিশু ও শিক্ষার্থীদের নেশা বেড়েছে

করোনাকালে স্মার্ট ফোনের প্রতি শিশু ও শিক্ষার্থীদের নেশা বেড়েছে
শিক্ষাই জাতির মেরুদন্ড। তাই তো শিক্ষা অর্জনের বিকল্প কিছু নেই। বাবা-মা তার সন্তানের শিক্ষার ব্যাপারে মুখ্য ভূমিকা পালন করে। বর্তমান বিশ্ব ডিজিটাল হওয়ায় বাংলাদেশেও এর প্রভাব পড়েছে মাত্রারিক্ত হারে। প্রকৃত বিষয়ের ওপর ডিজিটালের প্রভাব বাংলাদেশকে অনেক উন্নয়নের পথ দেখালেও এই ডিজিটালের প্রভাব অনেক ক্ষেত্রে অবনতির পর্যায়ে পৌঁছে দিয়েছে। যার বাস্তব প্রমাণ অল্প বয়সি শিক্ষার্থী ও শিশুদের হাতে হাতে মোবাইল ফোন। বিশ্ব ও ইন্টারনেটকে জানার জন্য মোবাইল ফোনের প্রয়োজন হলেও কম বয়সি শিক্ষার্থী ও শিশুদের জন্য তা একেবারেই ক্ষতিকর। পড়াশোনার ক্ষতির পাশাপাশি ইন্টারনেটের নেশায় আক্রান্ত হয়ে খেলাধুলাকেও ভুলে যায়। করোনাকালে তো এর প্রভাব পড়েছে মাত্রারিক্ত হারে। কোভিড-১৯ এর কারণে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকার সুযোগে, মাঠে খেলাধুলা বন্ধ হওয়ার সুযোগে, বাসার বাইরে যাওয়া নিষিদ্ধ থাকার সুযোগে মোবাইল ফোনের প্রতি শিশুদের নেশা বেড়েছে অস্বাভাবিক হারে। এমনিতেই তো শিশুরা খেলাধুলাকে বাদ দিয়েছে স্মার্ট ফোনের নেশায়, তার ওপর সুযোগ পেয়ে বসেছে করোনা। করোনাভাইরাস পুরো বিশ্বকে মারাত্মকভাবে কাবু করেছে। যার ফলে অর্থনৈতিক মন্দায় পড়েছে পুরো বিশ্ব। থমকে গেছে মানুষের সব কার্যক্রম। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এই করোনাভাইরাসকে মহামারি ঘোষণা করেছে। বাংলাদেশে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা দেড় লাখ ছাড়িয়ে গেছে। মৃতু্যর সংখ্যাও দুই হাজারের উপরে। এমন পরিস্থিতিতে ঘরে অবস্থানরত সব মানুষ মহাদুশ্চিন্তায় রয়েছে। বিশেষ করে যাদের ঘরে শিশু আছে, তারা রয়েছে মহা টেনশনে। ঘরে অবস্থান করে বইকে তেমন গুরুত্ব দিচ্ছে না। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধের কারণে লেখাপড়ার তেমন চাপ না থাকায় মোবাইল ফোন নিয়ে সারাক্ষণ সময় কাটাচ্ছে। শহরের বাসাগুলো তো শিশুদের জন্য এক একটা জেলখানা। সেই জেলখানায় বসে বসে সময় পার করানো খুব কঠিন একটা কাজ। ফলে স্মার্ট ফোন এখন শিশুদের একমাত্র সম্বল। শিশুদের হাতে স্মার্ট ফোন না দেওয়ার ব্যাপারে বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ থাকলেও শিশুরাই এখন স্মার্ট ফোন ব্যবহারে সবার শীর্ষে। শিশুরা আগামী দিনের ভবিষ্যৎ। তাদের হাতেই আগামীর বিশ্ব পরিচালিত হবে। কিন্তু সেই আগামীর প্রজন্মদের ব্যাপারে আমরা উদাসীন হলে তারা আগামীতে বিশ্বকে কি উপহার দেবে? শিশুদের স্মার্ট ফোন ব্যবহারের ক্ষতিকর দিকগুলো সম্পর্কে আমাদের জানতে হবে। জানাতে হবে সব মানুষকে। সচেতন করতে হবে দেশের সব অভিভাবককে। শিশুদের হাতে স্মার্ট ফোনের কারণে তাদের জীবনের ঝুঁকিও বেড়ে যায়। মাঝেমধ্যে শিশুদের হাতে স্মার্ট ফোন দেখে শুধু আশ্চর্যই নয় বিস্মিত হতে হয়। কোনো কোনো অভিভাবক জেনে-শুনেই শিশুদের হাতে স্মার্ট ফোন তুলে দেয়, আবার কেউ বাধ্য হয়ে দেয়। প্রযুক্তির সাম্রাজ্যই এই অবস্থার জন্য দায়ী। আজ হোক আর দুদিন পরে হোক করোনামুক্ত হবে পুরো পৃথিবী। কিন্তু করোনার সময়ে ঘরে অবস্থানরত শিশুদের স্মার্ট ফোন ব্যবহারের অভ্যাসটা রয়ে যাবে। তখন কোনোভাবেই স্মার্ট ফোনবিহীন রাখা সম্ভব হবে না। তাই আগপাছ ভেবেই শিশুদের স্মার্ট ফোন ব্যবহার থেকে মুক্ত রাখতে হবে। মূলকথা, সন্তানের ভালোর জন্য বাবা-মাকে সচেতন হতে হবে। মোবাইলের পরিবর্তে সন্তানের হাতে বই ততুলে দিতে হবে।
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

সকল ফিচার

রঙ বেরঙ
উনিশ বিশ
জেজেডি ফ্রেন্ডস ফোরাম
নন্দিনী
আইন ও বিচার
ক্যাম্পাস
হাট্টি মা টিম টিম
তারার মেলা
সাহিত্য
সুস্বাস্থ্য
কৃষি ও সম্ভাবনা
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি
close

উপরে