পাঠক মত

সাইবার বুলিং

সাইবার বুলিং

বুলিং শব্দটা আমাদের অনেকের কাছেই অপরিচিত। অথচ আমরা অনায়াসে প্রতিনিয়ত একজন আরেকজনকে বুলি করে বেড়াচ্ছি। প্রায়ই স্কুল-কলেজে, পাড়া-মহলস্নায়, খেলার মাঠে কারও ব্যক্তিগত সমস্যা ব্যক্তিগত বিষয় নিয়ে জনসম্মুখে হাসি-ঠাট্টা, মজা করছি এবং এটি খুব সাধারণ বিষয় বলেই মনে হচ্ছে। আপনার আমার ক্ষণিকের হাসি-ঠাট্টা একজন মানুষকে মানসিকভাবে কতটা বিপর্যস্ত করতে পারে সে সম্পর্কে কোনো ধারণাই রাখছি না। ফলাফলস্বরূপ বুলিং বিষয়টি ইদানীং মারাত্মক সামাজিক ব্যাধিতে পরিণত হয়েছে। ক্ষতি করার উদ্দেশ্যে কাউকে মানসিক বা শারীরিকভাবে হেনস্তা করা, অপমান অপদস্থ করা, সবার সামনে হেয় করা, কাউকে (সাধারণত সমবয়সি) অপদস্থ করে মজা করা ইত্যাদি কাজ মূলত বুলিং। কারও ব্যক্তিগত বিষয় নিয়ে মাতামাতি করা, টিটকারি করাও বুলিংয়ের আওতায় পড়ে। অনলাইনের বদৌলতে বুলিং করাটা এখন আরও সহজ হয়ে দাঁড়িয়েছে। অনলাইনে কারও ছবি, ভিডিও শেয়ারের মাধ্যমে হেনস্তা করা, হুমকি দেওয়াও বুলিং। একে সাইবার বুলিং বলে। ইন্টারনেট সহজলভ্যতার ফলে ইন্টারনেটের দুনিয়ায় প্রতিনিয়ত যেমন বাড়ছে সম্ভাবনা তেমনি এর ভুল ব্যবহারে তৈরি হচ্ছে নানান ধরনের অনিরাপত্তা। ফলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে সাইবার বুলিংয়ের ঝুঁকি এখন বেশ উদ্বেগজনক। বুলিংয়ের ফলে ভুক্তভোগীর দীর্ঘমেয়াদি কিছু মানসিক সমস্যার সৃষ্টি হয়। মানসিকতায় নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। বিশেষ করে যারা জানে না বুলিং কি বা কীভাবে এর মোকাবিলা করতে হয় তাদের বড় একটা অংশ হতাশায় ভুগছে। সামাজিকভাবে, মানসিকভাবে নিজেকে একা করে ফেলছে। বন্ধু-বান্ধবদের কাছ থেকে নিজেকে দূরে সরিয়ে নিচ্ছে কিংবা আড়াল করতে চাইছে। বিষণ্নতায় পড়ে আত্মবিশ্বাস হারিয়ে নিজের যোগ্যতাকে দোষারোপ করছে। ভীতসন্ত্রস্ততা, খিটখিটে মেজাজ এবং নিজেকে হেয় করে দেখার প্রবণতাও দেখা দিচ্ছে। একপর্যায়ে দৈনন্দিন কাজকর্মে অনীহা তৈরি হচ্ছে বলে বিভিন্ন গবেষণায় উঠে এসেছে। ক্রমাগত বুলিংয়ের সম্মুখীন হয়ে অনেকে আত্মহত্যার চিন্তা করছে কিংবা চেষ্টাও করছে। মানসিক অবসাদ থেকে আত্মহত্যার ঘটনা বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও সংবাদপত্রে আমরা প্রায়ই দেখতে পাচ্ছি। সভ্য ও উন্নত দেশগুলো বুলিংয়ের ব্যাপারে এখন বেশ সোচ্চার। আইন প্রণয়নের পাশাপাশি তারা বুলিং প্রতিরোধে বিভিন্ন সচেতনতামূলক কার্যক্রম পালন করছে। আমাদের নতুন প্রজন্মের সুষ্ঠু-সুন্দর বিকাশের উপযোগী একটা সুস্থ সমাজ গঠনে আমাদেরও বুলিংয়ের ব্যাপারে সচেতন এবং সোচ্চার হওয়া দরকার, যাতে নিজে বুলিংয়ের শিকার না হই এবং আমাদের দ্বারা আমাদের আশপাশে কেউ বুলিংয়ের শিকার না হয়। যেখানেই বুলিং হবে সেখানেই প্রতিরোধ করতে হবে। একজন বুলিং ভিকটিমের জন্য সবচেয়ে বড় শক্তি হচ্ছে তার আশপাশের মানুষের মানসিক সাপোর্ট। তাই আমাদের শিক্ষক, অভিভাবক, আত্মীয়-স্বজন, বন্ধু-বান্ধবদের বুলিং আচরণের ভিকটিমের পাশে থাকতে হবে। মানসিকভাবে তার পাশে আছি এমন পরিবেশ সৃষ্টি করে তাকে নিজের প্রতি আত্মবিশ্বাসী করে তুলতে হবে। তার সমস্যার সমাধান বের করায় সাহায্য করতে হবে। বুলিং মোকাবিলায় সাহায্যের পাশাপাশি তার নিজের মধ্যে যেকোনো অপরাধ মোকাবিলার শক্তিশালী ও প্রতিবাদী সত্তা তৈরিতে মানসিক সাহস জোগানো ও সাহায্য করতে হবে। ইন্টারনেট ব্যবহারেও আমাদের আরও সতর্ক হতে হবে। বুলিংয়ের মাত্রা বেশি হলে যথাযথ আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে হবে। সুস্থ সমাজ গঠনে সর্বোপরি সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে, বুলিংকে না বলতে হবে।

নাফিজ ইমতিয়াজ রুপক

শিক্ষার্থী

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

আরও খবর

সকল ফিচার

ক্যাম্পাস
তারার মেলা
সাহিত্য
সুস্বাস্থ্য
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি
জেজেডি ফ্রেন্ডস ফোরাম
নন্দিনী
আইন ও বিচার
হাট্টি মা টিম টিম
কৃষি ও সম্ভাবনা
রঙ বেরঙ

Copyright JaiJaiDin ©2022

Design and developed by Orangebd


উপরে