বৃহস্পতিবার, ০১ ডিসেম্বর ২০২২, ১৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৯

জাতিসংঘে প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ

অত্যন্ত সময়োপযোগী ও গুরুত্বপূর্ণ
নতুনধারা
  ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২২, ০০:০০
রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে জাতিসংঘের কার্যকর ভূমিকা চাইলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বিশ্ব সংস্থার সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে তিনি বলেছেন, বাংলাদেশে রোহিঙ্গাদের দীর্ঘ উপস্থিতি অর্থনীতি, পরিবেশ, নিরাপত্তা, সামাজিক ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার ওপর মারাত্মক প্রভাব ফেলেছে। তাদের প্রত্যাবাসনের অনিশ্চয়তা সর্বস্তরে ব্যাপক হতাশা সৃষ্টি করেছে। মানব পাচার, মাদক চোরাচালানসহ আন্তঃসীমান্ত অপরাধ বৃদ্ধি পাচ্ছে। গতকাল শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের স্থানীয় সময় বিকালে (বাংলাদেশ সময় রাত ৩টা ২৭ মিনিট) সাধারণ পরিষদের ৭৭তম অধিবেশনে বাংলায় দেওয়া ভাষণে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। রোহিঙ্গাদের নিরাপদে ও মর্যাদার সঙ্গে মিয়ানমারে প্রত্যাবাসনের জন্য প্রয়োজনীয় পরিবেশ তৈরিতে দ্বিপক্ষীয়, ত্রিপক্ষীয়, জাতিসংঘসহ অন্য অংশীজনদের নিয়ে আলোচনা সত্ত্বেও একজনও তাদের মাতৃভূমিতে এ পর্যন্ত ফেরত পাঠানো যায়নি। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, রোহিঙ্গা সংকট উগ্রবাদকেও ইন্ধন দিতে পারে। এ সংকট প্রলম্বিত হতে থাকলে তা উপমহাদেশসহ বৈশ্বিক নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার ওপর মারাত্মক প্রভাব ফেলতে পারে। শেখ হাসিনা ভাষণে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের প্রসঙ্গ টেনে বলেন, যুদ্ধ বা একতরফা জবরদস্তিত্মমূলক অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা, পাল্টা নিষেধাজ্ঞার মতো বৈরী পন্থা কখনো কোনো জাতির মঙ্গল বয়ে আনতে পারে না। পারস্পরিক আলাপ-আলোচনাই সংকট ও বিরোধ নিষ্পত্তির সর্বোত্তম উপায়। আমরা মনে করি, জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রীর এই ভাষণ অত্যন্ত সময়োপযোগী ও গুরুত্বপূর্ণ। জাতিসংঘের উচিত, এ ব্যাপারে কার্যকর পদক্ষে নেয়া। এটা সত্য, যতই দিন যাচ্ছে বাংলাদেশে রোহিঙ্গা সংকট তীব্র থেকে তীব্রতর হচ্ছে। জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক বিশ্বের কাছে বাংলাদেশ রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের ক্ষেত্রে যে আশ্বাস পেয়েছিল, তার ফলাফল শূন্যই বলা চলে। কারণ প্রত্যাবাসন শুরুর কোনো পরিকল্পনাই সফল হয়নি। সব ধরনের প্রস্তুতি থাকা সত্ত্বেও তালিকাভুক্ত একজন রোহিঙ্গাও মিয়ানমার ফেরত যায়নি। এই না যাওয়ার মূল কারণ হচ্ছে মিয়ানমারের শাসকদের ওপর চরম আস্থাহীনতা। তারা যেভাবে নিজ বাসভূম থেকে নিগৃহীত বিতাড়িত নির্যাতিত হয়েছে, তা ভাবলেও তাদের গা শিউরে ওঠে। রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্ব, তাদের নিরাপত্তা, নিজের সম্পত্তির মালিক হয়ে বাসভূমিতে ফিরে যাওয়া এই বিষয়গুলো নিশ্চিত হয়নি বলেই আস্থার অভাবে রোহিঙ্গারা রাখাইনে ফেরত যেতে চাচ্ছে না। বলার অপেক্ষা রাখে না, মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্য থেকে সে দেশের সেনাবাহিনীর নিষ্ঠুর অত্যাচারের মুখে পালিয়ে আসা বিপুলসংখ্যক রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়ে বাংলাদেশ মানবিকতার পরিচয় দিলেও সেই রোহিঙ্গাদের কারণেই চরম সংকটে পড়েছে বাংলাদেশ। মানবিক কারণে তাদের আশ্রয় দেয়ার অর্থ এই নয় যে, তাদের আজীবন রাখতে হবে। এটা এখন বাংলাদেশের জন্য বিরাট বোঝা। বাংলাদেশ চায় সুষ্ঠু সুন্দর ব্যবস্থাপনায় নাগরিক মর্যাদায় তাদের পূর্ণ অধিকার দিয়ে ফেরত নেয়া হোক। তারা যেন ঠিকভাবে তাদের বাড়িঘরে গিয়ে উঠতে পারে, চাষবাস ও শিক্ষার পূর্ণ নাগরিক অধিকার যেন তারা ভোগ করতে পারেন, রাষ্ট্রীয় নানা সুবিধা ও নাগরিক মর্যাদা নিয়ে বাঁচতে পারে। বাংলাদেশের নাগরিক ও সরকারের সেটাই প্রত্যাশা। উলেস্নখ্য, ২০১৭ সালে রোহিঙ্গাদের নিজ দেশ মিয়ানমার থেকে বাস্তুচু্যত হয়ে গণহারে বাংলাদেশে প্রবেশের পাঁচ বছর পূর্ণ হয়েছে গত মাসে। মিয়ানমারে চলমান রাজনৈতিক অস্থিরতা ও সশস্ত্র সংঘাত রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনকে আরও দুরূহ করে তুলেছে। এ বিষয়ে জাতিসংঘ কার্যকর ভূমিকা রাখতে হবে। এই ব্যাপারে আমাদের মনে রাখতে হবে, মিয়ানমারেরও বন্ধু আছে এবং শক্তিশালী বন্ধু আছে। এটা কঠিন সত্য যে, যারা রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের ব্যাপারে বাংলাদেশের পক্ষে কথা বলছে, তারাই আবার মিয়ানমারের পক্ষে রয়েছে। এই দ্বিমুখী নীতির কারণে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন হচ্ছে না। রোহিঙ্গারা এখন আমাদের গলার কাঁটা/ বিষফোড়া। শেখ হাসিনার মানবতাকে দুর্বলতা ভাবা ঠিক নয়। মানুষ মানুষের জন্য, জীবন জীবনের জন্য এই নীতিতে তিনি বিশ্বাসী। আর এই কারণেই তিনি রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়েছেন। এখন বিশ্বের প্রভাবশালী রাষ্ট্র ও জাতিসংঘের উচিত রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নেওয়ার ব্যাপারে মিয়ানমারের ওপর চাপ সৃষ্টি করা এবং রোহিঙ্গাদের মনে আস্থার দেয়াল তৈরি করা। এর কোনো বিকল্প নেই।
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

উপরে