সোমবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৪, ২ বৈশাখ ১৪৩১
walton

আবার শিশু হত্যা

এর শেষ কোথায়
নতুনধারা
  ০৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৩, ০০:০০

যতই দিন যাচ্ছে সমাজে শিশু নির্যাতনের হার বাড়ছে। কেবল নির্যাতন নয়, শিশুহত্যার সংখ্যা বেড়েছে উদ্বেগজনক হারে। চলতি বছর গড়ে মাসিক শিশু নির্যাতনের হার বেড়েছে ২০ শতাংশ। এক প্রতিবেদনে প্রকাশ, খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার গুটুদিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ছাত্র নিরব মন্ডলের লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ১টায় স্কুলের একটি কক্ষ থেকে তার ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার হয়। শিশুটির লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় সন্দেহভাজন ছয় শিশুকে আটক করেছে পুলিশ। মৃত নিরব গুটুদিয়া গ্রামের শেখর মন্ডলের ছেলে। বৃহস্পতিবার বাড়ির পাশে গুটুদিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে যায় ওই ছাত্র। এরপর নির্দিষ্ট সময়ে বাড়ি না ফেরায় খোঁজাখুঁজি করা হয়। এরপর বিকাল সাড়ে ৪টায় নিরবের বাবা শেখরের কাছে ফোন করে ৩০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে। এ ঘটনায় থানায় জিডি করেন শেখর মন্ডল।

এর আগের একটি ঘটনা আরও মর্মান্তিক। চট্টগ্রামের হালিশহর এলাকায় আয়াতের বাবার কাছ থেকে মুক্তিপণ আদায়ের জন্য অপহরণ ও খুন করে আয়াতকে। ফুলের মতো ফুটফুটে, চঞ্চল শিশুটিকে নৃশংসভাবে খুন করা হয়। তারপর তার মরদেহ কয়েকটি টুকরা করে তা ব্যাগে ভরে সাগর ও নালার সংযোগস্থলে স্স্নুইসগেটের কাছে পানিতে ফেলে দেয়। পরে পুলিশ আয়াতের লাশের একাধিক খন্ড উদ্ধার করে। এর চেয়ে বর্বর ঘটনা আর কী হতে পারে।

বলার অপেক্ষা রাখে না, এ ধরনের বর্বরোচিত নিষ্ঠুর ঘটনা এর আগেও বেশ কয়েকটি ঘটেছে। এ ব্যাপারে কঠোর পদক্ষেপ না নেওয়ার কারণেই ঘটনার পুনরাবৃত্তি হচ্ছে। এ ধরনের জঘন্য প্রবণতা রোধ করতে না পারলে একদিকে যেমন সামাজিক শৃঙ্খলা ভেঙে পড়বে, অন্যদিকে শিশুরাও থাকবে নিরাপত্তাহীনতায়। পাশাপাশি ভবিষ্যতের জন্য ভয়ংকর বিপদ ডেকে আনবে। সুতরাং সময় থাকতেই সাবধান হওয়া সমীচীন।

এটা সত্য, সমাজের একশ্রেণির বর্বর পাষন্ড মানুষের হাতে অনেকের জীবনই বিপন্ন হয়ে পড়ছে, অবলীলায় জীবন চলে যাচ্ছে। এমনকি শিশুর জীবনও চলে যাচ্ছে। সমাজে শিশুর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা জরুরি হয়ে পড়েছে। ঠুনকো কারণে টাকার লোভে শিশুদের হত্যা করা হচ্ছে। হত্যা করা হচ্ছে অন্যকে ফাঁসানোর জন্য কিংবা প্রতিহিংসার বশবর্তী হয়ে। এ ছাড়া প্রায়ই ধর্ষণের শিকার হচ্ছে শিশুরা। শিশু নির্যাতন তো সমাজের নৈমিত্তিক ঘটনা। অথচ শিশুর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সমাজ তথা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। কারণ আজকের শিশুরাই আগামী দিনের ভবিষ্যৎ কান্ডারি। শিশুর সুস্থ বিকাশ কীভাবে হবে, কীভাবে তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে- এ ব্যাপারে রাষ্ট্রের নতুনভাবে ভাবা উচিত। পাশাপাশি অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তিও নিশ্চিত করতে হবে এবং এর কোনো বিকল্প নেই।

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

উপরে