শনিবার, ১৫ জুন ২০২৪, ১ আষাঢ় ১৪৩১

বিশ্বকাপ চ্যাম্পিয়ন অস্ট্রেলিয়া আমাদের অভিনন্দন

  ২১ নভেম্বর ২০২৩, ০০:০০
বিশ্বকাপ চ্যাম্পিয়ন অস্ট্রেলিয়া আমাদের অভিনন্দন

শেষ হলো ক্রিকেট বিশ্বকাপ-২০২৩। অস্ট্রেলিয়ার দাপটে ভারতের ১৪০ কোটি মানুষের স্বপ্নভঙ্গ হলো। ওয়ানডে বিশ্বকাপে টানা ১০ ম্যাচ জিতে উড়ছিল স্বাগতিক ভারত। তাতে এক যুগ পর শিরোপা জেতার হাতছানিও ছিল ভারতের। টুর্নামেন্টজুড়ে দুর্দান্ত ফর্মে থাকা ভারত বিশ্বকাপ পাবে এমন আত্মবিশ্বাস নিয়ে ছিলেন অনেকেই। কিন্তু ফাইনালে ভারতকে ৬ উইকেটে হারিয়ে অস্ট্রেলিয়ার রেকর্ড ষষ্ঠ শিরোপা জিতে নিল। ফাইনালে ম্যাচ জয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন ট্রাভিস হেড। ১৩৭ রানের ইনিংস খেলে অস্ট্রেলিয়াকে জয়ের শেষ প্রান্তে নিয়ে যান। আর এই কৃতিত্বের জন্য ম্যাচসেরাও নির্বাচিত হন তিনি। অস্ট্রেলিয়া বিশ্বকাপ চ্যাম্পিয়ন হওয়ায় তাদের জানাই আমাদের অভিনন্দন।

প্রসঙ্গত, আহমেদাবাদের নরেন্দ্র মোদি স্টেডিয়ামে রোববার ফাইনালে এসেই হোঁচট খেতে হলো টিম ইন্ডিয়াকে। ২৪০ রানেই অলআউট হয়ে যায় রোহিত শর্মার দল। ব্যাট হাতে লোকেশ রাহুল ৬৬, বিরাট কোহলি ৫৪ ও অধিনায়ক রোহিত শর্মা ৪৭ রানের ইনিংস খেলেন। আর এর জবাবে ৪২ বল বাকি থাকতেই ৪ উইকেট হারিয়ে জয় তুলে নেয় অস্ট্রেলিয়া। উলেস্নখ্য, গত ৮ অক্টোবর চেন্নাইয়ে ৬ উইকেটে অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়েছিল। সেই অস্ট্রেলিয়ার কাছে ফাইনালে একই ব্যবধানে হারল ভারত। ফাইনালে, জয়ের জন্য ২৪১ রানের লক্ষ্য নিয়ে ব্যাট করতে নেমে ৪৭ রানের মধ্যে তিন উইকেট হারিয়ে শুরুতে চাপে পড়ে অস্ট্রেলিয়া।

কিন্তু এরপর দেখা যায়, ট্রাভিস হেড ও লাবুশেনের জুটিতে জয়ের বন্দরে পৌঁছে যায় প্যাট কামিন্সের দল। চলতি বিশ্বকাপে দ্বিতীয় সেঞ্চুরি করেন ট্রাভিস হেড। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ১০৯ রান করেন তিনি। সেমিফাইনালে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে তিনি খেলেন ৬২ রানের ইনিংস। যখন লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ৪৭ রানের মধ্যেই ৩ উইকেট হারিয়ে বিপর্যয়ে পড়েছিল অস্ট্রেলিয়া। এরপর ১৯২ রানের জুটি গড়েন ট্রাভিস হেড ও মার্নাস লাবুশেন। হেড ১৩৭ রান করে ফিরলেও লাবুশেন ৫৮ রানে অপরাজিত থেকে ৪২ বল হাতে রেখে জয় তুলে নেয় অজিরা। এতে রেকর্ড ষষ্ঠবারের মতো বিশ্ব চ্যাম্পিয়নের খেতাব পেল প্যাট কামিন্সের দল।

জসপ্রিত বুমরাহ ২টি এবং মোহাম্মদ সামি ও সিরাজ ১টি করে উইকেট দখল করেন। অন্যদিকে, পঞ্চম ওভারেই অস্ট্রেলিয়াকে উইকেট এনে দেন মিচেল স্টার্ক। শুভমান গিলের বিদায়ে ভাঙল ভারতের ৩০ রানের উদ্বোধনী জুটি। ৭ বলে ৪ রান করে আউট হন তিনি। কিছুটা শর্ট লেংথের ডেলিভারি ঠিকমতো পুল করতে পারেননি গিল। বল চলে যায় সোজা মিডঅনে। অনায়াসে ক্যাচ লুফে নেন অ্যাডাম জ্যাম্পা। রোহিত শর্মার সঙ্গী হন বিরাট কোহলি। প্রথম পাওয়ার পেস্নর শেষ ওভারে গুরুত্বপূর্ণ উইকেট তুলে নেন ম্যাক্সওয়েল। ভারতের অধিনায়ক রোহিত শর্মাকে বিদায় করে অস্ট্রেলিয়াকে উলস্নাসে মাতান তিনি। কভার থেকে পেছনের দিকে দৌড়ে ডাইভ দিয়ে অসাধারণ ক্যাচ নেন ট্রাভিস হেড। অষ্টম ওভারে বোলিংয়ে পরিবর্তন আনেন অজি দলনেতা প্যাট কামিন্স। আক্রমণে নিয়ে এলেন স্পিন অলরাউন্ডার ম্যাক্সওয়েলকে। তিনি নিজের দ্বিতীয় ওভারেই আউট করলেন বিপজ্জনক রোহিতকে। রোহিতের পর বিদায় নেন শেয়াস। বিরাট কোহলি বোল্ড আউট হন। কামিন্সের শর্ট লেংথের বল ব্যাটের কানায় লেগে গিয়ে ভাঙে স্টাম্প। সবশেষে ২৪০ রানেই অলআউট হয়ে যায় রোহিত শর্মার দল।

সর্বোপরি আমরা বলতে চাই, এবারের বিশ্বকাপে চরমভাবে ব্যর্থ হয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট দল, যেটি দেশের সংশ্লিষ্টদের এড়ানো যাবে না। সেমিফাইনালের স্বপ্নের কথা বলে বিশ্বকাপ খেলতে গিয়ে গ্রম্নপ পর্বে ৯ ম্যাচের ৭টিতেই হেরেছে বাংলাদেশ। হারতে হয়েছে নেদারল্যান্ডসের মতো দলের বিপক্ষেও। ফলে এই ব্যর্থতার কারণ খুঁজতে হবে এবং দেশের কিক্রেটকে এগিয়ে নিতে সর্বাত্মক পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। বলার অপেক্ষা রাখে না, টাইগাররা বারবার দেশে সুনাম ছড়িয়েছে, সারা বিশ্বের সামনে দেশকে উজ্জ্বল করেছে বারবার। ফলে জয়ের এবারের বিশ্বকাপে পরাজয়ের কারণগুলো বিশ্লেষণ করতে হবে এবং ক্রিকেটকে এগিয়ে নিতে সব ধরনের প্রচেষ্টা জারি রাখতে হবে।

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়
X
Nagad

উপরে