সোমবার, ০৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৩, ২৩ মাঘ ১৪২৯
walton1

কলকাতা উৎসবে যা বললেন চঞ্চল চৌধুরী

বিনোদন ডেস্ক
  ০৩ নভেম্বর ২০২২, ০০:০০
চঞ্চল চৌধুরী এখন শুধু এপার বাংলাতেই নয়, ওপার বাংলারও তারকা। ছিলেন মঞ্চ ও ছোটপর্দার অভিনেতা এখন হয়ে গেছেন সিনেমার জাঁদরেল অভিনেতা। মূলত মঞ্চে কাজ করার অভিজ্ঞতাই তাকে বড়পর্দার অভিনয়ে সেই ধার এনে দিয়েছে। তার পরিচয় দিয়েছেন বলেই কলকাতায়ও তাকে নিয়ে কেমন উন্মাদনা চলছে, সেটা বুঝলেন কলকাতা-বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উৎসবে গিয়ে। এখানে তার চোখে তাক লাগানো জনপ্রিয়তা। এই জনপ্রিয়তা তার সহজ-সাবলীল অভিনয়ের জন্য। তার এই সহজ-সাবলীল অভিনয় কোথায় শিখলেন এমন প্রশ্ন করা হলে লাজুক হেসে চঞ্চল বলেন, 'আসলে অভিনয়টা তো করি না। চরিত্র হয়ে ওঠার চেষ্টা করি। সেই চরিত্রটার কথাবার্তা, চালচলন, তার চিন্তাটাকে নেওয়ার চেষ্টায় থাকি।' যে সাবলীল অভিনয় দিয়ে উন্মাদনার শুরু করেছিলেন মনপুরা'য় সেটারই যেন পরিপূর্ণ রূপ পেল 'হাওয়া'য়। এ উৎসবে এসে এভাবেই কথা বললেন চঞ্চল চৌধুরী ভারতীয় একটি গণমাধ্যমের সঙ্গে নিজের জীবন ও অভিনয় নিয়ে খোলামেলাভাবে। জানালেন অভিনয়ের কোনো ইচ্ছা ছিল না তার। পাবনার কামারহাট গ্রামের আট ভাইবোনের টানাটানির সংসার। বাবা রাধাগোবিন্দ চৌধুরী প্রাইমারি স্কুলের শিক্ষক। এখন অবসরপ্রাপ্ত। মা নমিতার কথা বলতে গিয়ে আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন চঞ্চল। 'আমাদের মা স্বয়ং দুর্গা। তিনিই আমাদের সবাইকে খুব কষ্ট করে বড় করেছেন।' সেই গ্রাম থেকেই ধীরে ধীরে থিয়েটারে চঞ্চলের হাতেখড়ি। বললেন, 'আমি ছিলাম থিয়েটারের ব্যাকস্টেজের লোক। কী করে যে মঞ্চের সামনে এক দিন চলে এলাম নিজেই জানি না। আসলে আমার মা-বাবা, স্ত্রী-সন্তানের জন্য যেমন ভালোবাসা, অভিনয়ের প্রতিও ভালোবাসাটা তেমনই।' চঞ্চলের এই অকপট কথাতেই বোঝা যায় বহু দিনের মঞ্চশিক্ষা তাকে পর্দার অভিনয়ে দিয়েছে সেই ধার, যার জন্য তিনি বর্তমানে দুই বাংলাতেই বিখ্যাত। ততদিনে ধীরে ধীরে মঞ্চ পেরিয়ে তিনি সিনেমায়। গৌতম ঘোষের 'মনের মানুষ'-এ কাজ করছিলেন। কলকাতায় নিয়মিত কাজ না করায় অনেকেই চঞ্চলকে তেমন একটা চিনতেন না। সেই চেনার শুরুটা প্রায় সুনামির মতো আছড়ে পড়ল 'কারাগার' ওয়েব সিরিজটি দেখার পর। চঞ্চলের সাংঘাতিক অভিনয় দেখে তামাম দর্শকের মনে তাক লেগে যায়। নিমেষেই স্টার হয়ে ওঠেন চঞ্চল। কেমন লাগে দুই বাংলার মধ্যে এমন জনপ্রিয়তা? 'আমি যখন অভিনয় করি, এই জনপ্রিয়তার কথা মাথায় থাকে না। জনপ্রিয়তার জন্য কাজও করি না। অভিনয় একটা সাধনার ব্যাপার। সেই সাধনার মধ্যে দিয়ে তিলে তিলে নিজেকে গড়তে হয়। সারাক্ষণ চরিত্র-সৃষ্টির চিন্তার মধ্যে থাকতে হয়। সেটাই চেষ্টা করি। অবশ্য প্রশংসা পেলে ভালোই লাগে। আর সেটাই তো আমাদের পাওয়া'- বললেন চঞ্চল। কিন্তু 'হাওয়া'র ওই যে চান মাঝি সেটার আচার-আচরণ এত নিখুঁতভাবে কীভাবে আত্মস্থ করলেন? 'আমার গ্রামের বাড়ি থেকে দু'মিনিট দূরেই পদ্মা নদী। ছোটবেলা থেকেই দেখে আসছি মাঝি-মালস্নাদের। তাই তাদের আচার-আচরণ আমার খুবই চেনা। সেখান থেকেই আত্মস্থ করেছি চান মাঝির শরীরী ভাষা, কথাবার্তা।
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

উপরে