ফেব্রম্নয়ারিতেই খুলছে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান

ফেব্রম্নয়ারিতেই খুলছে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান

আগামী ফেব্রম্নয়ারিতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার অনুমতি দেওয়া হচ্ছে। আজ বৃহস্পতিবার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উচ্চ পর্যায়ের এক ভার্চুয়াল বৈঠকে সম্ভাব্য দিনক্ষণ চূড়ান্ত করে প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদনের জন্য প্রস্তাব আকারে পাঠানো হবে। প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদন পেলেই ঘোষণা দেওয়া হবে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের একাধিক দায়িত্বশীল কর্মকর্তার সঙ্গে আলাপ করে এ তথ্য জানা গেছে। তবে নাম প্রকাশে রাজি হননি কেউই। অতিরিক্ত সচিব (মাধ্যমিক) নাজমুল হক গতকাল সচিবালয়ে তার দপ্তরে যায়যায়দিনকে বলেন, শিক্ষার সামগ্রিক বিষয় নিয়ে এ বৈঠকে আলোচনা হবে। সেখানে কী সিদ্ধান্ত হবে তা আগাম বলা যাচ্ছে না।

মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, আজ বিকাল ৩টায় শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনির সঙ্গে মন্ত্রণালয়ের সচিবসহ বিভাগীয় অতিরিক্ত সচিব এবং মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) মহাপরিচালকসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের এক ভার্চুয়াল বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। বৈঠকে শিক্ষার চলমান পরিস্থিতি, স্থগিত শিক্ষা কার্যক্রম চালু করার জন্য যে গুচ্ছ পরিকল্পনা প্রণয়ন করা হয়েছে তার খুঁটিনাটি

নিয়ে পর্যালোচনা ও সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। বন্ধ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান চালু, চলতি বছরের পাবলিক পরীক্ষা কবে নাগাদ শুরু করা যায় এবং দশম শ্রেণির বিষয়ভিত্তিক সিলেবাস কীভাবে শেষ হবে- সে পরিকল্পনাও চূড়ান্ত করা হবে এ বৈঠকে। এরপর সামগ্রিক বিষয়ে বিস্তারিত পরিকল্পনা নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদনের জন্য পাঠানো হবে। অনুমোদন পেলেই তা প্রকাশ করা হবে।

মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, পাঠ্যসূচি কাটছাঁট করে ফেব্রম্নয়ারি থেকে এপ্রিল পর্যন্ত তার ভিত্তিতে শ্রেণিকক্ষে ক্লাস করিয়ে জুনে এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা হতে পারে। আর কাটছাঁট করা পাঠ্যসূচিতে ফেব্রম্নয়ারি থেকে মে পর্যন্ত শ্রেণিকক্ষে ক্লাস করিয়ে জুলাই-আগস্টে এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা নেওয়া হতে পারে।

গতকাল জাতীয় সংসদে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ধাপে ধাপে খুলে দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন সরকারি দলের দুই সংসদ সদস্য। একই দাবি উঠে এসেছে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকেও। এদিকে অভিভাবকরা মনে করছেন, দীর্ঘদিন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকার কারণে কোমলমতি শিশুসহ নিম্ন মাধ্যমিক ও মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষার্থীদের পড়ালেখায় ব্যাঘাত ঘটছে। এর আগে এক অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সীমিত আকারে হলেও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার বিষয়ে সরকারের চিন্তাভাবনার কথা জানিয়েছিলেন।

একটি সূত্র জানায়, বেসরকারি ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয় গত তিন দিন আগে থেকে তাদের শ্রেণিভিত্তিক শিক্ষা কার্যক্রম শুরু করেছে। তাদের দেখাদেখি অন্য বড় বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো ক্লাস শুরু করতে যাচ্ছে। এ ব্যাপারে সরকারি ঘোষণার অপেক্ষায় তারা। সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ও খোলার অপেক্ষায় শিক্ষার্থীরা। এর আগে হলগুলো খোলা হবে।

উলেস্নখ্য, গত ৮ মার্চ দেশে করোনাভাইরাস শনাক্ত হওয়ার পর ১৭ মার্চ থেকে সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে। সর্বশেষ আগামী ৩০ জানুয়ারি পর্যন্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধের নির্দেশনা রয়েছে। ইউনিসেফের এক প্রতিবেদনে উলেস্নখ করা হয়েছে, করোনাভাইরাসের কারণে ভারত, নেপাল, শ্রীলংকা, চীন, থাইল্যান্ড, ইন্দোনেশিয়া, যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্রসহ ৮৪টি দেশে পাবলিক বা এ ধরনের পরীক্ষা বাতিল বা স্থগিত করা হয়েছে।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

আরও খবর

Copyright JaiJaiDin ©2021

Design and developed by Orangebd


উপরে