রোববার, ২৭ নভেম্বর ২০২২, ১২ অগ্রহায়ণ ১৪২৯

বিতর্কের মধ্যেই আবেকে অন্তিম বিদায়

ম যাযাদি ডেস্ক
  ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২২, ০০:০০
বিপুল পরিমাণ অর্থ খরচ করে রাষ্ট্রীয় শেষকৃত্য করা নিয়ে বিতর্ক ও বিক্ষোভের মধ্যেই ফুলেল শ্রদ্ধা, প্রার্থনা আর ১৯টি তোপধ্বনির মধ্য দিয়ে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবেকে অন্তিম বিদায় জানিয়েছে জাপান। মঙ্গলবার অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজ, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট কমলা হ্যারিসসহ প্রায় ৭০০ বিদেশি বিশিষ্ট ব্যক্তির উপস্থিতিতে তার অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া অনুষ্ঠিত হয়। খবর :রয়টার্সের এদিন জাপানের স্থানীয় সময় দুপুর দুইটায় শিনজো আবের হ শেষকৃত্যানুষ্ঠান শুরু হয়। এক মোটরশোভাযাত্রার মধ্য দিয়ে আবের দেহভস্মভর্তি বাক্স নিয়ে তার স্ত্রী আকি আবে অন্ত্যেষ্টিক্রিয়াস্থলে পৌঁছান। তিনি নিপ্পন বুদোকান হলে ঢোকার সময় ১৯ বার তোপধ্বনি করা হয়। শেষকৃত্যস্থলে সকাল থেকেই উপস্থিত ছিলেন হাজার হাজার শোকার্ত মানুষ। তোপধ্বনির পরপরই প্রায় ১০ হাজার মানুষ আবেকে শ্রদ্ধা জানাতে ফুল দেন। অনুষ্ঠানের শুরুর দিকে আবের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে কিছুক্ষণের নীরবতা পালন করা হয়। এরপর ক্ষমতাসীন দলের নেতারা আবের রাজনৈতিক জীবন নিয়ে স্মৃতিচারণা করেন। অবশ্য নিপ্পন বুদোকান হলে যখন অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া চলছিল, তখনো টোকিওর উপকণ্ঠের একটি এলাকায় বিক্ষোভকারীরাও জড়ো হয়েছিলেন। 'কোনো রাষ্ট্রীয় অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া নয়' বলে স্স্নোগান দিয়েছেন তারা। তবে বিক্ষোভ হলেও অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া অনুষ্ঠানে শোকাহত হাজারো মানুষের ভিড় দেখা গেছে। সকাল থেকেই অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া অনুষ্ঠানস্থলের কাছে ভিড় জমাতে শুরু করেন তারা। এমন অবস্থায় সাধারণের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য নির্ধারিত সময়ের আধা ঘণ্টা আগেই আয়োজকরা নিপ্পন বুদোকান হলের গেট খুলে দিতে বাধ্য হন। কয়েক ঘণ্টার মধ্যে প্রায় ১০ হাজার মানুষ আবের ছবির সামনে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানিয়েছেন এবং নীরবে প্রার্থনা করেছেন। গত ৮ জুলাই জাপানের পশ্চিমাঞ্চলের নারা শহরে দলের এক নির্বাচনী প্রচারসভায় বক্তৃতা দিচ্ছিলেন আবে। এ সময় বন্দুকধারীর গুলিতে নিহত হয়েছিলেন তিনি। এরপর পারিবারিকভাবে তার দাহ সম্পন্ন হয়। মঙ্গলবার ছিল রাষ্ট্রীয় অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া। কিন্তু এমন আয়োজন নিয়ে দেশটির অনেকেই প্রশ্ন তোলেন- এ প্রধানমন্ত্রীকে কেন রাষ্ট্রীয় অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া দিতে হবে। অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার বিপুল ব্যয় নিয়েও ক্ষুব্ধ কেউ কেউ। তাদের ভাষ্য, আবেকে শ্রদ্ধা জানাতে বিরাট অঙ্কের অর্থ খরচ না করে সেটা টাইফুন শিজুয়োকাতে ক্ষতিগ্রস্তদের পেছনে ব্যয় করাই উচিত ছিল। এমন প্রেক্ষাপটে মঙ্গলবারও টোকিওর উপকণ্ঠে অনেকেই জড়ো হয়ে বিক্ষোভ দেখিয়েছেন। অর্থনৈতিক সংকট চলার মধ্যে শিনজো আবের শেষকৃত্যের জন্য সরকার ১ কোটি ১৫ লাখ ডলার বরাদ্দ কারায় দেশটির মানুষ এমন বিক্ষোভ দেখান। এর আগে ১৯৬৭ সালে প্রধানমন্ত্রী শিগেরু ইয়োশিদার মৃতু্যতে জাপান রাষ্ট্রীয়ভাবে অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার আয়োজন করেছিল।
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

উপরে