বৃহস্পতিবার, ০১ ডিসেম্বর ২০২২, ১৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৯
বাজারদর

চড়া দামে অপরিবর্তিত নিত্যপণ্যের বাজার

ম যাযাদি রিপোর্ট
  ০১ অক্টোবর ২০২২, ০০:০০
সপ্তাহর ব্যবধানে চড়া দামেই অপরিবর্তিত রয়েছে রাজধানীর নিত্যপণ্যের বাজার। যথারীতি এ সপ্তাহেও ডিমের ডজন বিক্রি হয়েছে দেড়শ' টাকার উপরে। চড়া দাম অব্যাহত রয়েছে মাছ, মুরগি ও সবজির বাজারেও। অন্যদিকে চিনি ও পাম অয়েলের দাম কমানো হলেও বাজারে তা বাড়তি দামেই বিক্রি করতে দেখা গেছে। এছাড়াও আগের চড়া দামে স্থিতিশীল রয়েছে চালসহ বেশিরভাগ মুদি পণ্যের। শুক্রবার রাজধানীর বিভিন্ন খুচরা ও পাইকারি বাজারে প্রতি ডজন ডিম বিক্রি হয়েছে ১৪৫-১৫৫ টাকা দরে। বিক্রেতারা জানিয়েছেন, এবার পুরো সপ্তাহ দেড়শ' টাকার উপরে বিক্রি হয়েছে ডিমের ডজন। এদিকে আগের চড়া দামে বিক্রি হয়েছে ব্রয়লার ও সোনালি মুরগিসহ গরুর মাংসের কেজি। এদিন ব্রয়লারের কেজি বিক্রি হয়েছে ১৮০-১৯০ টাকা, সোনালি ৩২০-৩৩০ টাকা এবং গরুর মাংসের কেজি বিক্রি হয়েছে ৭০০-৭২০ টাকা দরে। ব্যবসায়ীরা বলছেন, পোল্ট্রি ফিডের দাম বৃদ্ধির কারণে ফার্ম থেকেই মুরগি ও ডিমের দাম বাড়ানো হয়েছে। এখানে খুচরা কিংবা পাইকারি ব্যবসায়ীদের কোনো কারসাজি নেই। এদিকে বাজারে সবজির ব্যাপক সরবরাহ সত্ত্বেও দাম বাড়তির দিকেই রয়েছে। এদিন বেশিরভাগ সবজির কেজি বিক্রি হয়েছে ৬০ টাকার উপরে। এমনকি পুঁইশাকের আঁটি বিক্রি হয়েছে ৪০ টাকা দরে। এদিন কাকরোল, কচুর লতি, করোলস্না ও বেগুনের কেজি বিক্রি হয়েছে ৮০ টাকার উপরে আর টমেটোর কেজি বিক্রি হয়েছে ১৩০-১৪০ টাকা দরে। অন্যদিকে শীতের আগাম সবজি যেমন ছোট আকারের ফুলকপি ও বাঁধা কপির পিস বিক্রি হয়েছে ৫০ টাকা দরে। এছাড়াও সিমের কেজি বিক্রি হয়েছে ১৫০ টাকা দরে। তবে পেঁপে ও মিষ্টি কুমড়ার কেজি বিক্রি হয়েছে ৪০ টাকার মধ্যে। এদিকে গত রোববার থেকে চিনি ও পাম অয়েলের দাম কমিয়ে প্রতি কেজি প্যাকেটজাত চিনি সর্বোচ্চ ৮৯ টাকা, খোলা চিনি ৮৪ টাকা এবং পাম অয়েলের লিটার ১৩৩ টাকা নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছিল। প্রায় এক সপ্তাহ পার হলেও বাজারে তা বাড়তি দামেই বিক্রি করতে দেখা গেছে। কিছু কিছু বাজারে অবশ্য নির্ধারিত দামে পাম অয়েল বিক্রি হয়েছে। তবে প্রতি কেজি প্যাকেটজাত চিনি বিক্রি হয়েছে ৯৫-১০০ টাকা এবং খোলা চিনি বিক্রি হয়েছে ৯০ টাকা দরে। বিক্রেতারা বলছেন, তারা আগের রেটে চিনি কিনেছেন তাই দাম কামানো হলেও তারা কম দামে বিক্রি করতে পারছেন না। ব্যবসায়ীদের হিসাবে, আরও এক সপ্তাহ সময় লাগতে পারে নির্ধারিত দামে পণ্য পেতে। এদিকে এ সপ্তাহেও চড়া রয়েছে সব ধরনের মাছের দাম। এদিন আকার ভেদে প্রতি কেজি রুই মাছ বিক্রি হয়েছে ৩৫০-৪০০ টাকা; কাতল ৩০০-৩৫০ টাকা; পাবদা ও শিং মাছের কেজি বিক্রি হয়েছে ৪৫০-৫০০ টাকা। অন্যদিকে বোয়াল ও আইড় মাছের কেজি বিক্রি হয়েছে ৬৫০-৭০০ টাকা; ট্যাংরা মাছের কেজি বিক্রি হয়েছে ৬০০ টাকা; পোয়া মাছের কেজি বিক্রি হয়েছে ৪৫০ টাকা এবং কোরাল মাছের কেজি বিক্রি হয়েছে ৯৫০ টাকার উপরে। এছাড়াও বাড়তি দামে বিক্রি হয়েছে হরিনা ও বাগদা চিংড়িও। প্রতি কেজি বিক্রি হয়েছে ৭০০ টাকা এবং গলদা চিংড়ি বিক্রি হয়েছে ৭৫০ টাকার উপরে। অন্যদিকে পাঙাস, তেলাপিয়া ও চাষ কৈ মাছ বিক্রি হয়েছে যথাক্রমে ২২০ টাকা, ১৮০ টাকা ও ২৫০ টাকা কেজি দরে। এদিকে বাজারে ইলিশের সরবরাহ বাড়লেও দাম এখনও সাধারণের ক্রয় ক্ষমতার বাইরে। এদিনও ৮০০ গ্রাম ওজনের ইলিশের কেজি বিক্রি হয়েছে ১৩০০ টাকা এবং ১০০০ গ্রামের ইলিশ বিক্রি হয়েছে ১৬শ' টাকার উপরে। এদিকে শুক্রবারও বাজারগুলোতে প্রতি কেজি চিকন চালের কেজি বিক্রি হয়েছে ৭৫-৯০ টাকার মধ্যে। মোটা চালের কেজি বিক্রি হয়েছে ৫৮-৬০ টাকা দরে। এছাড়াও এদিন কিছুটা বেড়ে আমদানিকৃত বড় সাইজের আদার কেজি বিক্রি হয়েছে ১৩০-১৪০ টাকা এবং রসুন বিক্রি হয়েছে ১২০-১৩০ টাকা দরে।
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

উপরে