শনিবার, ২৬ নভেম্বর ২০২২, ১১ অগ্রহায়ণ ১৪২৯

চিকিৎসার ফি নির্ধারণ করে দেবে সরকার

অ্যান্টিবায়োটিক দিতে পারবেন না গ্রাম্য চিকিৎসকরা
ম যাযাদি রিপোর্ট
  ০৭ অক্টোবর ২০২২, ০০:০০
দেশের হাসপাতাল ও ক্লিনিকগুলোতে সঠিক চিকিৎসার জন্য যাতে সঠিক মূল্য রাখা হয় তা নিশ্চিত করার চেষ্টা করছে সরকার। কারও কাছ থেকে রোগ নির্ণয় বা চিকিৎসার জন্য যাতে অতিরিক্ত ফি নেওয়া না হয়, সরকার সে ব্যাপারে কাজ করছে। ফি নির্ধারণের বিষয়ে বিভিন্ন পক্ষ সরকারের সঙ্গে একমত হয়েছে এবং দ্রম্নতই তা বাস্তবায়ন করা হবে। বৃহস্পতিবার দুপুরে সচিবালয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক। তিনি বলেন, প্রাইভেট হাসপাতাল ক্লিনিক এবং ডায়াগনস্টিক সেন্টারের মালিকদের আমরা বলেছি, তাদের সেবার মান উন্নত করতে হবে। সেবার মান উন্নয়নে আমরা বেসরকারি হাসপাতাল, ক্লিনিক এবং ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলোকে এ, বি এবং সি ক্যাটাগরি করে দেব। সেই ক্যাটাগরি নির্ভর করবে তাদের হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা, বেডের সংখা, জনবল এবং যন্ত্রপাতির সংখ্যার কেমন আছে তার ওপর। যারা যেই ক্যাটাগরিতে থাকবে, তারা শুধু সেই ক্যাটাগরির স্বাস্থ্যসেবাই দিতে পারবে, অন্য কোনো সেবা তারা দিতে পারবে না। জাহিদ মালেক বলেন, বেসরকারি হাসপাতাল ক্লিনিক এবং ডায়াগনস্টিক সেন্টারের মালিকদের সঙ্গে কথা বলে আমরা ক্যাটাগরি নির্ধারণ করে দেব, সেবার বিনিময়ে ফি নির্ধারণ করে দেব। আশা করি খুব অল্প সময়ের মধ্যেই এ কাজটা আমরা করতে পারব। সব হাসপাতাল একই মানের না। ক্যাটাগরি অনুযায়ী সেবার মূল্য নির্ধারণ করে দেওয়া হবে। তিনি আরও বলেন, বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতালে বিভিন্ন ধরনের ফি রয়েছে, কোনো হাসপাতালে দেখা যায় একটি বিশেষ পরীক্ষার জন্য ১০ হাজার টাকা, আবার অন্য একটি হাসপাতালে সেই একই পরীক্ষার জন্য ৫০ হাজার টাকা নেওয়া হয়। এ যে বিরাট একটা বৈষম্য আমরা সেটা দূর করতে চাচ্ছি। যেন জনগণ প্রতারিত না হয়। দেশের দরিদ্র জনগণ যেন কষ্ট না পায়, সঠিক চিকিৎসা পায় এবং সঠিক চিকিৎসার জন্য যেন সঠিক মূল্যটা তারা দেয়, বাড়তি মূল্য যেন দিতে না হয়। স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, অনেক বেসরকারি হাসপাতাল সিজার করে, কিন্তু সিজার করার মতো যাবতীয় ব্যবস্থাপনা সেই হাসপাতালে নেই। এমন হাসপাতালে সিজার করতে দেওয়া হবে না। হার্টের অপারেশনে যে ব্যবস্থাপনা প্রয়োজন সেই ব্যবস্থাপনা যে হাসপাতালে নেই, তাদের হার্টের কোনো অপারেশন করতে দেওয়া হবে না। তিনি আরও বলেন, আমাদের স্বাস্থ্যসেবার মান উন্নয়নের মাধ্যমে বিদেশে চিকিৎসা নিতে \হযাওয়া লোকের সংখ্যা কমে যাবে। এখনো অনেক লোক বিদেশে চিকিৎসা গ্রহণ করেন। বিদেশে চিকিৎসা নেওয়ার ফলে আমাদের কষ্টার্জিত কয়েক মিলিয়ন ডলার ব্যয় হয়ে যায়। আমরা যদি আমাদের চিকিৎসাসেবা আরও উন্নত করতে পারি তাহলে দেশের জনগণ চিকিৎসা নিতে বাইরে যাবে না এবং এই টাকাটা দেশেই থাকবে। প্রাইমারি হেলথ কেয়ারে সবচেয়ে বেশি যত্রতত্র অ্যান্টিবায়োটিকের ব্যবহার হয় বলে উলেস্নখ করে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, প্রাইমারি লেবেলে যারা স্বাস্থ্যসেবা দিয়ে থাকেন, বিশেষ করে গ্রাম্য ডাক্তার যারা রয়েছেন, তারা কোয়ালিফাইড না। তাদের কোনো সার্টিফিকেট বা যোগ্যতা নেই, অথচ তারা অ্যান্টিবায়োটিকও প্রেসক্রাইব করেন। এটি এখন থেকে আর হতে দেওয়া হবে না। তিনি আরও বলেন, যারা গ্রামে চিকিৎসা দেন, তাদের চিকিৎসা দেওয়ার মতো কোনো শিক্ষা, যোগ্যতা বা সার্টিফিকেট নেই। তাদের আমরা চিকিৎসা দিতে দেব না। এ বিষয়ে আমরা খুব শিগগিরই পদক্ষেপ গ্রহণ করব। এ বিষয়ে কাজ করে যাচ্ছি। মন্ত্রী বলেন, স্বাস্থ্যসেবার মান উন্নয়নে চেষ্টা করছি। সেদিকে আমরা গুরুত্ব দিচ্ছি। সেবার মানোন্নয়নে অনেকগুলো দিক আছে। এ ক্ষেত্রে অনেক জনবল প্রয়োজন হয়, অবকাঠামো ও যন্ত্রপাতির প্রয়োজন হয়। আমরা এখন প্রাইমারির স্বাস্থ্যসেবার মান উন্নয়নে বদ্ধপরিকর। যদি প্রাইমারির স্বাস্থ্যসেবার উন্নয়ন করতে পারি, তাহলে আমাদের স্বাস্থ্যখাতের সার্বিক চিত্র অনেকটাই পাল্টে যাবে। অ্যান্টিবায়োটিক দিতে পারবেন না গ্রাম্য চিকিৎসকরা এদিকে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে জাহিদ মালেক বলেন, প্রাইমারি হেলথ কেয়ার মূলত কমিউনিটি ক্লিনিক ও ফ্যামিলি ওয়েলফেয়ার সেন্টারের মাধ্যমে দিয়ে থাকি। সেখানে আমাদের ১০ বেড হাসপাতাল আছে, ইউনিয়ন হেলথ সেন্টার আছে, এছাড়াও ক্লিনিক ডায়াগনস্টিক সেন্টার আছে যারা এই স্বাস্থ্য সেবাটা দিয়ে থাকে। আমরা এ ক্ষেত্রে একটি বিষয়ে বেশি জোর দিচ্ছি, তা হলো প্রাইমারি হেলথ কেয়ার সেন্টারে যত্রতত্র অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহার করা যাবে না। অবৈধ ক্লিনিক ডায়াগনস্টিক সেন্টারে অভিযান প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, দেশে অনেক ডায়াগনস্টিক সেন্টার আছে যেগুলো অবৈধ, নিবন্ধিত নয়। তাদের কাছে আমরা কঠোর অবস্থান নিয়েছি। ইতোমধ্যে অসংখ্য ডায়াগনস্টিক ক্লিনিক বন্ধ করে দিয়েছি। এ ধারাবাহিকতা অব্যাহত থাকবে। করোনা নিয়ন্ত্রণের সফলতা উলেস্নখ করে তিনি বলেন, দেশে এ পর্যন্ত আমরা ৩১ কোটি ভ্যাকসিন দিয়েছি। এই চলমান টিকা ক্যাম্পেইনে প্রায় সোয়া কোটি ভ্যাক্সিন দিয়েছি। আশা করি, আগামী তিন দিনে দেড় কোটি ডোজ টিকা আমরা দিতে পারব। এটাই কোনো ক্যাম্পেইনে সর্বোচ্চ ভ্যাকসিনেশন। আশা করি, আমাদের কোনো ভ্যাকসিন এক্সপায়ার্ড (মেয়াদোত্তীর্ণ) হবে না। যদিও এটি নিয়ে আমাদের আশঙ্কা ছিল, মানুষ স্বপ্রণোদিত হয়ে টিকা নিতে আশায় সেই আশঙ্কা থেকে আমরা মুক্ত হয়েছি। সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রাণালয়ের সচিব ডক্টর আনোয়ার হোসেন হাওলাদার, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল বাসার খুরশিদ আলম, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আহমেদুল কবির প্রমুখ।
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

উপরে