শনিবার, ১৩ জুলাই ২০২৪, ২৯ আষাঢ় ১৪৩১

আমরা মূল্যস্ফীতিতে উদ্বিগ্ন, বললেন ২৪ বিশিষ্ট নাগরিক

যাযাদি রিপোর্ট
  ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৩, ০০:০০
আমরা মূল্যস্ফীতিতে উদ্বিগ্ন, বললেন ২৪ বিশিষ্ট নাগরিক

মূল্যস্ফীতি এবং ডিম-আলুসহ নিত্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধিতে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন দেশের ২৪ বিশিষ্ট নাগরিক। তারা বলেছেন, খাদ্যপণ্যের দাম অসহনীয় অবস্থায় চলে গেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সরকার কার্যকর ব্যবস্থা নেবে বলেও আশা প্রকাশ করেছেন তারা।

সোমবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে এই উদ্বেগের কথা বলেন তারা। বিবৃতিদাতারা বলেন, 'আমরা গভীর উদ্বেগের সঙ্গে লক্ষ্য করছি যে, প্রায় এক বছর ধরে খাদ্যপণ্যসহ সার্বিক মূল্যস্ফীতি অসহনীয় পর্যায়ে উপনীত হয়েছে। সরকারি সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ পরিসংখ্যান বু্যরোর (বিবিএস) তথ্য অনুযায়ী, আগস্ট মাসে খাদ্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধি হয়েছে ১২ দশমিক ৫৪ শতাংশ। আর সার্বিক মূল্যস্ফীতি ৯ দশমিক ৯ শতাংশ। এই পরিস্থিতিতে নিম্নবিত্ত ও মধ্যবিত্তদের পক্ষে জীবন ধারণ কষ্টসাধ্য হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে ডিম ও মাংসের মূল্যবৃদ্ধির ফলে আমিষ-জাতীয় খাদ্যাভাব পুষ্টির ক্ষেত্রে দীর্ঘমেয়াদি সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে।'

বিবৃতিতে বলা হয়, সরকারি ভাষ্য অনুযায়ী রুশ-ইউক্রেন যুদ্ধ এই পরিস্থিতির জন্য দায়ী এবং ব্যবসায়ীদের মতে, ডলার-সংকটের ফলে সমস্যা ঘনীভূত হয়েছে। বহু দেশে যুদ্ধের কারণে সমস্যা সৃষ্টি হয়েছিল এবং অধিকাংশ দেশে তা সত্ত্বেও মুদ্রানীতি, ব্যয় সংকোচন ও বাজার ব্যবস্থায় কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করে মূল্যস্ফীতি সহনীয় পর্যায়ে নামিয়ে আনতে সক্ষম হয়েছে। আমরা লক্ষ্য করছি যে, বাংলাদেশ এখন পর্যন্ত মূল্যস্ফীতি কমাতে সক্ষম হয়নি। বস্তুতপক্ষে, উৎপাদন ও

বাজার ব্যবস্থাপনায় সরকার কার্যকর সমর্থ হচ্ছে না। অভিযোগ রয়েছে যে, উৎপাদন, পাইকারি ও খুচরা বাজারে সিন্ডিকেট গড়ে উঠেছে এবং তারাই বাজারমূল্য নিয়ন্ত্রণ করছে। সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ, এমনকি গৃহীত পদক্ষেপও বাস্তবায়নে সমর্থ হচ্ছে না।

বিবতিদাতারা বলেন, 'এ পরিস্থিতি কোনো অবস্থায় কাম্য নয়। আমরা একান্তভাবে প্রত্যাশা করি, সরকার প্রয়োজনে সামাজিক শক্তির সহায়তায় এই দুর্বিষহ পরিস্থিতি উত্তরণে দ্রম্নত ব্যবস্থা গ্রহণ করে বিশেষ করে মাংস, ডাল, পেঁয়াজ, ডিম, আলুসহ পণ্যমূল্য সহনীয় পর্যায়ে নামিয়ে আনবে। জনদুর্ভোগ নিরসনে কার্যকর পদক্ষেপ নেবে।'

বিবৃতিতে স্বাক্ষর করেন সুলতানা কামাল, রাশেদা কে চৌধুরী, অধ্যাপক সৈয়দ আনোয়ার হোসেন, রামেন্দু মজুমদার, ডা. সারওয়ার আলী, ট্রাস্টি নুর মোহাম্মদ তালুকদার, অধ্যাপক এমএম আকাশ, খুশী কবির, রানা দাশগুপ্ত, রোবায়েত ফেরদৌস, জোবায়দা নাসরিন, সেলু বাসিত, আর এম দেবনাথ, অসিত বরন রায়, আব্দুলস্নাহ আল মামুন চৌধুরী, সালেহ আহমেদ, এ কে আজাদ, পারভেজ হাসেম, জহিরুল ইসলাম জহির, জাহাঙ্গীর আলম, অলক দাস গুপ্ত, আবদুল ওয়াহেদ, আব্দুর রাজ্জাক ও সাধারণ সম্পাদক গৌতম শীল।

সম্মিলিত সামাজিক আন্দোলনের সাধারণ সম্পাদক সালেহ আহমেদ গণমাধ্যমে এই বিবৃতিটি পাঠান।

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

উপরে