শনিবার, ০২ মার্চ ২০২৪, ১৭ ফাল্গুন ১৪৩০
walton
আরএসজিটিআই'র সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষরকালে প্রধানমন্ত্রী

পতেঙ্গা টার্মিনাল অর্থনৈতিক উন্নয়নে আশার বাতিঘর

যাযাদি রিপোর্ট
  ০৭ ডিসেম্বর ২০২৩, ০০:০০
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সৌদি আরবের বিনিয়োগ বিষয়ক মন্ত্রী খালিদ আল ফালিহ-এর উপস্থিতিতে বুধবার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ ও গেস্নাবাল অপারেটর আরএসজিটিআই'র মধ্যে চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠিত হয় -ফোকাস বাংলা

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ ও সৌদি সরকার মনোনীত বেসরকারি গেস্নাবাল অপারেটর আরএসজিটিআই'র মধ্যে চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে পতেঙ্গা কনটেইনার টার্মিনাল প্রকল্পটি বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের আশার বাতিঘর বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেছেন, প্রকল্পটি বাংলাদেশ ও সৌদি আরবের মধ্যে একটি শক্তিশালী ও টেকসই অংশীদারত্বের দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে। এই কনসেশন চুক্তি অর্থনৈতিক সহযোগিতা ও সমৃদ্ধির জন্য দুই দেশের যৌথ দৃষ্টিভঙ্গি এবং অটল অঙ্গীকারের উদাহরণ। এটি দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক, বিশেষ করে ব্যবসা-বাণিজ্য প্রসারে জোরদার ভূমিকা পালন করবে।

বুধবার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে আয়োজিত চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে তিনি এই মন্তব্য করেন। পতেঙ্গার এই কনটেইনার টার্মিনালটি চট্টগ্রাম বন্দরের প্রথম টার্মিনাল, যেটি কোনো বিদেশি অপারেটর পরিচালনা করবে। টার্মিনালটি উদ্বোধনের তিন সপ্তাহ পর এই চুক্তি সম্পাদিত হলো।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, 'স্বয়ংসম্পূর্ণ এই আধুনিক টার্মিনালটি আমাদের বন্দরের সক্ষমতা আরও বৃদ্ধি করবে এবং নিরবচ্ছিন্ন বাণিজ্য সহজতর করার পাশাপাশি কর্মসংস্থান ও নতুন উদ্যোক্তা সৃষ্টির পথও সুগম করবে। এটি বিশ্ব বাণিজ্যের প্রবেশদ্বার হিসেবে কাজ করবে এবং আমাদের ব্যবসা-বাণিজ্য সম্প্রসারণে বিশ্বের সঙ্গে সংযোগ স্থাপনের নতুন সুযোগ উন্মুক্ত করবে।'

শেখ হাসিনা বলেন, 'আরএসজিটিআই আগামী ২২ বছরের জন্য পতেঙ্গা কনটেইনার টার্মিনালটি পরিচালনা করবে। আরএসজিটিআই যে সুনামের সঙ্গে জেদ্দা পোর্ট টার্মিনালসহ অন্যান্য টার্মিনাল পরিচালনা করছে, সেই দক্ষতা ও প্রযুক্তিজ্ঞান কাজে লাগিয়ে পতেঙ্গা কনটেইনার টার্মিনালটি পরিচালনা করবে বলে

আমি আশা করি।'

সৌদি সরকারের এই উদ্যোগ নিঃসন্দেহে বাংলাদেশের চলমান উন্নয়ন ও অর্থনৈতিক সম্ভাবনার স্বীকৃতি মন্তব্য করে শেখ হাসিনা বলেন, 'আমাদের রেড সি গেটওয়ে টার্মিনাল ইন্টারন্যাশনাল সৌদি সরকার মনোনীত একটি স্বনামধন্য গেস্নাবাল টার্মিনাল অপারেটর। এই টার্মিনাল অপারেটরকে পতেঙ্গা কনটেইনার টার্মিনাল পরিচালনায় মনোনীত করার জন্য আমি সৌদি সরকারকে আন্তরিক ধন্যবাদ ও অভিনন্দন জানাই।'

এই প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য সৌদি বিনিয়োগমন্ত্রী ও তার প্রতিনিধি দলকে ধন্যবাদ জানান প্রধানমন্ত্রী। এছাড়া নৌপরিবহণ মন্ত্রণালয়, পিপিপি কর্তৃপক্ষ, চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ এবং সি গেটওয়ে টার্মিনাল কর্তৃপক্ষকে ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, 'বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে আপনাদের সবার অঙ্গীকার আমরা গভীর কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করছি।'

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গত ১৪ নভেম্বর টার্মিনালটি উদ্বোধন করেন। ২০০৭ সালে কাজ শুরু হওয়া এই কনটেইনার টার্মিনালে চারটি জেটি রয়েছে। এর মধ্যে তিনটি কনটেইনার জেটি এবং অন্যটি ডলফিন জেটি। নতুন টার্মিনাল অপারেশনাল কার্যক্রমে এলে চট্টগ্রাম বন্দরে জেটির সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াবে ২১টিতে।

বঙ্গোপসাগরের মোহনার অদূরে নগরীর ড্রাইডক ও চট্টগ্রাম বোট ক্লাবের মাঝামাঝি স্থানে কর্ণফুলী নদীর তীরে এক হাজার ২২৯ কোটি টাকা ব্যয়ে টার্মিনালটি নির্মাণ করা হয়েছে। এই প্রকল্পে অর্থায়ন করেছে চট্টগ্রাম বন্দর। ৫৮৪ মিটার লম্বা তিনটি জেটিতে একসঙ্গে তিনটি কনটেইনার জাহাজ ভেড়ানো যাবে। এছাড়া অন্য জেটিতে তেল খালাসের জন্য আরেকটি জাহাজও ভেড়ানো যাবে। জেটিটি পুরোপুরি চালু হলে কনটেইনার হ্যান্ডলিং বাড়বে এবং কিছুটা বড় জাহাজ জেটিতে ভিড়তে পারবে। এ টার্মিনালে বছরে প্রায় পাঁচ লাখ টিইইউএস কনটেইনার হ্যান্ডলিং সম্ভব।

প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি খাত বিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান, নৌপরিবহণ প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ সোহায়েল এবং রেড সি গেট টার্মিনালের চেয়ারম্যান আলী রেজা চুক্তি সই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

চার খাতে বাণিজ্যে আগ্রহী সৌদি আরব

এদিকে, বাংলাদেশের সঙ্গে খাদ্য, জ্বালানি, লজিস্টিকস এবং উৎপাদন খাতে বাণিজ্য জোরদারে আগ্রহ প্রকাশ করেছে সৌদি আরব। রাজধানীর হোটেল লা মেরিডিয়ানে অনুষ্ঠিত সৌদি-বাংলাদেশ বিজনেস কাউন্সিলের এক বৈঠকে এ বিষয়ে নিজেদের আগ্রহের কথা জানান সৌদি আরবের ব্যবসায়ীরা। দেশের শীর্ষ বাণিজ্য সংগঠন এফবিসিসিআই এ বৈঠকের আয়োজন করে।

বৈঠকে বিনিয়োগ-বিষয়ক মন্ত্রী খালিদ এ. আল ফালিহ বলেন, 'বাংলাদেশ সৌদি আরবের অন্যতম ঘনিষ্ঠ বন্ধু। দীর্ঘদিন ধরে উভয় দেশের মধ্যে চমৎকার বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বিরাজ করছে। এতদিন বাংলাদেশ ও সৌদি আরবের মধ্যে বাণিজ্যিক সম্পর্ক শুধু কয়েকটি খাতে বিদ্যমান ছিল। তবে এখন সময় এসেছে আমরা কীভাবে উভয় দেশের পারস্পরিক সুবিধার জন্য বাণিজ্যকে সহজ করতে পারি, তার উপায়গুলো খুঁজে বের করার চেষ্টা করছি। বাংলাদেশের প্রতি সৌদি আরবের সহায়তা ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।'

এ সময় প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ বিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান সৌদি আরবের ব্যবসায়ীদের বাংলাদেশে বিনিয়োগের আহ্বান জানিয়ে বলেন, 'দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যের অনেক সম্ভাবনা রয়েছে। এই সম্ভাবনাগুলো কাজে লাগাতে বাংলাদেশ সরকার উভয় দেশের ব্যবসায়ীদের সর্বাত্মক সহযোগিতা করবে।'

এফবিসিসিআই সভাপতি মাহবুবুল আলম বলেন, 'বাংলাদেশ ও সৌদি আরবের সম্পর্ক ইসলামিক ঐতিহ্য, সংস্কৃতি এবং পারস্পরিক শ্রদ্ধার ভিত্তিতে গঠিত। দীর্ঘদিন ধরে উভয় দেশ চমৎকার বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রেখে আসছে।'

গত ৫০ বছরে বাংলাদেশ উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য একটি রোল মডেল হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে উলেস্নখ করে এফবিসিসিআই সভাপতি বলেন, 'বাংলাদেশের ধারাবাহিক উন্নয়ন এখন বিশ্বব্যাপী সমাদৃত। উন্নয়নের ধারাবাহিকতায় ২০২৩ সালে বাংলাদেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধির হার দাঁড়িয়েছে ৬ দশমিক শূন্য ৩ শতাংশ।'

২০৪০ সাল নাগাদ বাংলাদেশ ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে পরিণত হবে উলেস্নখ করে তিনি সৌদি ব্যবসায়ীদের বাংলাদেশের বিনিয়োগ সম্ভাবনা কাজে লাগানোর আহ্বান জানান।

বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করতে সরকারের গৃহীত বিভিন্ন উদ্যোগের কথা তুলে ধরে মাহবুবুল আলম বলেন, 'বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য সরকার দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম উদার ও বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ গড়ে তুলেছে। এর মধ্যে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য বিশেষ প্রণোদনা ও সুবিধা রাখার পাশাপাশি ব্যবসা সহজীকরণ এবং ওয়ান স্টপ সার্ভিস ব্যবস্থা চালু করেছে।'

বৈঠকে সৌদি বাংলাদেশ বিজনেস কাউন্সিলের চেয়ারম্যান আয়াদ আল আমরি, বাংলাদেশে নিযুক্ত সৌদি রাষ্ট্রদূত ঈশা ইউসেফ ঈশা আল-দুহাইলান, এফবিসিসিআই সহ-সভাপতি খায়রুল হুদা চপল, ডক্টর যশোদা জীবন দেবনাথ, মো. মুনির হোসেনসহ বাংলাদেশ ও সৌদি আরবের ব্যবসায়ীরা উপস্থিত ছিলেন।

প্রধানমন্ত্রী টুঙ্গিপাড়া আসছেন আজ

গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি জানান, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আজ সকালে টুঙ্গিপাড়া আসছেন। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদনের পাশাপাশি আওয়ামী লীগের নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করবেন।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রচার-প্রচারণা শুরুর আগে প্রধানমন্ত্রী জাতির পিতার সমাধিতে শ্রদ্ধা জানাবেন এবং নিজের নির্বাচনী এলাকা টুঙ্গিপাড়া ও কোটালীপাড়া উপজেলার নেতাকর্মীদের সঙ্গে বৈঠকে মিলিত হবেন।

এ বিষয়ে জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জিএম সাহাব উদ্দিন আজম বলেন, 'প্রধানমন্ত্রী সময় পেলেই টুঙ্গিপাড়ায় চলে আসেন। এবারও তার ব্যতিক্রম নয়। এবার তিনি কোনো রাজনৈতিক কর্মসূচিতে অংশ নেবেন না। তবে টুঙ্গিপাড়া ও কোটালীপাড়ার নেতাকর্মীদের সঙ্গে চা-পান করবেন এবং কথা বলবেন।'

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

উপরে