বৃহস্পতিবার, ২৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ১৬ ফাল্গুন ১৪৩০
walton
প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা

আনসার বাহিনীকে আরও স্মার্ট ও আধুনিক করা হবে

মো. ইমারত হোসেন, কালিয়াকৈর (গাজীপুর)
  ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ০০:০০
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সোমবার গাজীপুরের সফিপুর আনসার ও ভিডিপি একাডেমিতে বাংলাদেশ আনসার এবং গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর জাতীয় সমাবেশ ও কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠানে বিভিন্ন হস্তশিল্পের স্টল পরিদর্শন করেন -ফোকাস বাংলা

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, জাতীয় সম্পদ রক্ষায় আনসার বাহিনী অত্যন্ত দক্ষতার সাথে দায়িত্ব পালন করেন। দেশের সব জায়গায় তারা দায়িত্ব পালন করছে। আমাদের জাতীয় যেকোনো প্রয়োজনে আনসার বাহিনীকে ডাকা হয় এবং তারা দায়িত্ব পালন করেন। এখন বিভিন্ন দূতাবাস থেকে শুরু করে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় এ বাহিনী অত্যন্ত দক্ষতার সাথে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন। সবচেয়ে বড় কথা, যখন সেই ২০১৩ সাল, ২০১৪ সাল ও ২০২৩ সালেও অগ্নিসংস্ত্রাস, রেলে আগুন, রেললাইন কেটে ফেলে দেওয়া, মানুষকে হত্যা করাসহ বিএনপি-জামায়াত জোট যে ধ্বংসাত্মক কাজ করেছিল। সে সময়ও এ বাহিনী অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে রাষ্ট্রীয় সম্পদ রক্ষার জন্য কাজ করেছে। তাই এই বাহিনীকে আরও স্মার্ট ও আধুনিক হিসেবে গড়ে তোলা হবে।

সোমবার গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার সফিপুর আনসার ভিডিপি একাডেমিতে বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর ৪৪তম জাতীয় সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, 'বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে, এগিয়ে যাবে। আমরা ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত সমৃদ্ধ ক্ষুধা দারিদ্র্যমুক্ত স্মার্ট সোনার বাংলাদেশ গড়ে তোলে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের স্বপ্ন আমরা পূরণ করব। সেইসাথে ডেটা পস্নান্ট ২ হাজার ১০০ তৈরি করে দিয়েছি। জলবায়ু অধিকার থেকে এই বদ্বীপ যাতে রক্ষা পায় প্রতি অঞ্চল অর্থাৎ গ্রাম পর্যায় মানুষ যেন সুরক্ষিত থাকে, উন্নত জীবন পায় এবং প্রত্যেকে যেন নিজের পায়ে দাঁড়াতে পারে। বিশেষ করে আমাদের তরুণ সমাজ তারাই হবে স্মার্ট বাংলাদেশের স্মার্ট নাগরিক স্মার্ট সৈনিক।'

তিনি বলেন, 'আমরা চাই, আমাদের দেশ এগিয়ে যাক। আজকে আমরা ঘরে ঘরে বিদু্যৎ দিয়েছি, অবকাঠামোগত উন্নয়ন করেছি। সবচেয়ে বড় কথা হলো সাধারণ মানুষের মধ্যে একটা আত্মবিশ্বাস গড়ে উঠেছে। যেটা আমার একমাত্র লক্ষ্য ছিল। আত্মবিশ্বাস ছাড়া কোনো জাতি এগিয়ে যেতে পারে না। আর সেটা আমরা

আজকে করতে পেরেছি। যেকোনো অবস্থার মোকাবিলা করার মতো আমাদের সেই সক্ষমতা আছে।'

শেখ হাসিনা বলেন, 'আমাদের প্রত্যেকটা গ্রামকে আমরা নিরাপদ করতে চাই। আমাদের গ্রামগুলোও স্মার্ট গ্রাম হিসেবে গড়ে উঠবে। সেখানে কোনো মানুষ দারিদ্র্য থাকবে না, কোনো মানুষ ভূমিহীন থাকবে না, গৃহহীন থাকবে না। আমি ইতিমধ্যেই ভূমিহীন-গৃহনীন মানুষকে ঘর করে দিয়েছি। আমরা সেভাবে প্রত্যেকটা মানুষের জীবনযাপন উদযাপন এবং সুন্দরভাবে এগিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা করব।'

প্রধানমন্ত্রী বলেন, 'অনেক ত্যাগের বিনিময়ে আমরা আমাদের স্বাধীনতা পেয়েছি। ১৯৭১ সালে ২৬ মার্চ জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু স্বাধীনতা ঘোষণা দেন। তারপর তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। এরপর মজিব নগরে স্বাধীন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার গঠন করা হয়। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মজিবুর রহমান রাষ্ট্রপতি, সৈয়দ নজরুল ইসলামকে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি ও তাজউদ্দীন আহমদ ছিলেন প্রধানমন্ত্রী। সেই সময় আজকের যেটা মেহেরপুর সেখানে এই সরকার প্রথম শপথ গ্রহণ করে। আনসার বাহিনীর সদস্যরাও সেখানে উপস্থিত ছিলেন। জাতির পিতার ডাকে সারা দিয়ে হাজার হাজার আনসার বাহিনী তাদের হাতে যা কিছু ছিল সব নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন।'

তিনি বলেন, 'প্রায় ৬১ লাখ সদস্যবিশিষ্ট আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহনীতে দুটি মহিলা ব্যাটালিয়ন একটি বিশেষায়িত আনসার গ্রাম ব্যাটালিয়ন ৪২টি ব্যাটালিয়ন রয়েছে। এখানে ১৬টি ব্যাটালিয়ন সদস্যরা পার্বতী এলাকায় শান্তি শৃঙ্খলা উত্তরণে সেনাবাহিনীর সঙ্গে দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় কত কষ্ট পরিশ্রম করে যাচ্ছে। এখানে দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে অনেকেই আহত হয়েছেন অথবা শহীদ হয়েছেন। আমি তাদের কথাও স্মরণ করি।'

প্রধানমন্ত্রী বলেন, 'আমরা যখন ১৯৯৬ সাল থেকে সরকারে এসেছি তখন থেকে আনসার বাহিনীর উন্নয়নের বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছি। আজকে এ বাহিনী শুধু দেশে নয় বিদেশে সব জায়গায় সুনাম অর্জন করে যাচ্ছে। এ বাহিনী গ্রাম পর্যায়েও কাজ করে থাকেন। আমরা গ্রাম উন্নয়নেও বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছি। আমার গ্রাম আমার শহর, আমার বাড়ি আমার খামারসহ বিভিন্ন কর্মসূচি প্রতিটি ক্ষেত্রে আনসার বাহিনীর সদস্যরা বিভিন্ন কার্যক্রলাপ পরিচালনা করে যাচ্ছেন। তাছাড়া দুর্যোগ ও বিপাকে আনসার বাহিনী নেমে আসে এবং সহযোগিতা করে। কখনো ঝড়, বন্যা, ঘূর্ণিঝড়সহ যেকোনো দুর্যোগপ্রবল ঘটনা ঘটলে এ বাহিনী অত্যন্ত আন্তরিকতার সাথে কাজ করে যান।'

আনসার বাহিনীর উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, 'ইতিমধ্যে আমরা পুরাতন আইন পরিবর্তন করে নতুন আইন করেছি। আনসার ব্যাটালিয়ন আইন ২০২৩ ইতিমধ্যে আমরা পাস করে দিয়েছি। এতে করে অন্যান্য বাহিনীর সদস্যদের মতো প্রথম দিন থেকেই স্থায়ী হওয়ার সুযোগ করে দিয়েছি। এর পূর্বে আনসারদের স্থায়ী হতো না। আমি ১৯৯৬ সাল থেকে পর্যায়ক্রমভাবে এই স্থায়ী হওয়ার কাজ শুরু করি। এখন নতুন আইনে সেই সুবিধা করে দিয়েছি। উপজেলা আনসার কোম্পানি কমান্ডার, ইউনিয়ন পস্নাটো কমান্ডার, ইউনিয়ন দল নেতা, ইউনিয়ন দল নেত্রীদের আইডি কার্ড প্রদান এবং বার্ষিক সম্মানী ভাতা বৃদ্ধি করা হয়েছে। এছাড়া আনসার সদস্যদের ভাতা বৃদ্ধি ও রেশম সামগ্রী উপকরণ বৃদ্ধি করা হয়েছে। নারী বিজিবি সদস্যদের মতো অত্যন্ত আধুনিক ডিজাইনের নতুন শাড়িও আমি প্রবর্তন করে দিয়েছি।'

তিনি বলেন, 'আমরা চাই বাংলাদেশ এগিয়ে যাবে। আজকে আমরা বিশেষ করে ২০০৮ সালের নির্বাচনে জয়ী হওয়ার পর সরকার গঠন করি। দেশ পরিচালনা করে আজকে বাংলাদেশকে আমরা উন্নয়নশীল দেশের মর্যাদায় নিয়ে এসেছি। ২০২৬ সাল থেকে উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে আমাদের যাত্রা শুরু হবে। তবে আমাদের আরও আন্তরিকতার সাথে কাজ করে এগিয়ে যেতে হবে। ২০৪১ সালের মধ্যে যে স্মার্ট বাংলাদেশ আমরা গড়ে তুলব। আমরা চাই আমাদের প্রত্যেকটা বাহিনী বিশেষ করে আনসার বাহিনীও সে স্মার্ট বাহিনী হিসেবে গড়ে উঠবে। দেশের উন্নয়নের সাথে একাত্ম হয়ে কাজ করে যাবে।'

তিনি আনসার ভিডিপি সদস্যদের উদ্দেশে বলেন, 'আমি আপনাদের বলব আপনাদের উন্নয়ন অগ্রযাত্রা অব্যাহত রাখবেন। সবাইকে কঠোরভাবে পরিশ্রম ও সততার সাথে কাজ করতে হবে। দেশের সর্ববৃহৎ বাহিনী হিসেবে আপনাদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করবেন। জন নিরাপত্তা রক্ষার ক্ষেত্রে যেকোনো অশুভ তৎপরতা তা মোকাবিলা করতে হবে। সততা ও আন্তরিকতার সাথে আপনারা সেটা রুখে দাঁড়াবেন। জনগণ এবং বিনিয়োগের নিরাপত্তা, শান্তি পরিবেশ ধরে রাখা এটা আমাদের সবার পবিত্র দায়িত্ব। দেশের সামগ্রিক উন্নয়নের পূর্বশর্ত স্থিতিশীল রাজনৈতিক অবস্থা ও অর্থনৈতিক পরিবেশ এবং গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থার ধারাবাহিকতা। কাজেই সেই পরিবেশ ধরে রাখার জন্য সবাইকে আমরা অনুরোধ জানাচ্ছি।'

এ সময় উপস্থিত ছিলেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আলহাজ অ্যাডভোকেট আ ক ম মোজাম্মেল হক, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান, সিনিয়র সচিব মো. মোস্তাফিজুর রহমান, বাহিনীর মহাপরিচালক মেজর জেনারেল একেএম আমিনুল হক, অতিরিক্ত মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. নাজিম উদ্দিন, আনসার ও ভিডিপি একাডেমির কমান্ড্যান্ট মো. নূরুল হাসান ফরিদী, বাহিনীর উপমহাপরিচালকরা, অন্যান্য কর্মকর্তা ও আনসার-ভিডিপি সদস্যরা। এছাড়াও মন্ত্রী পরিষদের সদস্যরা, সংসদ সদস্যরা, মন্ত্রিপরিষদ সচিব, তিন বাহিনী প্রধান, সিনিয়র সচিবরাসহ বিভিন্ন বাহিনীর প্রধানগণ, কূটনৈতিক ব্যক্তিরা, সামরিক ও বেসামরিক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা, প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ার ঊর্ধ্বতন ব্যক্তিরা এবং আমন্ত্রিত অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন।

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

উপরে