কুমিলস্নার দাউদকান্দি উপজেলায় পৃথক দুটি সড়ক দুর্ঘটনায় দুই শিশুসহ পাঁচজন নিহত হয়েছেন। শনিবার সকাল সাড়ে ৭টা থেকে সাড়ে ১০টার মধ্যে দুর্ঘটনা দুটি ঘটে। এর মধ্যে সকাল সাড়ে ৭টার দিকে ঢাকা-কচুয়া সড়কে উপজেলার শায়েস্তানগরের কাছে বাসের চাপায় ট্রাক্টরের দুই শ্রমিক নিহত হন। আর সকাল সাড়ে ১০টার দিকে উপজেলার দৌলতপুর এলাকায় বাসের চাপায় অটোরিকশার তিন যাত্রী প্রাণ হারান। তাদের মধ্যে একজন শিশু ও দুজন নারী রয়েছেন।
নিহতরা হলেন- বোরহান উদ্দিন (২২), মোহাম্মদ আলী (৩০), মায়ানুর আক্তার (৩৫) এবং ১১ ও ৪ বছর বয়সের অজ্ঞাত দুই শিশু।
পুলিশ ও নিহত ব্যক্তিদের স্বজনরা জানান, দাউদকান্দি উপজেলার গৌরীপুর বাজার থেকে ইটবোঝাই একটি ট্রাক্টর উপজেলার মলয় বাজারের দিকে যাচ্ছিল। সকাল সাড়ে ৭টার দিকে ট্রাক্টরটি ঢাকা-কচুয়া সড়কের দাউদকান্দি উপজেলার শায়েস্তানগর এলাকায় পৌঁছালে নোয়াখালী থেকে ঢাকাগামী বাস সেটিকে ধাক্কা দেয়। এতে ট্রাক্টরটি মহাসড়কের পাশের খাদের পানিতে পড়ে যায়। এতে ট্রাক্টর আরোহী দিনমজুর বোরহান মিয়া (২২) ও অজ্ঞাত দিনমজুর (৩০) ঘটনাস্থলেই মারা যান। ট্রাক্টরের চালক সুলতান আহমেদ এবং দুই দিনমজুর গুরুতর আহত হন। আহত ব্যক্তিদের বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়। নিহত দিনমজুর বোরহান উদ্দিন দাউদকান্দি উপজেলার লক্ষ্ণীপুর গ্রামের গিয়াস উদ্দিনের ছেলে ও মোহাম্মদ আলী জামালপুর সদরের সৈয়দ আলীর ছেলে।
দাউদকান্দি মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) হেলাল উদ্দিন বলেন, নিহত দুজনের লাশ ময়নাতদন্তের জন্য কুমিলস্না মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। মামলার প্রস্তুতি চলছে। ট্রাক্টরটি তোলার চেষ্টা চলছে।
পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি দিনমজুর বোরহান উদ্দিনকে হারিয়ে পরিবারটি
\হদিশাহারা হয়ে পড়েছে। বোরহান উদ্দিনের স্ত্রী তানজিনা আক্তার দাউদকান্দি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপেস্নক্সে বিলাপ করতে করতে বলেন, 'আড়াই বছর আগে তাদের বিয়ে হয়। ছয় মাসের একটি মেয়ে আছে। এখন তাদের কী হবে?'
অন্যদিকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের দৌলতপুর বাসস্ট্যান্ডের কাছে ঢাকাগামী অনির্বাণ পরিবহণের একটি বাসের সঙ্গে সিএনজিচালিত অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষে ঘটনাস্থলে মায়ানুর আক্তার (৩০) নামে এক যাত্রী মারা যান। আহত যাত্রী ও চালকদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে দুপুরের দিকে আরও দুজনের মৃতু্য হয়। দুর্ঘটনায় নিহতরা সবাই পাশের বাসরা গ্রামের বাসিন্দা।
হাইওয়ে পুলিশের ওসি কৌশিক বলেন, 'সিএনজিচালিত অটোরিকশাটি আটক করা হয়েছে। নিহত ডলির লাশ পুলিশ উদ্ধার করে থানায় এনেছে। কিন্তু বাকি দুজন মারা গেছেন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। এ ঘটনায় স্বজনরা আইনি ব্যবস্থা নেবেন বলে শুনেছি। তবে এখনো কেউ লিখিত অভিযোগ করেননি। দুর্ঘটনাকবলিত গাড়িগুলো পুলিশ হেফাজতে আছে।'