বৃহস্পতিবার, ০২ ফেব্রুয়ারি ২০২৩, ১৯ মাঘ ১৪২৯
walton1

শীতে খেজুরের রস সংগ্রহে গাছ প্রস্তুতে ব্যস্ত গাছিরা

স্বদেশ ডেস্ক
  ০৩ নভেম্বর ২০২২, ০০:০০
যশোরের চৌগাছায় খেজুর রস সংগ্রহে গাছে হাঁড়ি বাঁধছেন গাছি -যাযাদি
ভোরের কুয়াশা জানান দিচ্ছে প্রকৃতিতে আসতে শুরু করেছে শীত। তাই সীমান্তের জেলা নওর্গা এবং যশোরের চৌগাছাসহ বিভিন্ন জায়গায় শীতের শুরুতে খেজুরের রস সংগ্রহ করতে ব্যস্ত সময় পার করছেন গাছিরা। নওগাঁ প্রতিনিধি জানান, উত্তরের সীমান্তবর্তী জেলা নওগাঁতে জানান দিচ্ছে শীতের আগামনী বার্তা। এ জেলায় দিনের বেলায় তেমন একটা ঠান্ডা অনুভব না হলেও গভীররাত এবং সকালে সূর্য ওঠার আগ পর্যন্ত বোঝা যাচ্ছে শীতের আমেজ। বাংলার ঘরে ঘরে শীতকাল মানেই অনেকটা পিঠাপুলির উৎসব। আর সেই পিঠার মধ্যে অন্যতম উপাদান হচ্ছে খেজুর রসের লালি ও গুড়। খেজুর রস দিয়ে আরও তৈরি গুড়ের রসগোলস্না, পায়েস, মোয়া ও সন্দেশ যেন অন্য রকম তৃপ্তি এনে দেয় মুখে। জেলার বিভিন্ন এলাকায় ব্যস্ত সময় পার করছেন গাছিরা। চলছে গাছ তৈরি ও নলি বসানোর কাজ। তাই শীতের শুরুতে দম ফেলার মতো যেন সময় নেই গাছিদের। জেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, জমির আইল, রাস্তার পাশে এমনকি পুকুর পাড়ে সারি- সারি খেজুর গাছের ডাল কেটে পরিষ্কার করছেন। হাতে দা, কোমরে রশি বেঁধে নিপুণ হাতে গাছ তৈরি করছেন গাছিরা। এরই মধ্যে অনেকে রস সংগ্রহের জন্য গাছে নলি গাঁথাও শুরু করেছেন। গাছিরা বলছেন, আর মাত্র ১০-১৫ দিন পরই রস পাওয়া শুরু হবে। নওগাঁ সদর উপজেলার বর্ষাইল গ্রামের গাছি তোজাম্মেল হোসেন বলেন, এবার ১৫টি গাছ থেকে রস সংগ্রহ করবেন। সব প্রস্তুতি শেষ হয়েছে। এখন অপেক্ষা রস সংগ্রহের। রাণীনগর উপজেলার নওদুলি গ্রামের গাছি সুসান্ত কুমার বলেন, ২০টি গাছ থেকে এবার রস সংগ্রহ করছেন। নিজের ১০টি গাছ আর ১০টি গাছ চুক্তি করে নিয়েছেন। প্রতি গাছ থেকে মালিককে দিতে হবে ৭ কেজি করে লালি। একটি খেজুরগাছ থেকে প্রতিদিন চার কেজির মতো রস পাওয়া যায়। আর ছয় কেজি রস থেকে ১ কেজি গুড় পাওয়া যায়। লালির ক্ষেত্রে ৩ কেজি রসে মেলে ১ কেজি। বদলগাছী উপজেলার ভান্ডারপুর গ্রামের গাছি রবিউল ইসলাম বলেন, ৩০টি গাছ একজন মালিকের কাছ থেকে নিয়েছেন। মালিককে এক সিজনের জন্য দিতে হবে ১৫ হাজার টাকা। জ্বালানিসহ প্রতিদিন খরচ হবে প্রায় ৪০০ টাকার মতো। গত বছর গুড় বিক্রি করেছিলেন ৮০ টাকা কেজিতে। আর লালি ৭০-৭৫ টাকা কেজি দরে। এবার যদি সে রকম দাম থাকে তবে প্রতিদিন ৭০০-৮০০ টাকার মতো করে লাভ করতে পারবেন। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর নওগাঁর উপ-পরিচালক আবু হোসেন বলেন, জেলায় ১৭০ হেক্টর জমিতে খেজুরগাছ রয়েছে। সেই হিসেবে গাছের সংখ্যা প্রায় সাড়ে ৭ হাজারের মতো। চলতি বছর ৮৭০ টন গুড় উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। কৃষি অফিস থেকে গাছিদের মাঠপর্যায়ে খেজুরগাছ থেকে রস লামানের লালি বা গুড় উৎপাদনের বিষয়ে পরামর্শ দেওয়া হয়ে থাকে। চৌগাছা (যশোর) প্রতিনিধি জানান, যশোরের চৌগাছায় শীতে খেজুরের রস সংগ্রহের জন্য গাছ প্রস্তুত করার কাজে ব্যস্ত গাছিরা। কাকডাকা ভোরে থেকে চলবে রস সংগ্রহ। সন্ধ্যায় চলবে গাছ পরিচর্যার কাজ। চলতি মৌসুমে কিছুটা আগেই উপজেলার প্রান্তিক গাছিরা প্রস্তুতি নিচ্ছেন। আর মাত্র কয়েক দিন পর রস সংগ্রহ করে রস থেকে গুড় ও পাটালি তৈরি শুরু হবে। চলবে প্রায় ফাল্গুন মাস পর্যন্ত। উপজেলার নারায়নপুর ইউনিয়নের পেটভরা গ্রামের গাছি আব্দার রহমান বলেন, শীতের পুরো মৌসুমে চলে রস, গুড়, পিঠা, পুলি ও পায়েস খাওয়ার মহা উৎসব। তবে ইটের ভাটায় জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করায় খেজুর গাছ অনেক কমে গেছে। তবে খেজুর গাছ অর্থনীতি, সংস্কৃতি, সাহিত্য তথা জীবনধারায় মিশে আছে। এই ঐতিহ্যকে যে কোনো মূল্যে রক্ষা করতে হবে। এ ব্যাপারে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ সমরেন বিশ্বাস বলেন, বাংলাদেশের প্রতিটি অঞ্চলেই খেজুর গাছ প্রায় বিলুপ্তির পথে। আমরা উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের গাছিদের এ পেশায় টিকে থাকার জন্য প্রশিক্ষণ, উঠান বৈঠক ও সমাবেশ করেছি। ইউএনও ইরুফা সুলতানা বলেন, গ্রাম-বাংলার ঐতিহ্য রক্ষা করতে উপজেলার বিভিন্ন সড়কের দুই ধারে খেজুর গাছের চারা রোপণ করেছি। এ পেশার সঙ্গে জড়িত গাছিদের নিয়ে সমাবেশ করে তাদের উৎসাহ দিয়ে যাচ্ছি।
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

উপরে