বৃহস্পতিবার, ০১ ডিসেম্বর ২০২২, ১৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৯
এডিটরস গিল্ডের গোলটেবিল বৈঠক

সংকট সমাধানে মিয়ানমারের ওপর অব্যাহত আন্তর্জাতিক চাপ প্রয়োজন

ম যাযাদি রিপোর্ট
  ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২২, ০০:০০
আন্তর্জাতিকভাবে মিয়ানমারের ওপর আরও চাপ প্রয়োগের ওপর গুরুত্বারোপ করে দেশের বিশিষ্টজনেরা বলেছেন, মিয়ানমারের রাখাইন থেকে বাস্তুচু্যত হয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী এখন আমাদের জন্য সংকট হয়ে দাঁড়িয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে সীমান্ত এলাকায় সংঘর্ষ ও বাংলাদেশে তার প্রভাব পড়ায় এক ধরনের অস্থিরতা বিরাজ করছে। এর পেছনে ভূরাজনীতিরও একটা প্রভাব রয়েছে। অব্যাহত আন্তর্জাতিক চাপই এই সংকট থেকে উত্তরণ ঘটাতে পারে। শনিবার রাজধানীর বনানীর ঢাকা গ্যালারিতে এডিটরস গিল্ড বাংলাদেশের 'রোহিঙ্গা সংকট- সীমান্ত পরিস্থিতি- ভূরাজনীতি' শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে বক্তারা এসব কথা বলেন। বৈঠকটি সঞ্চালনা করেন এডিটরস গিল্ডের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও দৈনিক ভোরের কাগজের সম্পাদক শ্যামল দত্ত। গোলটেবিল বৈঠকে সাবেক পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আবুল হাসান চৌধুরী বলেন, 'যারা কথায় কথায় স্যাংকশন দেয় তাদের উচিত মিয়ানমারের ক্ষমতাসীনদের বিরুদ্ধে এটা দেওয়া। মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূতদের ডেকে তাদের বলা উচিত এভাবে চলতে পারে না। সুইফট সিস্টেম থেকে মিয়ানমারকে বাদ দেওয়া উচিত। কূটনৈতিকভাবে এই সমস্যার সমাধানের দিকে আমাদের এগোতে হবে। সমস্যার কথা চিন্তা করে আমাদের কিছু মিসাইল কক্সবাজারের দিকে মোতায়েন করা উচিত। সীমান্ত এলাকায় ভারত ও চীনের কিছু ইপিজেড বসিয়ে দেওয়া উচিত। পর্দার আড়ালে মিয়ানমারের সঙ্গেও একটি ডিপেস্নাম্যাসি করা উচিত।' সাবেক রাষ্ট্রদূত মুন্সি ফয়েজ আহমদ বলেন, 'মিয়ানমার আর্মির বিরুদ্ধে সেখানকার অভ্যন্তরীণ শক্তিগুলোর ঐক্যবদ্ধ হওয়ার একটা প্রক্রিয়া আমরা দেখছি। সীমান্তে আমরা নিরাপত্তা বাহিনীকে সতর্ক রেখেছি। তবে ডিপেস্নাম্যাসির ক্ষেত্রে অপ্রতুলতার কথাও শোনা যাচ্ছে।' নিরাপত্তা বিশ্লেষক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ডক্টর এম সাখাওয়াত হোসেন বলেন, 'এই সংকট বেশিদিন দীর্ঘায়িত হলে আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। বাংলাদেশ সীমান্তের ওপারে থাকা আরাকান আর্মি রোহিঙ্গাদেরও পাশে টানার চেষ্টা করছে। রোহিঙ্গা যুবকরা যদি তাদের মাতৃভূমির জন্য লড়াই শুরু করে তাহলে কী পরিস্থিতি দাঁড়াবে!' আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষক অধ্যাপক ডক্টর ইমতিয়াজ আহমেদ বলেন, 'অং সান সু চি ক্ষমতা হারানোর পর রোহিঙ্গা ইসু্যতে মিয়ানমারের মনোযোগে পরিবর্তন এসেছে। ক্ষমতা দখলকারীরা দুর্বল থাকায় সেই সুযোগ নিচ্ছে অভ্যন্তরীণ গোষ্ঠীগুলো। আরাকান আর্মিসহ অন্যরাও নিজেদের ক্ষমতা বাড়ানোর জন্য মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে। এই সুযোগটা আন্তর্জাতিক বিজনেস কমিউনিটিও নিচ্ছে, অস্ত্র ব্যবসা বাড়ছে। এছাড়া আন্তর্জাতিক আদালতে দুটি জাজমেন্ট রোহিঙ্গাদের পক্ষে রয়েছে। সেটি বুঝেই মিয়ানমারের জান্তারা একটি সংঘাত চাইছে। তারা এর সঙ্গে বাংলাদেশকে জড়াতে চাইছে।' নিরাপত্তা বিশ্লেষক মেজর জেনারেল (অব.) আব্দুর রশীদ বলেন, 'মিয়ানমার আর্মির এই মুহূর্তে শক্তি থাকলেও বাংলাদেশে আক্রমণ করার সক্ষমতা নেই। আমরা ডিফেন্সিভ অবস্থায় আছি। রোহিঙ্গা ইসু্যতে চীন ও ভারতের কী অবস্থান সেটিও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।' জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের সাবেক চেয়ারম্যান কাজী রিয়াজুল হক বলেন, '২০১৭ সালে লাখ লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে প্রবেশ করলে পরিস্থিতি মোকাবিলায় বাংলাদেশ পাঁচ দফা প্রস্তাব দিয়েছিল। এক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে এগিয়ে আসতে হবে। পাশাপাশি বাংলাদেশের সক্রিয় ভূমিকা জোরদার অব্যাহত রাখতে হবে।' নিরাপত্তা বিশ্লেষক অধ্যাপক ডক্টর আব্দুর রব খান বলেন, 'রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে এখনও তেমন কোনও অগ্রগতি হয়নি। বরং পরিস্থিতি আগের চেয়ে আরও খারাপের দিকে যাচ্ছে। সম্প্রতি সীমান্তের ওপারে সংঘাতে রোহিঙ্গা ইসু্যটি আরও পেছনে চলে যাচ্ছে। মিয়ানমারের কেন্দ্রীয় জান্তা সরকার দুর্বল থাকায় ইচ্ছাকৃতভাবেই এমনটি করতে পারে।' ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের শিক্ষক অধ্যাপক ডক্টর দেলোয়ার হোসেন বলেন, 'রোহিঙ্গা সমস্যার পেছনে রাজনৈতিক প্রভাব রয়েছে সেটি অস্বীকার করার সুযোগ নেই। এটি বেড়ে চললেও আমরা কিন্তু ভিকটিম না। মিয়ানমারের আচরণ সবার জন্যই চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।'
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

উপরে