বৃহস্পতিবার, ০১ ডিসেম্বর ২০২২, ১৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৯

নীরব ভূমিকায় পৌর কর্তৃপক্ষ নওগাঁয় দুই কোটি টাকার খাস সম্পত্তিতে অবৈধ স্থাপনা

ম রুহুল আমিন, নওগাঁ
  ০১ অক্টোবর ২০২২, ০০:০০
নওগাঁয় শহরের প্রাণকেন্দ্র গোস্তহাটির মোড়ে পৌরসভার নামে থাকা প্রায় ২ কোটি টাকা মূল্যের সম্পত্তিতে অবৈধ স্থাপনা নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে লিটন ঘোষ নামে প্রভাবশালীর বিরুদ্ধে। গত ১ মাস যাবৎ দিনে দুপুরে প্রকাশ্য এই দখলদারী চললেও বিষয়টি দেখেও না দেখার ভান করে চলছে পৌর কর্তৃপক্ষ। মোটা অঙ্কের টাকায় মেয়র ও কাউন্সিলরকে ম্যানেজ করেই এই সরকারি সম্পদ দখলের মহোৎসব চলছে বলে অভিযোগ রয়েছে। সরেজমিন দেখা যায়, শহরের গোস্তহাটির মোড়ের বর্তমান শৈলগাছী ইজিবাইক স্টান্ডে নব্বইয়ের দশকে পৌরসভার ডিমের ও তরকারি বাজার ছিল। ২০০২ সালের দিকে বাজারটি স্থানান্তর হলে সেখানে টিনের তৈরি দোকানপাট তৈরি করে দখলে নেয় প্রভাবশালী লিটন ঘোষ। দোকানগুলো থেকে নিয়মিত ভাড়া আদায় করে আসছেন তিনি। বর্তমানে টিনের দোকানগুলো ভেঙে জমিটি স্থায়ীভাবে দখলে নিতে ইটের গাঁথুনি দিয়ে স্থাপনা নির্মাণ করা হচ্ছে। শহরের ভেতরে প্রকাশ্য অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ করা হলেও বিষয়টি জেনেও নীরব ভূমিকায় রয়েছে পৌর কর্তৃপক্ষ। নির্মাণকাজ বন্ধে সম্প্রতি সচেতন এলাকাবাসী মানববন্ধন করলেও প্রশাসনের টনক নড়েনি। মোটা অঙ্কের টাকায় রফাদফার মাধ্যমে সরকারের কোটি টাকা মূল্যের এই খাস সম্পত্তি লিটনকে দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে পৌর মেয়র ও স্থানীয় কাউন্সিলরের বিরুদ্ধে। ওই এলাকার স্থায়ী বাসিন্দা জুয়েল দাস, কাওসার হোসেন, তুহিন আহম্মেদসহ অনেকেই বলেন, 'এই জমিতে এক সময় পৌরসভার হাট ছিল। সবাই জানেন এটা খাস সম্পত্তি। অথচ ২০ বছর যাবৎ এখানে বিভিন্ন টিনের দোকান দিয়ে ২০০-৫০০ টাকা ভাড়া আদায় করেন লিটন। প্রভাবশালী হওয়ায় কেউ প্রতিবাদ করার সাহস পায় না। এখন দেখছি স্থায়ীভাবে দখলের জন্য স্থাপনা নির্মাণ করছে। মানববন্ধন করে পৌর মেয়র ও কাউন্সিলরদের জানিয়েও নির্মাণকাজ বন্ধ হয়নি। মেয়র ও কাউন্সিলরদের মোটা অঙ্কের টাকা দিয়ে ম্যানেজ করা হয়েছে।' স্থানীয় বাসিন্দা ফজলে মাহমুদ চাঁদ ও গোলাম মোস্তফা বলেন, 'পাকিস্তান আমলে এই জমিসহ আশপাশের সব জমিতে পতিতালয় ছিল। পরে তাদের উচ্ছেদ করা হলে জমি সরকারের খাস খতিয়ান ভুক্ত হয়। তার মধ্যে এই জমিটি বর্তমানে নওগাঁ পৌরসভার খাস সম্পত্তির মধ্যে পড়েছে। যার মূল্য কমপক্ষে ২ কোটি টাকা। এতো মূল্যবান সম্পদ রক্ষায় পৌর কর্তৃপক্ষ এগিয়ে আসছে না।' দখলকারী লিটন ঘোষ ও তার স্ত্রী প্রশান্তি ঘোষ সম্পত্তিটি নিজেদের বলে দাবি করেন। তারা বলেন, 'পাকিস্তান আমল থেকেই জমিটির ভোগদখল আমরা করে আসছি। কিছু দোকানপাট করে নিয়মিত সেখান থেকে ভাড়া উত্তোলন করি। পৌরসভাকে ম্যানেজ করেই এখন স্থাপনা নির্মাণকাজ শুরু করেছি। এখানে কতটুকু জমি ব্যক্তিমালিকানা এবং কতটুকু খাস সেটা পৌরসভা বুঝবে। তাঁরা এসে দেখেও গেছে।' নওগাঁ পৌরসভার মেয়র নজমুল হক সনি বলেন, 'কে বা কারা কোন সম্পত্তি দখল করছে এটা দেখার মতো বাড়তি সময় আমার হাতে নেই। পৌরসভার বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজ নিয়ে সারাদিন ব্যস্ততার মধ্যে থাকতে হয়। এসব দেখভালের দায়িত্ব কাউন্সিলরদের দেওয়া হয়েছে। জমিটি আদৌ পৌরসভার কি না সেটিও আমার জানা নেই।' অবৈধ স্থাপনা নির্মাণকাজ বন্ধে এলাকাবাসী মানববন্ধন করলেও এখনো কোনো বন্ধ করা হচ্ছে না? এমন প্রশ্নের জবাব এড়িয়ে যান মেয়র। নওগাঁ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মির্জা ইমাম উদ্দিন বলেন, 'অবৈধ স্থাপনা নির্মাণের বিষয়টি জানার পর বৃহস্পতিবার বিকালে ভূমি অফিস থেকে নায়েবকে পাঠিয়ে নির্মাণকাজ বন্ধ রাখতে বলা হয়েছে। কাগজপত্র নিয়ে লিটন ঘোষকে রোববার ভূমি অফিসে আসতে বলা হয়েছে। এরপরও নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে নির্মাণকাজ চলমান রাখলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।'
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

উপরে